ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি

সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি ও আল্লাহর অমোঘ নীতি

ইসলাম ডেস্ক
ইসলাম ডেস্ক ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৩ পিএম, ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি ছবি: সংগৃহীত

ড. আলী মুহাম্মাদ সাল্লাবি বিশ্বখ্যাত আলেম, ইতিহাসবিদ ও লেখক। তিনি ১৯৬৩ সালে লিবিয়ার বেনগাযি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুল আদ-দ্বীন বিভাগ এবং দাওয়া বিভাগ থেকে ব্যাচেলরস অব আর্টসে ডিগ্রি লাভ করেন। পরে ১৯৯৬ সালে উসুল আদ-দ্বীন বিভাগ থেকে তাফসীর, উলুমুল কোরআন বিষয়ে মাস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৯ সালে উম্মে দুরমান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সুদান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তারপর তিনি যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ড. ইউসুফ আল-কারযাভীর (রহ.) অধীনেও পড়াশোনা করেন।

আরবি ভাষায় তার রচিত সিরাত ও ইসলামের ইতিহাস বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ বাংলা, ইংরেজিসহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়ে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি নিয়ে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে বুধবার (৮ এপ্রিল) লিখেছেন ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবী। তার আরবি ফেসবুক পোস্টটির বাংলা অনুবাদ জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

ড. আলী মুহাম্মদ সাল্লাবি লিখেছেন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের কোনো লাভ বা ক্ষতি, মৃত্যু বা জীবন কিংবা পুনরুত্থানের মালিক নন। দেশ ও সভ্যতাগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার যে সক্ষমতা তিনি দাবি করেন, তা অহংকার, স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা, ঔদ্ধত্য ও দম্ভের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি মানবাধিকার রক্ষা ও জাতিগুলোর মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মার্কিন জনগণের মূল্যবোধকে সম্মান করেননি; তিনি তাঁর দেশের সংবিধান, মানবিক মূল্যবোধ কিংবা আসমানি ধর্মসমূহ যে আদর্শ ও তাৎপর্য নিয়ে এসেছে—তার কোনোটিরই মর্যাদা রক্ষা করেননি। বরং তিনি এমন এক আধিপত্যবাদী সুরে কথা বলেন, যা জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা, অস্তিত্ব এবং সহাবস্থানের অধিকারকে কোনো গুরুত্বই দেয় না।

ইরানি সভ্যতা এবং সেই সঙ্গে প্রাচ্যের সভ্যতাগুলো অত্যন্ত প্রাচীন ও সমৃদ্ধ, যার শেকড় ইতিহাসের অতল গভীরে প্রোথিত। এগুলো কোনো শাসকের খামখেয়ালিতে গড়ে ওঠেনি এবং কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকিতে বিলীনও হয়ে যাবে না। বরং এগুলোর টিকে থাকা বা ধ্বংস হওয়া জাতি ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত অমোঘ নীতির (সুন্নাতুল্লাহ) অধীন। জীবন ও মৃত্যু দান করার, কাউকে উচ্চে আসীন করা কিংবা অবনমিত করার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা কেবল মহান আল্লাহর হাতে; তাঁর হাতে নয় যে নিজের শক্তিতে মত্ত, কিংবা যাকে রাজনীতি ও ক্ষমতার দাপট এবং অন্য জাতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের মোহ প্রতারিত করেছে।

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এবং ইরানি জনগণের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক। ইরানি জনগণ ইসলামি উম্মাহর একটি অংশ এবং মানব সভ্যতার নবজাগরণে তাদের মহান ভূমিকা রয়েছে। অবশ্য এর কোনো কিছুই তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি আমার তীব্র বিরোধিতাকে নাকচ করে দেয় না; সেই শাসনব্যবস্থা যা সীমা লঙ্ঘন করেছে ও বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে, ইরাক ও আফগানিস্তান দখলে অংশ নিয়েছে এবং ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনসহ অন্যান্য স্থানে নিরপরাধ মানুষ হত্যায় সহযোগিতা করেছে। সেই সঙ্গে আরব উপসাগরীয় দেশসমূহ ও জনগণের ওপর এই শাসনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমার নিন্দাও অত্যন্ত স্পষ্ট।

ইতিহাস আমাদের বারবার পাঠ দিয়েছে যে, ভ্রষ্ট, জালিম, অপরাধী ও অহংকারী ব্যক্তিদের জাতি, সরকার ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বে আসা সভ্যতাগুলোর অস্থিরতা এবং তাদের পতনের সূচনারই অন্যতম লক্ষণ। কারণ স্বৈরাচার কোনো ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে না, দম্ভ কোনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না এবং জুলুম জাতিগুলোর মধ্যে শান্তি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য বর্তমান সময়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থ থেকে যোজন যোজন দূরে; কারণ এটি এমন এক বক্তব্য যা আধিপত্যবাদের চেতনাকে উসকে দেয়, উত্তেজনার কারণগুলোকে আরও গভীর করে এবং একটি বিশাল নৈতিক ও রাজনৈতিক বিচ্যুতিকে উন্মোচিত করে।

আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান। তিনি এমন এক ন্যায়বিচারক যার জ্ঞান থেকে কোনো কিছুই গোপন থাকে না এবং তাঁর কর্তৃত্বের বাইরে কেউ যেতে পারে না। আমরা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির উসিলায় তাঁর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই অঞ্চলে এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা দান করেন।

ওএফএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।