জান্নাতি লোকের বর্ণনায় বিশ্বনবি


প্রকাশিত: ০৭:৪০ এএম, ০৯ মে ২০১৬

ইসলামি শরিয়তের বিধানে কম-বেশি করার অধিকার কারো নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের শরিয়তের ক্ষেত্রে যে বর্ণনা বা বিধি-নিষেধ করেছেন, তাঁর থেকে কোনো কিছুই বাড়ানো এবং কমানো যাবে না। যারা এ বিধানের হুবহু পালন করবে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়াতেই বেহেশতের সুসংবাদ। বিশ্বনবির এমনই একটি হাদিস তুলে ধরা হলো-

Hadith-Inner

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এক বেদুঈন (গ্রাম্য লোক) আগমন করে বলল, (হে আল্লাহর নবি!) আমাকে এমন একটি কাজের দিকে পথ প্রদর্শন করুন, যা করলে আমি বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-

ক. আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না;
খ. ফরজ নামাজসমূহ যথাযথভাবে আদায় করবে;
গ. নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবে এবং
ঘ. রমজানের রোজা রাখবে।

অতপর বেদুঈন লোকটি বলল, সে সত্তার শপথ যার হাতে আমার জীবন! আমি এর বেশি কিছু করবো না এবং কমও করবো না।

এরপর লোকটি যখন প্রস্থান করলো, তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি কোনো জান্নাতি লোক দেখে খুশি হতে চায়; সে যেন এ লোকটিকে দেখে নেয়ে। (বুখারি ও মুসলিম)

এ হাদিসের আগন্তুক বেদুঈন লোকটি ছিলো কায়েস গোত্রের সরদার ইবনুল মুতলাফিক। আবার কেউ কেউ বলেন এ ব্যক্তিটি ছিলেন- লাকিত ইবনে সাবুরা। যিনি বনি মুতলাফিকের সরদার ছিলেন এবং সপ্তম হিজরিতে জান্নাত লাভের উপায় সম্পর্কে বিশ্বনবিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যক্তিকে জান্নাত লাভে ইসলামি শরিয়তের প্রধান পাঁচটি মূলনীতির মধ্য থেকে চারটি কথা বলেছিলেন। শুধুমাত্র হজের কথা উল্লেখ করেননি। কারণ লোকটি এসেছিল সপ্তম হিজরিতে মতান্তরে ৫ম হিজরিতে। আর হজ ফরজ হয়েছিল নবম হিজরিতে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামি শরিয়তের মূল বিধানগুলোতে বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি না করে যথাযথভাবে আদায় করে পরকালের বিশাল জিন্দেগিতে সফলতা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

এমএমএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।