নবজাতকের জন্মে আনন্দ করা যাবে কি?

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০৮ পিএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য নবজাতকের আগমন অনেক আনন্দের। নবজাতকের আগমনে আনন্দ করা যাবে, মিষ্টান্নও বিতরণ করা যাবে।

সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর অভিভাবক ও আত্মীয়-স্বজনের পক্ষ থেকে আনন্দ প্রকাশ করা এবং অন্যদের শুভ সংবাদ জানানো মোস্তাহাব। পিতা-মাতার সঙ্গে সঙ্গে পাড়া-প্রতিবেশির আনন্দ প্রকাশও মোস্তাহাব।

জন্মগ্রহণের সময় আনন্দ না করতে পারলে পরবর্তীতে নবজাতক ও তার পিতা-মাতার জন্য দোয়া করাও মোস্তাহাব।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মদিনায় হিজরতের পর মুহাজির সাহাবিদের মধ্যে প্রথম নবজাতক ছিলেন হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর জন্মের পর মুহাজির সাহাবিগণ আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন।

যেভাবে আনন্দ করবেন
শিশু জন্মগ্রহণ করার আনন্দ করার ধরণ কেমন হবে এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে কায়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন-

হজরত আবু বকর ইবনে মুনযির রহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আমি হজরত হাসান বসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে দেখেছি, তাঁর কাছে একজন লোক আগমন করে এবং ওই ব্যক্তির সঙ্গে আরেকজন লোক ছিল। লোকটির সঙ্গে তার এক নবজাতক শিশুও ছিল। ওই ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল যে, শিশু জন্মগ্রহণের পর আমরা কিভাবে আনন্দ প্রকাশ করব?

হজরত হাসান বসরি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বললেন, ‘তুমি এভাবে বল- আল্লাহ তাআলা তোমাকে যে সন্তান দান করেছেন তার হায়াতে বরকত দান করুন এবং সন্তানদাতা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।’ (তুহ্ফাতুল মাওদুদ ফি আহ্কামিল মাওলুদ)

আরও পড়ুন > আপনি কি লোক দেখানো ইবাদতকারী? বুঝবেন কিভাবে?

মনে রাখা জরুরি
নবজাতক ছেলে হোক কিংবা মেয়ে হোক; উভয়ের জন্য আনন্দ করা মোস্তাহাব। অনেক সময় দেখা যায়, ছেলে সন্তান হলে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন মহাখুশি। আর কন্যা সন্তান জন্মালে অনেক পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের মুখে হাসি থাকে না। এমনকি অনেক স্থানে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এমনটি যেন কোনোভাবে না হয়, সেদিকে খেলায় রাখতে হবে।

কেননা সৃষ্টির মাঝে নবজাতক সন্তান ছেলে হোক আর কন্যা হোক উভয়টিই মহান আল্লাহ তাআলার সেরা দান।

নবজাকত জন্মের পর আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশির বাসায় মিষ্টান্ন দ্রব্যাদি পাঠানো জায়েজ। এ মিষ্টান্ন আদান-প্রদানের মাধ্যমে পরস্পরের মধ্যে সৌার্হ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।

নবজাতকের জন্ম উপলক্ষ্যে মিষ্টান্ন বিতরণ যেন রুসুম-রেওয়াজে পরিণত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি তা রুসুম রেওয়াজে পরিণত হয় তবে তা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নবজাতক জন্মের পর শিশু ও তার পিতামাতার জন্য দোয়া করার তাওফিক দান করুন। সাধ্যমত মিষ্টান্ন বিতরণ ও আনন্দ প্রকাশ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]