ওহুদের যুদ্ধে নারী সাহাবিদের ভূমিকা
নবীজির (সা.) যুগে পুরুষ সাহাবিদের মত নারী সাহাবিরাও নবীজির (সা.) সঙ্গে যুদ্ধে যেতেন। তারা আহতদের চিকিৎসা করতেন, অসুস্থদের সেবা করতেন, সৈনিকদের পানি পান করাতেন এবং প্রয়োজনে সরাসরি যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করতেন।
হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন যুদ্ধে যেতেন তখন উম্মে সুলাইম (রা.) ও আনসার নারীদের সঙ্গে নিয়ে যেতেন; তারা পানি পান করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। (সহিহ মুসলিম: ১৮১০)
নবীজির (সা.) সাহাবি হজরত উম্মে আতিয়্যা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আমি তাদের সরঞ্জামাদি দেখাশোনা করতাম, খাবার প্রস্তুত করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম এবং অসুস্থদের সেবা করতাম। (সহিহ মুসলিম: ১৮১২)
ওহুদের যুদ্ধেও নবীজির (সা.) সঙ্গে নারী সাহাবিরা ছিলেন। তাদের অন্যতম নুসইবা বিনতে কা’ব (রা.), উম্মে সুলাইম (রা.), উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.)।
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ওহুদের যুদ্ধে যখন সাহাবিরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন, আমি দেখলাম, আয়েশা বিনতে আবু বকর ও উম্মে সুলাইম (রা.) তাদের আঁচল এতটুকু উঠিয়ে নিয়েছেন যে, আমি তাদের উভয় পায়ের গহনা দেখছিলাম। তারা উভয়েই মশক পিঠে বয়ে সাহাবিদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। আবার ফিরে গিয়ে মশক ভর্তি করে এনে সাহাবিদের মুখে পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন। (সহিহ বুখারি: ২৮৮০)
ওহুদে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নবীজির (সা.) আরেকজন নারী সাহাবি নুসাইবা বিনতে কা’ব (রা.)। তিনি তার স্বামী ও দুই ছেলেসহ ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তারা সেই অল্পসংখ্যক সাহাবির অন্যতম, যারা মুশরিকদের অতর্কিত আক্রমণ ও সাহাবায়ে কেরামের ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার সময়ও নবীজির (সা.) পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করেন এবং বীরত্বের সঙ্গে তাকে রক্ষা করেন।
নবীজি (সা.) নুসাইবা (রা.), তার স্বামী ও ছেলের জন্য দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন, হে এক পরিবারের সদস্যরা!
নুসাইবা (রা.) নবীজিকে (সা.) বললেন, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমরা জান্নাতে আপনার সঙ্গী হতে পারি।
নবীজি (সা.) আবার দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, তাদেরকে জান্নাতে আমার সঙ্গী করুন!
নুসাইবা (রা.) বললেন, এরপর দুনিয়ায় আমার ওপর যা-ই আসুক, তাতে আমার আর কোনো আক্ষেপ নেই। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা)
ওএফএফ