বর্জ্য অপসারণ কুরবানিদাতার নৈতিক দায়িত্ব


প্রকাশিত: ০৪:৪৭ এএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬
প্রতীকী ছবি

আজ ১০ জিলহজ। কুরবানির দিন। সকাল থেকেই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে মুসলিম উম্মাহ নামাজ আদায় করেছেন। কুরবানির নামাজ সকাল সকালই আদায় করা হয়। কারণ এ দিন প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানি করা।

আজ বিশ্ব মুসলিম নামাজ আদায় করে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কুরবানিতে ব্যস্ত। কুরবানির পর আজর্বনা, রক্ত, মজ্জা, হাড় ও বিষ্ঠা ইত্যাদি পরিস্কার করা জরুরি।

কুরবানি পরবর্তী সময়ে দেশের শহর ও গ্রাম এলাকায় ঘরে বাইরে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। এর মূল কারণ হলো কুরবানির পশুর বর্জ অপসারণ ব্যবস্থা না থাকা। তাই কুরবানির পশুর রক্ত, মজ্জা, হাড় এবং বিষ্ঠা জমিয়ে না রেখে সঙ্গে সঙ্গে পরিস্কার করে ফেলা কুরবানি দাতার দায়িত্ব। কুরবানির বর্জ্যের উৎকট গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশ দুষণীয় হয়ে পড়ে। পাশাপাশি রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয় মানুষ।

কুরবানি যেমন আল্লাহর বিধান। তেমনি পরিবেশ পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন এবং পবিত্র রাখাও ইসলামের বিধান। এ কারণেই বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতাকে ঈমানের অঙ্গ বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ’। (মুসলিম)

কুরবানি দাতা যদি কুরবানির আবর্জনা পরিস্কার না করেন, এ আবর্জনার দুর্গন্ধে যদি পরিবেশ নষ্ট হয় এবং মানুষের চলাফেরা কষ্টকর হয় বা মানুষ অসুস্থ্য হয়; তবে তা হবে বিশ্বনবির সুন্নাত বিরোধী কাজ। যা গোনাহের শামিল। সুতরাং কুরবানি দাতা নিজ দায়িত্বে কুরবানির পশুর বর্জ্য পরিস্কার করবেন।

ইসলামি ভাবধারায় কুরবানির বর্জ্য অপসারণ না করা আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপনের শামিল। কেননা এতে মানুষের মনে কুরবানির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভক্তি কমে যেতে পারে। বিরুপ মনোভাব তৈরি হতে পারে। যা কোনোভাবেই মুসলিম উম্মাহর কাম্য নয়।

কুরবানি দেয়া হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর নৈকট্য লাভের জন্য। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসুল!) আপনি বলে দিন, আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সব কিছু বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ (সুরা আনআ’ম : আয়াত ১৬২)

পরিশেষে…
কুরবানি পরবর্তী প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রত্যেকেই নিজের কুরবানির পশু জবাইয়ের পর পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ নজর দেয়া। পরিবেশ ও মানুষের সুস্বাস্থ্যের স্বার্থে বর্জ্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানি দায়িত্ব মনে করে তা পরিস্কার করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সকল কুরবানি দাতাকে বর্জ্য অপসারণ করে সুন্দর পরিবেশ উপহার দেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/এমএস