মাহে রমজানের শুভাগমন

ধর্ম ডেস্ক
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৬ পিএম, ১৭ মে ২০১৮

রহমত বরকত নাজাতের সুসংবাদ নিয়ে আজ সন্ধ্যা থেকেই মুসলিম উম্মাহর দুয়ারে কড়া নাড়বে দুনিয়ার যাবতীয় অন্যায়-অনাচার ও গোনাহ থেকে মুক্তির মহিমান্বিত মাস রমজান। যদিও এ মাসকে রহমত ক্ষমা ও মুক্তির আলাদা দশকে ভাগ করা হয়েছে। মূলত এ মাসের প্রতিটি দিনই আল্লাহ তাআলা বান্দাকে দান করেন রহমত, বরকত, মাগফেরাত এবং নাজাত। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে এমনটিই অনুমিত।

হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হবে, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে, বিতাড়িত শয়তানের সব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাবে মুসলিম উম্মাহ।

আবার রোজা পালনের মাধ্যমে যারাই রাতে বেলায় নামাজ আদায় করবে, আল্লাহ ওই সব বান্দার বিগত জীবনের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেবেন।

সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ লাভ করবে আত্মিক পরিশুদ্ধতা ও প্রশান্তি। নিজেদের নৈতিক উন্নতি সাধনেও রয়েছে রোজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

এ কারণেই প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে ঘোষণা করেছেন, ‘এ পবিত্র মাসে যারা রোজা রেখে মিথ্যা বলা, পরনিন্দা (গিবত) ত্যাগ ও অন্যান্য পাপাচার থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না; তাদের দিনভর উপবাসে আল্লাহ তাআলার কোনো প্রয়োজন নেই।’

আর যারা নীতি-নৈতিকা ও আত্মিক পরিশুদ্ধতার জন্য রোজা পালন করবে, তাদের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশক আম্বরের চেয়েও বেশি সুগন্ধি মনে হবে।’

কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যারা পবিত্র রমজানের সিয়াম সাধনায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবে, সময় মতো নামাজ, সাহরি, ইফতার ইত্যাদি কাজগুলো যথাযথ পালন করবে; মুসলিম উম্মাহর বছরের বাকী দিনগুলো সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবার ও সমাজ তৈরি সহজ হয়ে যাবে।

সুতরাং রমজান মাস ও রোজা মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে কুদসিতে এ ঘোষণাই দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য হয়ে থাকে; কিন্তু রোজা শুধু আমার জন্য (রাখা হয়) আর আমি তার (রোজার) প্রতিদান দেব। (সহিহ মুসলিম)

এ কারণেই মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর নৈকট্য লাভে ব্যক্তি, সমাজ, পাড়ায়, মহল্লায় সেমিনার সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ করে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে সবাইকে এ বার্তাই পৌছে দেয় যে, রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান সবার দরজায় সমাগত। স্বাগত হে মাহে রমজান।

পরিশেষে...
সমাজের প্রতিটি স্তরে পবিত্র রমজানকে বরণ করতে তথা রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও সুষ্ঠুভাবে কর্ম সম্পাদনে সচেতনা তৈরি করতে বিশ্ব মুসলিমের কাছে পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে ঈমানের একান্ত অপরিহার্য দাবি।

রমজানের প্রতিটি দিন ও ক্ষণ হোক গোনাহমুক্ত জীবন লাভে পাথেয়। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এ তাওফিক কামনায় রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজানকে জানাই শুভেচ্ছা ও সুস্বাগতম।

এমএমএস/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :