সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের (রা.) দৃঢ় ইমান

ফারুক ফেরদৌস
ফারুক ফেরদৌস ফারুক ফেরদৌস , সহ-সম্পাদক, জাগো নিউজ
প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রথম সারির একজন সাহাবি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমরের (রা.) শাসনামলে তিনি মুসলমানদের পারস্য বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। বিভিন্ন শহরের শাসনকর্তা হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। 

ইসলামের আবির্ভাবের পর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। বলা হয় সাদ (রা.) ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে ১৭তম ব্যক্তি। ইসলাম গ্রহণের সময় তিনি তরুণ বয়সী ছিলেন। তার মা প্রথম দিকে তার ইসলাম গ্রহণ মেনে নিতে পারেননি। তিনি তাকে বলেন, তুমি কেন বাপ দাদার ধর্ম ছেড়ে এ নতুন ধর্ম গ্রহণ করলে! তুমি এটা না ছাড়লে আমি খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দেবো। আমি না খেয়ে মারা গেলে মানুষ বলবে তুমি তোমার মায়ের খুনি! 

সাদ (রা.) ছিলেন মায়ের অত্যন্ত মা-ভক্ত ছেলে, মায়ের প্রতি সদাচারী ও যত্নবান। তাই মা ভেবেছিলেন এভাবে চাপ দিলে ছেলে হয়তো মায়ের দিকে তাকিয়ে ইসলাম ছেড়ে দেবে। 

সাদ (রা.) বলেন, মা! আপনি এমন করবেন না। আমি আমার ধর্ম কিছুতেই ছাড়ব না।  

সাদের (রা.) মা তবুও না খেয়ে থাকা শুরু করেন। তিন দিন না খেয়ে থেকে দুর্বল হয়ে এক পর্যায়ে বেহুশ হয়ে পড়েন। সাদ (রা.) বলেন, মা, শুনুন, আল্লাহর কসম করে বলছি, আপনার যদি একশত প্রাণ থাকত আর সবগুলো একের পর এক বের হয়ে যেত, তবুও আমি ইসলাম ত্যাগ করতাম না। আপনি চাইলে খেতে পারেন, নাও খেতে পারেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা: ১/১০৯)

সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, সাদের (রা.) মা ছেলেকে বলেছিলেন, ‍তুমি তো বল আল্লাহ তোমাদের বাবা-মায়ের প্রতি সদাচার করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি তোমার মা হয়ে তোমাকে ইসলাম ত্যাগ করতে বলছি! 

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোরআনের আয়াত নাজিল হয়, 

وَ وَصَّیۡنَا الۡاِنۡسَانَ بِوَالِدَیۡهِ حَمَلَتۡهُ اُمُّهٗ وَهۡنًا عَلٰی وَهۡنٍ وَّ فِصٰلُهٗ فِیۡ عَامَیۡنِ اَنِ اشۡکُرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیۡکَ اِلَیَّ الۡمَصِیۡرُ  وَ اِنۡ جَاهَدٰکَ عَلٰۤی اَنۡ تُشۡرِکَ بِیۡ مَا لَیۡسَ لَکَ بِهٖ عِلۡمٌ ۙ فَلَا تُطِعۡهُمَا وَ صَاحِبۡهُمَا فِی الدُّنۡیَا مَعۡرُوۡفًا ۫ وَّ اتَّبِعۡ سَبِیۡلَ مَنۡ اَنَابَ اِلَیَّ ۚ ثُمَّ اِلَیَّ مَرۡجِعُکُمۡ فَاُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ

আর আমি মানুষকে তার মা-বাবার সাথে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা কষ্টের পর কষ্ট ভোগ করে তাকে গর্ভে ধারণ করে। আর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুবছরে; সুতরাং আমার ও তোমার বাবা-মায়ের শুকরিয়া আদায় কর। প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই। আর যদি তারা তোমাকে আমার সাথে শিরক করতে জোর চেষ্টা করে, যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তখন তাদের আনুগত্য করবে না এবং দুনিয়ায় তাদের সাথে বসবাস করবে সদ্ভাবে। অনুসরণ কর তার পথ, যে আমার অভিমুখী হয়। তারপর আমার কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তখন আমি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, যা তোমরা করতে। (সুরা লোকমান: ১৪, ১৫) 

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের (রা.) অনড় মনোভাব দেখে তার মা শেষ পর্যন্ত অনশন ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে তিনিও ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। তার নাম হামনাহ বিনতে সুফিয়ান ইবনে উমাইয়া। 

ওএফএফ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।