৫৭টি নদীর বুকে জেগে উঠেছে বালুর চর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ২১ মার্চ ২০১৭

নেত্রকোনার ছোটবড় ৫৭টি নদী পানি সঙ্কটে তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে খেলার মাঠে। নদী খননের অভাবে প্রতিটি নদীতেই জেগে উঠেছে বালুর চর। জেলার অন্তত ৫৭টি নদীর বুকে জেগে উঠেছে বালুর চর।

এতিহ্যবাহী সোমেশ্বরী, কংস, ধনুসহ জেলার প্রধান নদীগুলো এখন তীব্র পানি সঙ্কটে রয়েছে। নদীতে পানি সঙ্কট থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষকদের চাষাবাদ।

১৮৯৭ সালে ১২ জুন সোমবার এক ভূমিকম্পের পর ঝলচ, ঝিনাই ও কানাই নামের বড় বড় কয়েকটা নদী বিলুপ্তি হওয়ার পথ ধরে বর্তমানে নেত্রকোনার ছোটবড় ৫৭টি নদীতে চলছে পানির তীব্র সঙ্কট।

প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে নেমে আসা পলিতে ভরাট হয়েছে জেলার প্রত্যেকটা নদী। খননের অভাবে জেলার কংস, সুমেশ্বরী, মগড়া, ধনুসহ প্রায় সবকটা নদীতে রয়েছে পানির সঙ্কট। আর নদীতে পানি না থাকায় নদীর ওপর দিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা।

এদিকে, নেত্রকোনার বুক চিরে বয়ে যাওয়া মগড়া নদীও এখন বিভিন্ন এলাকায় একেবারে পানি শূন্য হয়ে পড়েছে। পানি সঙ্কটে পড়েছে এই নদী। ফলে নৌ চলাচল যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি বোরো জমিতে সেচের সমস্যা ও দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা ও নেত্রকোনার জারিয়া এলাকা দিয়ে নেত্রকোনা শহর দিয়ে প্রবাহিত মগড়া নদীটির বর্তমান অবস্থা একেবারে নাজুক।

নদীর কোনো কোনো স্থানে পানি নেই। এ সমস্ত স্থানে এখন চলছে বোরোর আবাদ। এক সময়ের প্রমত্তা মগড়া নদী ছিল বেশ প্রশস্ত। এখন নদী ভরাট হতে হতে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন এটাকে খালও বলা চলে না।

নেত্রকোনার সুধিজনের আশঙ্কা, জরুরিভাবে নদী খনন করা না হলে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে এই নদী বিলীন হয়ে যাবে। তখন মগড়া নদী অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়বে। এই মগড়া নদীর উৎস মুখ ভরাট হয়ে যাওয়াতে নদীর এই অবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

সম্প্রতি মগড়া নদীর তীর উদ্ধার, অবৈধ দখল মুক্ত করা এবং এ লক্ষে উচ্ছেদ অভিযান শুরুর জন্য জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে জেলা নদী কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যে দখলদারিদের নোটিস প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন অফিস সূত্র।

সম্প্রতি নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে জেলা নদী কমিশনের সভায় নদী কমিশনের সদস্য মো. আলা উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, নদী রক্ষায় নদীর প্রকৃত গতিপথ নির্ণয়ের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দ্রুত নেত্রকোনার কয়েকটি নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু তাহের জাগো নিউজকে বলেন, পাহাড়ি ঢলে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার পরেই নদী শুকিয়ে যায়। এরই পেক্ষিতে খাবিটা প্রকল্পের আওতায় জেলার ১২টি প্রধান নদীসহ কয়েকটি খাল খননের ডিপিপি তৈরি করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন হলেই নদী খননের কাজ শুরু হবে।

কামাল হোসাইন/এএম/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।