রাসুলের (সা.) হাদিসে উপমার ব্যবহার

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৫৯ পিএম, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
রাসুলের (সা.) হাদিসে উপমার ব্যবহার ছবি: আনপ্ল্যাশ

মওলবি আশরাফ

ইসলামের বিভিন্ন বিষয়কে মানুষের সামনে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য রাসুল (সা.) বিভিন্ন ধরনের উপমার ব্যবহার করতেন। এখানে এ রকম উপমা সম্বলিত ১০টি হাদিস উল্লেখ করলাম।

ওপরের হাত

রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ওপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। (সহিহ বুখারি: ১৪২৭)

এই হাদিসে ওপরের হাত বলে দানকারী, আর নীচের হাত বলে দানগ্রহীতা বোঝানো হয়েছে। 

এক শরীর

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তুমি মুমিনদের পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে এক শরীরের মতো দেখবে। শরীরের কোনো একটি অঙ্গ যখন অসুস্থ বা যন্ত্রণার শিকার হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা এবং জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তার (ব্যথার) অংশীদার হয়। (সহিহ বুখারি: ৬০১১, সহিহ মুসলিম: ২৫৮৬)

চোখ ও কান

একদিন রাসুল (সা.) হজরত আবু বকর ও হজরত ওমরের (রা.) ব্যাপারে বললেন—তারা দুজন হলো আমার চোখ ও কানের মতো। (সুনানে তিরমিজি: ৩৬৭১) 

আয়না

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের প্রত্যেকেই তার ভাইয়ের জন্য আয়না স্বরূপ। সুতরাং সে যদি তার ভাইয়ের মধ্যে কোনো কষ্টদায়ক কিছু দেখে, তবে সে যেন তা দূর করে দেয়। (সুনানে তিরমিজি: ১৯২৯)

জাহাজ

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমার ওপর অটল থাকা ব্যক্তি এবং যে সীমালঙ্ঘন করে—তাদের উদাহরণ হলো একদল যাত্রীর মতো, যারা লটারি করে একটি জাহাজে নিজেদের আসন গ্রহণ করল। লটারিতে কেউ পেল জাহাজের ওপরতলা, আর কেউ পেল নিচতলা।

নিচতলার লোকেরা যখন পানির প্রয়োজন বোধ করত, তখন তাদের ওপরতলার লোকদের ডিঙিয়ে যেতে হতো (এতে ওপরতলার লোকদের কষ্ট হতো)। তখন নিচতলার লোকেরা ভাবল, আমরা যদি আমাদের অংশে (জাহাজের তলায়) একটি ছিদ্র করে নিই, তবে আর ওপরতলার লোকদের কষ্ট দিতে হবে না।

এই অবস্থায় ওপরতলার লোকেরা যদি নিচতলার লোকদের তাদের ইচ্ছামতো কাজ করতে ছেড়ে দেয় (বাধা না দেয়), তবে (জাহাজে পানি ঢুকে) তারা সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তারা তাদের হাত ধরে (বাধা দেয়), তবে তারা নিজেরাও বাঁচবে এবং সকলেই রক্ষা পাবে। (সহিহ বুখারি: ২৪৯৩)

বর্ম

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, কৃপণ ও দানশীল ব্যক্তির উদাহরণ হলো এমন দুই ব্যক্তির মতো, যাদের শরীরে বুক থেকে কাঁধ পর্যন্ত দুটি লোহার বর্ম রয়েছে।

দানশীল ব্যক্তি যখনই কিছু দান করে, তখনই তার বর্মটি প্রশস্ত হয়ে যায়; এমনকি তা তার আঙুলের মাথা পর্যন্ত ঢেকে ফেলে এবং (পায়ের পাতা পর্যন্ত ঝুলন্ত বর্ম) তার পায়ের চিহ্ন মুছে দেয়।

অন্যদিকে, কৃপণ ব্যক্তি যখনই কিছু দান করতে চায়, তখনই বর্মের প্রতিটি আংটা নিজ নিজ জায়গায় শক্তভাবে সেঁটে যায়। সে তা প্রশস্ত করার চেষ্টা করে কিন্তু তা আর প্রশস্ত হয় না। (সহিহ বুখারি: ১৪৪৩)

আতরবিক্রেতা ও কামার

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গী হলো আতর বিক্রেতা ও কামারের মতো। আতর বিক্রেতা থেকে আপনি হয়তো আতর কিনবেন অথবা গায়ে সামান্য মাখবেন, কিছু না হোক অন্তত আতরের সুঘ্রাণ আপনি পাবেনই। আর কামারের কাছে বসলে আপনার কাপড় পুড়বে, গরম লাগবে, অন্তত লোহার দূর্গন্ধ থেকে আপনি কিছুতেই বাঁচতে পারবেন না। (সহিহ মুসলিম: ২৬২৮)

চিরুনি

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, সমস্ত মানুষ চিরুনির দাঁতের মতো সমান। (আরবাউন, শাহ ওলিউল্লাহ দেহলবি: ১৬)

জেলখানা

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফেরের জন্য জান্নাত। (সহিহ মুসলিম: ২৯৫৬)

পুঁতির মালা

(কেয়ামতের) নিদর্শনগুলো হলো একটি সুতোয় গেঁথে রাখা পুঁতির মালার মতো। যদি মালার সুতোটি ছিঁড়ে যায়, তবে দানাগুলো যেমন একটির পর একটি দ্রুত ঝরে পড়ে, (নিদর্শনগুলোও ঠিক তেমনই দ্রুত একটার পর একটা আসতে থাকবে)। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৮৬৮৩)

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।