অটিস্টিকদের নিয়ে তুষারের আবেগঘন স্ট্যাটাস


প্রকাশিত: ০৮:১১ এএম, ০৫ মার্চ ২০১৬

খেলা দেখতে গিয়ে অটিস্টিকরা স্টেডিয়ামে বিশেষ কোনো সুযোগ পায় না। আর সার্বিকভাবেও পথে-ঘাটে তাদের সুবিধা দেয়ার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান না। নিজের এমনই ক্ষোভের কথা প্রকাশ করলেন একজন বাবা। তিনি আর কেউ নন জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব আব্দুন-নূর-তুষার।

শনিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে (www.facebook.com/abdun.n.tushar?) তিনি নিজের ছেলেকে নিয়ে সেইসঙ্গে সকল প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল :

‘ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে আমি খুব কমই বাংলাদেশ দলকে হারতে দেখেছি। আমি মাঠে গেলে বাংলাদেশ সাধারণত জেতে। অধিকাংশ সময় আমি আমার ছেলেকে নিয়ে খেলা দেখতে যাই। আমার পুত্র ‘বিশেষ শিশু’। সে ক্রিকেটের ভীষণ ভক্ত। তার কল্পিত পৃথিবীতে সে সাকিব, মাশরাফি, ধোনি, শচিনকে তার বন্ধু মনে করে। নিজে নিজে খেলার কমেন্ট্রি দেয়।

নিজের পরিচয় দেয়...আই অ্যাম...ফ্রেন্ড অফ শাকিব, মাশরাফি, মুশফিক অ্যান্ড এম এস ধোনী।

আমি তাকে নিয়ে ফতৃল্লাতেও খেলা দেখতে গেছি। তার মন ভালো করার জন্য মাঝে মাঝে আমি তাকে যখন খেলা চলে না, তখন স্টেডিয়ামে বেড়াতে নিয়ে যাই।

কিন্তু এই স্টেডিয়াম বড় নির্দয় এক স্থাপত্যকর্ম। এখানে বিশেষ মানুষদের জন্য কোন আলাদা ব্যবস্থা নাই।

যাদের ক্রাচ বা হুইল চেয়ার লাগে, তাদের জন্য কোন এস্কেলেটর, লিফ্ট বা আলাদা গ্যালারি নাই। হুইলচেয়ার নিয়ে যাবার মতো আলাদা কোন বাথরুম নাই। হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠা নামার জন্য কোন স্লোপ বা র্যাম্পও নাই।

এই স্টেডিয়াম শারীরিক প্রতিবন্ধী অথবা অটিস্টিকদের জন্য খেলা দেখার সুযোগ দিতে চায় না।

ক্রিকেট খেলা দেখতে আমার ছেলে যেতে পারে, কারণ সে হাই ফাংশনিং। তাকে নিয়ে সেই ছোটবেলা থেকে আমি ও আমার পরিবারের সবাই সবখানে যাই।

বিদেশে গেলে সে বাসে চড়ে। নিজে নিজে শপিং মল বা স্টেডিয়ামের ওয়াশরুম ব্যবহার করে। ভেন্ডিং মেশিন থেকে কয়েন দিয়ে কোক পেপসি চিপস কিনে অানে। ফুটপাথ ধরে হেঁটে যায়। কিন্তু এই স্টেডিয়ামে তার কষ্ট হয়।

এই দেশে সবার আমার মতো সৌভাগ্য নাই। সবার গাড়ি নাই। আমার মত জনপরিচিতিও নাই। আমি তাই নানাভাবে চেষ্টা করে তাকে নিয়ে সময় পেলেই খেলা দেখতে যাই।

কিন্তু যাদের গাড়ি নাই, স্টেডিয়ামে বাসে করে যেতে হলে, বাসে শিশু ও শারীরিকভাবে চ্যালৈঞ্জড মানুষদের জন্য কোনো অগ্রাধিকার আসন নাই। সিএনজিতে ভাড়া এত বেশি যে তারা সেটা বহন করতে হিমশিম খান।

এই শহরে হুইলচেয়ার নিয়ে বাসে ওঠার কোন ব্যবস্থা নাই।

দেশ ডিজিটাল হয়।
মধ্য আয় হয়।
বিদ্যুত দিয়ে আলোকিত হয়।
ডলার পাউন্ড এর গল্প হয়।
ফ্লাইওভার দিয়ে শহর অন্ধকার হয়ে যায়।

আমি এক অক্ষম পিতা, আমার মতো অারো পিতাদের দুঃখ বুকে নিয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে ভাবি, এই শহর আমার পুত্রের জন্য না। এই রাস্তা আমার পুত্রের জন্য না। এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম, আমাদের বিশেষভাবে জন্ম প্রাপ্ত পুত্র কন্যাদের জন্য না।

এই অমানবিক নির্দয় নির্মম স্থাপত্যকর্মকে আমি অভিশাপ দেই।

যা কেবল ইট কাঠ আর লোহা দিয়ে তৈরি, যেখানে মানুষ এর প্রতি মমতা নাই।

(কিন্তু মানুষ বড় মমতাময়।
আমার ছেলে প্রতিটা আউট আর চার ছক্কায় অপরিচিত আংকেল আর আন্টিদের সাথে হাই ফাইভ করেছে, মেক্সিকান ওয়েভ দিয়েছে। তাকে একজনও অন্য চোখে দেখে নাই। তার আসনটি দখল করেছিল যে যুবক, সে তার দলবল নিয়ে আসন ছেড়ে গেছে।)’

এসএইচএস/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]