বিশ্বনবির শ্রেষ্ঠ মুজিজা কুরআন সম্পর্কে যা পড়া হবে আজ

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ২৩ মে ২০১৯

দেশের বিভিন্ন মসজিদে কুরআনুল কারিমের ২১তম পারা পড়া হবে আজ। সুরা আনকাবুতের কিছু আয়াতসহ এ পারায় রয়েছে সুরা রূম, সুরা লোকমান, সুরা সাজদা এবং সুরা আহযাবের প্রথম ৩০ আয়াত।

১৮তম তারাবিহতে সুরা আনকাবুতে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ মুজিজার বর্ণনা দিয়েছেন। যা আজকের তারাবিহ নামাজে পড়া হবে। আর তাহলো-

আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের প্রমাণ ও সত্যতাকে সুস্পষ্ট করার জন্য যে সব মুজিজা প্রকাশ করেছেন; সে সবের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মুজিজা এ সুরায় তুলে ধরেছেন। আর তাহলো প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরক্ষর হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘আপনি তো এর আগে কোনো কিতাব পাঠ করেননি এবং স্বীয় হাত দ্বারা কোনো কিতাব লেখেননি; তাহলে মিথ্যাবাদীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত।’ (সুরা আনকাবুত : আয়াত ৪৮)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো লেখা দেখে দেখে পড়তে পারতেন না। কোনো লেখা লিখতেও সক্ষম ছিলেন। আর এ নিরক্ষর অবস্থায়ই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর জীবনের প্রথম ৪০টি বছর পণ্ডিত মক্কাবাসীর সামনে অতিবাহিত করেন।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো আসমানি কিতাবের অনুসারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেননি। তাদের কাছ থেকে আসমানি কিতাবের কোনো বর্ণনাও শোনেননি। আর তৎকালিন সময়ে মক্কায় কোনো আসমানি কিতাবের অনুসারী পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গও ছিল না।

অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪০ বছরে উপনীত হওয়ার পর তাঁর মুখ থেকে এমন শব্দমালা উচ্চারিত হতে লাগলো, যা বিষয়বস্তু ও অর্থের দিক থেকে যেমন ছিল মুজিজাস্বরূপ এবং ভাষাগত শাব্দিক বিশুদ্ধতা ও ভাষার সৌন্দর্য ছিল অতুলনীয়।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিরক্ষরতাই ছিল তৎকালীন সময়ের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা। যা মক্কার পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গের জন্য ছিল এক মহা চিন্তা ও শিক্ষার বিষয়। আর এটা ছিল তাওহিদ, রেসালাত ও আখেরাতের সত্যতার ওপর বিশ্বাস স্থাপনের এক মহা প্রমাণ।

সুরা আনকাবুত
মক্কায় অবতীর্ণ সুরা আনকাবুত মুশরিকদের প্রতিছিল এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মাকড়শার দৃষ্টান্ত দিয়ে শিরকের বাতুলতা প্রকাশ করেছেন।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> মানুষের সংশোধনের চূড়ান্ত ব্যবস্থাপত্র ‘কুরআন তিলাওয়াত ও নামাজ’ প্রসঙ্গ।
>> বিশ্বনবির শ্রেষ্ঠ ও বড় মুজিযা সম্পর্কিত আলোচনা।
>> হিজরত ফরজ, ওয়াজিব হওয়া সংক্রান্ত বিধিবিধান আলোচনা।
>> ইলম অনুযায়ী আমল করার উপকারিতার আলোচনা।

সুরা রূম
মক্কায় অবতীর্ণ ৬০ আয়াত বিশিষ্ট সুরায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত কেন্দ্রিক আলোচনা ওঠে এসেছে। যাতে নবুয়তের সত্যতার দলিল প্রমাণ উপস্থাপিত হয়েছে।

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোমানদের বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং এ সম্পর্কে কুরআনের আয়াতও নাজিল হয়েছিল। অবশেষে এ ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে এ সুরায়।

এ সুরায় দুনিয়ার জীবনের ব্যাপ্তি নিতান্ত ক্ষণস্থায়ী উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘তিনি যাকে ইচ্ছা বিজয় দান করেন আবার সেই বিজয়ীকে পরাজিতও করেন।’ এতেই প্রমাণিত হয় যে, কারো বিজয় তার সত্যতার প্রমাণ নয়।

