প্রবাসীর কোরবানি তার ঈদের নামাজের পর হওয়া জরুরি?
প্রশ্ন: আমি সৌদি আরব প্রবাসী। আমার পরিবার বাংলাদেশে থাকে। আমার কোরবানিও বাংলাদেশে হয়। প্রশ্ন হলো, আমার কোরবানি কি সৌদি আরবে আমার ঈদের নামাজ পড়ার পর হতে হবে নাকি বাংলাদেশে ঈদের নামাজের পরই করা যাবে?
উত্তর: প্রবাসী কোরবানিদাতার কোরবানি যদি দেশে হয় তাহলে তিনি যে দেশে অবস্থান করছেন ওই দেশের ঈদের দিন বা ১০ জিলহজের সূর্যোদয়ের পর হওয়া জরুরি। কারণ জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ভোর হলেই কোরবানি ওয়াজিব হয়। তার দেশে ঈদের দিনের সূর্যোদয়ের আগে কোরবানি করে ফেললে তার ওয়াজিব কোরবানি আদায় হবে না।
তবে কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য প্রবাসীর ঈদের নামাজ পড়া জরুরি নয়। পশু যে এলাকায় আছে ওই এলাকায় ঈদের জামাত হয়ে গেলে এবং তার দেশে ঈদের দিনের সূর্যোদয় হলে পশু কোরবানি করা যাবে।
কোরবানি শব্দটি ‘কুরবুন’ মূল ধাতু থেকে নির্গত। অর্থ হলো নৈকট্য লাভ করা, প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট জন্তুকে একমাত্র আল্লাহ পাকের নৈকট্য ও সন্তুষ্টি পাওয়ার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত নিয়মে মহান আল্লাহ পাকের নামে জবাই করাই হলো কোরবানি।
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। কোরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের সাথে যুক্ত করে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় আমি তোমাকে কাওসার দান করেছি। সুতরাং তোমার রবের উদ্দেশে সালাত আদায় করো ও কোরবানি করো। নিশ্চয় তোমার প্রতি শত্রুতা পোষণকারীই নির্বংশ। (সুরা কাওসার: ১-৩)
অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, কোরবানির উটকে আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন বানিয়েছি; তোমাদের জন্য তাতে রয়েছে কল্যাণ। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় সেগুলির উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর যখন সেগুলি কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে খাও। যে অভাবী, মানুষের কাছে হাত পাতে না এবং যে অভাবী চেয়ে বেড়ায়-তাদেরকে খেতে দাও। এভাবেই আমি ওগুলিকে তোমাদের অনুগত করে দিয়েছি; যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত ও রক্ত; বরং তার কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি সে সবকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, যাতে তোমরা আল্লাহর তাকবির পাঠ করতে পার, এজন্য যে, তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন; সুতরাং তুমি সৎকর্মশীলদের সুসংবাদ দাও। (সুরা হজ: ৩৬, ৩৭)
যারা জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে নিজেদের নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা এর সমমূল্যের মালিক হয়, হানাফি মাজহাব অনুযায়ী তাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব।
ওএফএফ