৯ দশক ধরে দীপ্তমান কাগতিয়া কামিল মাদরাসা

মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন
মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন , আমিরাত প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৯ এএম, ১৪ মে ২০১৮
কাগতিয়া কামিল মাদরাসার প্রাক্তণ শিক্ষার্থীর পুনর্মিলনীতে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর ও কাগতিয়া মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর ড. মোরশেদুল ইসলাম।

প্রায় ৯ দশক ধরে কুরআন-সুন্নাহ জ্যোতি ছড়াচ্ছে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ. মাদরাসা। ১৯৩২ সালে এক যুগশ্রেষ্ঠ আলিমে দ্বীন, অলিয়ে কামিল আল্লামা শাহ সুফি ছৈয়্যদ মুহাম্মদ রুহুল আমিন (রাহঃ) এর হাত ধরে এ মাদরাসার সূচনা হয় এবং হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নূরানী হাতে এর পূর্ণতা লাভ করে।

এ মহা মনীষীর রূহানী ফয়েজে পরিচালিত এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, স্বাধীন বাংলার প্রতিনিধিত্ব করছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে এ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দেশ, জাতি ও মুসলিম মিল্লাতের খেদমত করে যাচ্ছে। মসজিদের মিনার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, মাকতাব থেকে সচিবালয়, দাখিল, আলিম, ফাযিল, কামিল মাদরাসার আঙিনা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ইসলামের খেদমত করছে। কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম এ মাদরাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ, কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের মহান মোর্শেদ আওলাদে রাসূল (দঃ) হযরতুলহাজ আল্লামা শায়খ ছৈয়্যদ মুহাম্মদ মুনির উল্লাহ আহমদী মাদ্দাজিল্লুহুল আলী এ কথা বলেন।

তিনি গতকাল ১২ মে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল এম. এ. মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মাদরাসার ‘আল-ফজল মুনিরী গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হু সম্মেলন কক্ষে’ প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী ২০১৮ এর প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

তিনি আরও বলেন, এ ৮৭ বছরের সবচেয়ে বড় ও অমূল্য পাওয়া হলো হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হু। যিনি এ মাদরাসার আঙিনা থেকে জাহিরি এবং বাতেনি বিদ্যার্জন শুরু করে মা’রেফাতের সর্বোচ্চ আসনে আসীন হয়েছেন এবং আধ্যাত্মিক জগতে বিশ্ব জয় করেছেন। যিনি একাধারে এ মাদরাসার ছাত্র, প্রভাষক, অধ্যক্ষ ও পৃষ্ঠপোষক এবং বানিয়ে লা-ছানী।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন সহ-সভাপতি, চবির মাইক্রো বায়োলজি বিভাগের সাবেক চেয়্যারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ আবুল মনছুর এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ওলামা পরিষদের সভাপতি হযরতুলহাজ আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম হানফী, সচিব হযরতুলহাজ। আল্লামা মুফতি কাজী মুহাম্মদ আনোয়ারুল আলম ছিদ্দিকী, কাগতিয়া মাদরাসার প্রাক্তণ শিক্ষার্থী চবি’র যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহযোগি অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোরশেদুল ইসলাম, মাস্টার মুহাম্মদ মোস্তফা নজরুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, এ কাগতিয়া কামিল মাদরাসাকে বিশ্ব দরবারে ঐতিহ্যময় করে তুলেছেন দুই মহান মনীষী। একজন হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আন্হু এবং অন্যজন মাননীয় মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী। এ দু’মনীষীর পদচারণায় এ প্রতিষ্ঠান আজ মাদরাসা জগতের মডেল। তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও রূহানী জ্যোতিতে দীপ্তমান এ মাদরাসা। অদূর ভবিষ্যতে এ মাদরাসা বিশ্বজয় করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে প্রথম অধিবেশন ছিলো- সকাল ১০টায় খতমে কোরআন আদায়, মাদরাসা প্রাঙ্গন থেকে র‌্যালি সহকারে বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মাদরাসার প্রধান পৃষ্ঠপোষক হযরত শায়খ ছৈয়্যদ গাউছুল আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর রওজা পাক জিয়ারত, বানিয়ে মাদরাসা আল্লামা রুহুল আমিন রহ. এর মাজার জিয়ারত, প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান।

১৯৩২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অধ্যয়নকারী শিক্ষার্থীদের যারা বর্তমানে দেশের উচ্চ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত আছেন তাদের আজীবন সম্মাননা এবং তৎপরবর্তীদেরকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ১৭ জন আজীবন সম্মাননাসহ প্রায় ৪০০ জনকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। জোহরের নামাজান্তে মধ্যাহ্ন ভোজের পর দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে প্রাক্তন শিক্ষার্থী পরিষদের উদ্যোগে প্রকাশিত বিশেষ স্মরণিকা ‘বাহার-এ উম্মিদ’ এর মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

এরপর শুরু হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ। এ সময় প্রাক্তণ শিক্ষার্থীরা তাদের মাদরাসায় অধ্যয়নকালীন বিভিন্ন স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। স্মৃতির পাতা মেলে পুরোনো কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আল্লামা মুহাম্মদ নুরুল আজিম হেলাল, আল্লামা খালেদ আনছারী, অধ্যক্ষ আল্লামা আহমদ উল্লাহ, আল্লামা আহমদ করিম, আল্লামা মুহাম্মদ মমতাজুল হক নূরী, আল্লামা মুহাম্মদ বদিউল আলম আহমদী, আল্লামা মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম, আল্লামা মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন, আল্লামা মুহাম্মদ আশেকুর রহমান, আল্লামা মুহাম্মদ সেকান্দর আলী, আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম আনছারী, আল্লামা মুহাম্মদ শাহ আলম প্রমুখ।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ্র ঐক্য, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি এবং কাগতিয়া দরবারের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজমের ফুয়ুজাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন।

এমআরএম