জুমার খুতবা
লাইলাতুল কদরের ফজিলত
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রমজান মাসে কোরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং আমাদের জন্য এই মাসে লাইলাতুল কদর রেখেছেন, যা অন্যান্য সব সময়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আমি তাঁর অধিক প্রশংসা করছি যা মিজানের পাল্লা পূর্ণ করে দেয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; প্রতিনিয়ত তিনি অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে রত। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যাকে দলিল ও প্রমাণসহ সমস্ত মানুষের নিকট পাঠানো হয়েছে। হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদের (সা.) ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিগণের ওপর এবং যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করে, তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
আম্মা বা’দ
লোকসকল! নিশ্চয়ই এই মাসে একটি রাত রয়েছে যাকে 'লাইলাতুল কদর' বলা হয়, আর তা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে রমজানের শেষ দশকে এই রাতটি অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) নিশ্চয়ই লাইলাতুল কদরের মর্যাদা অন্য সকল দিন ও রাতের চেয়ে বেশি। এই রাতে কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার সম্মানে আল্লাহ তাআলা মুমিন বান্দাদের ওপর বিশেষ নুর বর্ষণ করেন।
লাইলাতুল কদরের তিনটি বিশেষ ফজিলত রয়েছে; প্রথমটি হলো: এটি হাজার মাসের চেয়ে উত্তম, যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি এটি অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। (সুরা কদর) দ্বিতীয়টি হলো: হাদিসে যেমন এসেছে: কদরের রাতে জিবরাঈল (আ.) ফেরেশতাদের এক বিশাল দল নিয়ে অবতীর্ণ হন এবং দাঁড়িয়ে বা বসে থাকা প্রত্যেক সেই বান্দার জন্য রহমতের দোয়া করেন যারা মহান আল্লাহর জিকির করে। (শুআবুল ইমান) তৃতীয়টি হলো: নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে, তার পূর্বের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
তাই আমাদের উচিত এই ফজিলতগুলো অর্জনের জন্য রমজানের শেষ দশকের রাতগুলোতে ইবাদতে মশগুল থাকা।
রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নত। ইতেকাফের অনেক ফজিলত রয়েছে। নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতেকাফ করে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখা পরিমাণ দূরত্ব তৈরি করে দেন, যার প্রতিটি পরিখার দূরত্ব পূর্ব ও পশ্চিমের (আসমান ও জমিনের) দূরত্বের চেয়েও বেশি। নবী (সা.) আরও বলেছেন, ইতেকাফকারী গুনাহসমূহ থেকে বিরত থাকে এবং তার জন্য সমস্ত নেক কাজের সওয়াব জারি রাখা হয়, যেন সে নিজে সেই সমস্ত নেক কাজ করছে।
বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আমি এটি নাজিল করেছি কদরের রাতে। আপনি কি জানেন কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও জিবরাইল তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে। শান্তিময় সেই রাত ফজরের সূচনা পর্যন্ত। (সুরা কদর)
আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের জন্য কোরআনের বরকত দান করুন। কোরআনের আয়াতসমূহ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ জিকির দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব, দয়ালু ও পরম করুণাময়।
ওএফএফ