ডিমের পুষ্টিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:৩৪ পিএম, ১২ অক্টোবর ২০১৭
ডিমের পুষ্টিগুণ

ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ একটি খাবার। ছোট-বড় সবারই পছন্দ ডিম। সহজলভ্য পুষ্টির উৎস হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাস্তায় কিংবা দুপুর-রাতের খাবারে ডিমের একটি মেন্যু ঘুরেফিরে চলে আসে।

ডিমের যত গুণ
হৃদরোগের সম্ভাবনা কমায় : এলডিএল কোলেস্টেরলকে মন্দ কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি ডিম খেলে কমে যায়। তাই ডিম খাওয়ায় হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে না বরং কমে।

দেহের ভালো কোলেস্টেরল বাড়ায় : দেহে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল ক্ষতি করে- এমনটা অনেকেই জানেন। কিন্তু কোলেস্টেরলের রয়েছে ভালো ও মন্দ দিক। মূলত মন্দ কোলেস্টেরল দেহের ক্ষতি করে। আপনি যদি ভালো কোলেস্টেরল গ্রহণ করেন তাহলে তা দেহের ক্ষতি করবে না। ডিমে রয়েছে এ ভালো কোলেস্টেরল। এটি দেহের মন্দ কোলেস্টেরল দূর করতেও সহায়ক। এ কারণে নিয়মিত ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকরা।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় : ডিম দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। আপনি যদি দেহের জীবাণুগুলো দূর করতে চান, ভাইরাস ও বিভিন্ন রোগের জীবাণুকে শায়েস্তা করতে চান তাহলে নিয়মিত ডিম খান। একটি বড় ডিমে রয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ আরডিএ বা সেলেনিয়াম। এটি শিশুদের পুষ্টি চাহিদা মেটাতেও বিশেষভাবে কার্যকর, যা তাদের বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।

উদ্যম শক্তি জোগায় : একটি ডিমে রয়েছে দৈনিক চাহিদা পূরণের উপযোগী ১৫ শতাংশ ভিটামিন বি। এটি দৈনিক খেলে দেহের ভিটামিন বি’র চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন বি দেহে এনার্জি জোগায়। এ কারণে উদ্যমের প্রয়োজনে ডিম খাওয়ার তুলনা হয় না।

ত্বক ও চুলের উন্নতি : ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকায় ডিম সুস্থ চুল, ত্বক, চোখ ও লিভার গঠন করতে সহায়তা করে। এটি ছাড়াও ডিমে রয়েছে নানা ভিটামিন। এসব ভিটামিন দেহের নার্ভাস সিস্টেম উন্নত করে এবং মাংসপেশীর উন্নয়ন ঘটায়।

মস্তিষ্কের উন্নতি : ডিম মস্তিষ্কের প্রচুর উন্নতি ঘটায়। এতে রয়েছে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যার নাম কোলিন। গবেষণায় দেখা গেছে, কোলিনের অভাবে মস্তিষ্কের নানা সমস্যা দেখা দেয়। বহু মানুষই ডিম না খাওয়ায় প্রয়োজনীয় এ উপাদানটির অভাবে ভোগেন।

অ্যামাইনো এসিড : মানুষের দেহ ১১ ধরনের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড বানাতে পারে। এটি জীবনধারণের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষের দেহে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের প্রয়োজন হয়। দেহ এর মধ্যে ১১ ধরনের বানাতে পারলেও বাকি নয় ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সহজ উপায় হলো ডিম খাওয়া।

মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমায় : ডিম মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি মানুষের মনের ওপর প্রভাব ফেলে। ২০০৪ সালের এক গবেষণায় ডিমের এ অসাধারণ উপকার সম্পর্কে জানা যায়।

অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বিদ্যমান : ডিমে দুটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এগুলো হলো- লুটেইন ও জিয়াজাথিন। এগুলো চোখ বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিমের কুসুমে এ উপাদানগুলো পাওয়া যায়। তাই ডিমের কুসুমসহ ডিম খাওয়াই ভালো।

হাড় ও দাঁত মজবুত করা : ডিমের উপাদান আপনার হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সহায়তা করে। ডিম প্রাকৃতিক ভিটামিন ডি’র উৎস। এটি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে সহায়তা করে। আর এতেই সুস্থ হাড় ও দাঁত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

পূর্ণতার অনুভূতি : পেট ভরে খাওয়া হলেও আমাদের ক্ষুধা লাগতে পারে। আর এতে বাড়তি খাবার খেয়ে দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে। ডিমের উপাদানগুলো আপনাকে খাওয়ার পর পেটে পূর্ণতার অনুভূতি দেবে। এতে বাড়তি খাওয়ার ক্ষুধা কমে যায়।

দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ : ডিম খেলে দেহের ওজন কমে, একথা অনেকেই বিশ্বাস করতে চান না। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে, পরিমিত মাত্রায় ডিম খেলে দেহের ওজন কমান সম্ভব। মূলত ডিমে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকায় তা বাড়তি খাবার খাওয়ার চাহিদা কমিয়ে দেয়। এতে ক্ষুধা কমে যায় এবং দেহের ওজনও কমে যায়। সুতরাং ওজন কমাতে ডিমের অপরিসীম অবদান।

দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি : ডিমে অবস্থিত লুটিন ও জেক্সান্থিন এই দুটি ক্যারোটিনয়েড আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা উপাদানগুলো আমাদের চোখের ছানি, মেকুলার পতন ও সূর্যের বেগুনি রশ্মি থেকে আমাদের চোখ সুরক্ষা করে।

ক্যালরি বৃদ্ধি : ছোট্ট একটি ডিম হাজারও ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রত্যেক নারীর শরীরে রোজ কমপক্ষে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের দরকার। একটি ডিমে থাকে ৭০-৮৫ ক্যালরি বা ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। সুতরাং সুস্থ থাকতে রোজ ডিম খেতেই পারেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধ : ডিমে আছে ভিটামিন ই। এটি কোষ ও ত্বকে উৎপন্ন ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নষ্ট করে দেয় এবং স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। বর্তমানে প্রায় মেয়েদের স্তন ক্যান্সার দেখা দিচ্ছে। ডিমে প্রচুর ভিটামিন বিদ্যমান থাকাই সপ্তাহে যদি ছয়টি ডিম আপনি খেতে পারেন তাহলে স্তন ক্যান্সার নিয়ে কোনো চিন্তাই করতে হবে না। ডিম শতকরা ৪০ ভাগ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম।

এসআই/এমএআর/বিএ