মালয়েশিয়ায় ‘গ্যাং শফিক’ চক্রে বিশেষ অভিযান, ১১ বাংলাদেশি আটক

আহমাদুল কবির
আহমাদুল কবির আহমাদুল কবির , মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৭:৪৭ এএম, ০৭ মে ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি মানবপাচার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। ‘গ্যাং শফিক’ নামে পরিচিত এই চক্রটির আস্তানায় বিশেষ অভিযানে ১১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

বুধবার (৬ মে) ইমিগ্রেশন বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পুত্রজায়ায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন বিভাগের সদর দপ্তরের এনফোর্সমেন্ট (প্রয়োগ) শাখার পরিচালিত এই অভিযানে অবৈধ প্রবাসীদের লুকিয়ে রাখা ও ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

jagonews24

একই দিনে বিকেল ২টার দিকে সেলাঙ্গরের পেটালিংজায়া এলাকার একটি দোকানঘরসংলগ্ন বাড়িতে পৃথক আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৯ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়, যাদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, আটক প্রবাসীরা প্রায় দুই দিন আগে একটি প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করে, সেখান থেকে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচার হয়ে আসে। একই অভিযানে আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ ও ট্রানজিট বাড়ির তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা পালন করছিল।

jagonews24

তদন্তে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সক্রিয় এই চক্রটি তৃতীয় দেশের রুট ব্যবহার করে বিদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করাত। তারা কেলান্তান সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে ঢুকিয়ে পরে লেম্বাহ ক্লাং এলাকায় নিয়ে আসত এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পাঠাত।

প্রতিটি প্রবাসীর কাছ থেকে ১২,০০০ থেকে ১৫,০০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হতো। এ পর্যন্ত সিন্ডিকেটটি প্রায় ১৬ লাখ রিঙ্গিত অবৈধভাবে আয় করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

jagonews24

২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী আটক ব্যক্তিদের পুত্রজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে-তে রাখা হয়েছে এবং মানবপাচার ও অভিবাসী পাচারবিরোধী আইন ২০০৭ (এটিপসোম) অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, ১৯৫৯/৬৩ সালের ইমিগ্রেশন আইন, পাসপোর্ট আইন ১৯৬৬, ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এবং এটিপসোম আইনের আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, যেন দেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে যা সরকারের ‘মাদানি’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এমআরএম

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা, ভ্রমণ, গল্প-আড্ডা, আনন্দ-বেদনা, অনুভূতি, স্বদেশের স্মৃতিচারণ, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক লেখা পাঠাতে পারেন। ছবিসহ লেখা পাঠানোর ঠিকানা - [email protected]