গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম, থাকছে ৩১ বিভাগ
অবশেষে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে আলোচিত গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়। এরই মধ্যে বেসরকারি এ বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। শিক্ষক নিয়োগের পরপরই শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সম্প্রতি গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে বড় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী- পাঁচটি অনুষদের অধীন ৩১ বিভাগে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে, বিজ্ঞপ্তিতে তা উল্লেখ করা হয়নি। আবেদনের শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল।
শিক্ষক নিয়োগ হবে যেসব বিভাগে
স্কুল অব এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাকাল্টির অধীন বিভাগগুলো হলো- ম্যানেজমেন্ট, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ফিন্যান্স, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, অর্থনীতি।
স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীন বিভাগগুলো হলো- কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, এআই ও মেশিন লার্নিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
স্কুল অব সোশ্যাল বিজনেসের অধীনে চারটি বিভাগ। সেগুলো হলো- সোশ্যাল বিজনেস, মাইক্রোফিন্যান্স, ইনোভেশন, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ।
স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের অধীন বিভাগগুলো হলো- ইংরেজি, ইতিহাস, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান, এথনিক স্টাডিজ।
স্কুল অব সায়েন্সেস ফ্যাকাল্টির অধীন মোট ৯টি বিভাগ থাকবে। সেগুলো হলো- জীববিজ্ঞান, মলিকুলার বায়োলজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, পরিবেশবিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিক্যাল সায়েন্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২২ শর্তে গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ ট্রাস্ট এ ইউনিভার্সিটির জন্য আবেদন করে। এটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল হাসান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে গ্রামীণ ইউনিভার্সিটিকে দেওয়া শর্তের মধ্যে আছে সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে সাত বছর, প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির কমপক্ষে ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নিজস্ব বা ভাড়া করা ভবন থাকতে হবে।
ন্যূনতম তিনটি অনুষদ ও এসব অনুষদের অধীন কমপক্ষে ছয়টি বিভাগ থাকতে হবে। ইউনিভার্সিটির নামে সংরক্ষিত তহবিলে কমপক্ষে দেড় কোটি টাকা যে কোনো তফসিলি ব্যাংকে জমা থাকতে হবে। এ রকম ২২টি শর্ত তাদের মানতে হবে।
৭৬ বিঘা জমির ওপর হবে স্থায়ী ক্যাম্পাস
গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হবে দ্রুতই। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে কার্যক্রম শুরু হবে, তবে তা পর্যায়ক্রমে আরও বিস্তৃত হবে। স্থায়ী ক্যাম্পাস হবে পূর্বাচলের উলুখোলার এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পূর্বাচলে ৭৬ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে। শিগগির জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বেশ কয়েকটি বিভাগ খোলার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ইউজিসিতে আবেদন করা হবে। ইউজিসি যত বিষয় খোলার আবেদন মঞ্জুর করবে, তত বিষয় নিয়েই গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করবে।
সম্প্রতি গ্রামীণ ট্রাস্টি বোর্ডের এক সভায় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভাপতির বক্তব্যে ওই সভায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আমরা সেই দিনের প্রতীক্ষায় আছি, যখন গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি তার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তরে অবদান রাখবে।
এএএইচ/এমএএইচ/