দুনিয়ার জীবনের সম্মান-মর্যাদা, অপমান সবাই আল্লাহর কর্তৃত্বাধীন। এরপরও অবিশ্বাসী সম্প্রদায় মুসলমানদের সাময়িক সময়ের দারিদ্র্যতার জন্য হেয় প্রতিপন্ন করে। যা সবিস্তার আলোচিত হয়েছে সুরা রূমে।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> পরকাল বিমুখ হয়ে জ্ঞানী হওয়া বুদ্ধিমত্তার পরিচয় নয়।
>> বৈবাহিক জীবনে শান্তির জন্য পারস্পারিক সম্প্রীতি জরুরি।
>> ফিতরাত সম্পর্কিত আলোচনা।
>> বাতিলপন্থীদের ভ্রান্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা প্রসঙ্গ।
>> পরকালের (হাশরে) আল্লাহর সামনে মিথ্যা বলা প্রসঙ্গ।

সুরা লোকমান
অনেক জ্ঞানের অধিকারী লোকমান হাকিমের বিস্তারিত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে সুরা লোকমানে। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য অনেক বিধান নির্ধারণ করেছেন। তাছাড়া একজন পিতা তার সন্তানকে যে উপদেশ দেয়া উচিত; তাও বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে এ সুরায়।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> আল্লাহর নাফরমানি থেকে বিরত থাকা জরুরি। নাফরমানির শাস্তি শুধুমাত্র আখিরাতে নয়, দুনিয়াতেও হয়।
>> হজরত লোকমানকে প্রদত্ত হিকমতের বর্ণনা।
>> হজরত লোকমান কর্তৃক উপদেশ এবং ইসলামের অন্যান্য নীতি সম্পর্কিত আলোচনা।

সুরা আস-সাজদাহ
৩০ আয়াত বিশিষ্ট এ সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে। পবিত্র কুরআনের সত্যতার বিবরণ স্থান লাভ করেছে এ সুরায়। তাছাড়া আল্লাহর একত্ববাদ, পরকাল ও পরকালীন জীবন সম্পর্কিত আলোচনাও স্থান পেয়েছে। তারপর নেককার ও বদকারদের জীবন-ধারা এবং তাদের পরিণতি আলোচিত হয়েছে সুরা সাজদায়।

সুরা লোকমানে আসমান-জমিন সৃষ্টির বর্ণনা করা হয়েছে। আর এ সুরায় বিশ্বসৃষ্টির ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> কিয়ামাত দিবসের দৈর্ঘ্য সম্পর্কিত আলোচনা।
>> মালাকুল মাউত সম্পর্কিত আলোচনা।
>> মুমিনের গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা।
>> কোনো জাতির নেতা হওয়ার শর্ত।
>> ভূমিতে পানি প্রবাহ সম্পর্কিত আলোচনা।

সুরা আহযাব
সুরা আহযাব মদিনায় অবতীর্ণ। আহযাব মানে দল, যেহেতু কাফেররা পঞ্চম হিজরিতে যুক্তফ্রন্ট করে ঐক্যবদ্ধভাবে মুসলমানদের হৃদয়ে স্পন্দন মদিনার ইসলামি রাষ্ট্রকে সমূলে বিনষ্ট করার মানসে আক্রমণ করেছিল। এ সুরায় সেই যুদ্ধের আলোচনাই বর্ণনা করা হয়েছে।

এ সুরার প্রথমাংশে আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবিকে কয়েকটি উপদেশ দিয়েছিলেন। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিজয় লাভের পূর্বশর্ত ছিল।

এ সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো হলো-
>> তাকওয়া ও পরহেজগারীর গুণ অর্জন করা।
>> সবর বা ধৈর্য অবলম্বন করা।
>> আল্লাহ তাআলার প্রতি পরিপূর্ণ ভরসা রাখা।
>> আল্লাহ ব্যতিত অন্য কাউকে ভয় না করা।
>> অন্য কোনো দিকে দৃষ্টিপাত না করে শুধুমাত্র আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা।
>> শুধুমাত্র আল্লাহর তাআলার প্রত্যাদেশ অনুসারে জীবন পরিচালনা করা। কাফের মুনাফিকদের কথা না মানা। কেননা কাফের মুনাফিকদের কথা মেনে চলায় ভয়ংকর বিপদের কারণ হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। তাওহিদ রেসালাত ও আখেরাতের প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনে মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমকেএইচ

আপনার মতামত লিখুন :