এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর, থাকতে চান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারীরা

আমানউল্লাহ আমান
আমানউল্লাহ আমান আমানউল্লাহ আমান , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫৭ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমন্বয়ে সে সরকার গঠন হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী চাইলে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকতে চান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো।

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিয়ম-মাফিক কাজ পরিচালনার জন্য ২৯ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সরকারে ১৪ দলীয় জোটের বেশ কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্ব নেই- এমন একটি দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছিল। একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনকালীন সরকারও আগের মতোই হবে বলে মনে করেন ১৪ দলীয় জোটের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা তিনটি দল বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। এছাড়া পৃথকভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ১৪ দলীয় জোটে যোগ দেয় জাতীয় পার্টি। সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সাতটি দলের মধ্যে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তারা। দলটির অধিকাংশ নেতাই বিগত নির্বাচনকালীন সরকারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

বিগত নির্বাচনকালীন সরকারে ছিল না বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন। বর্তমান সংসদে তাদের দুজন সদস্য রয়েছেন। এবার তারা নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সংসদের দুটি আসনে প্রতিনিধিত্ব করছে জাতীয় পার্টি- জেপি। দলটি মনে করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এখতিয়ার শুধু প্রধানমন্ত্রীর। তার সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন আছে বলেও জানান জেপি মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম।

১৪ দলীয় জোটের অধিকাংশ দলের প্রতিনিধিত্ব নেই সংসদে। এ কারণে নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই তাদের সিদ্ধান্ত।

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ছয় সদস্য রয়েছেন। দলটির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। উনি গত নির্বাচনের সময় যে রূপরেখা অনুযায়ী সরকার গঠন করেছিলেন এবারও সেভাবে করবেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দু-একদিনের মধ্যে ১৪ দলের সঙ্গে উনি বসবেন। তখন আমরা আমাদের ভাবনাগুলো তার সঙ্গে বিনিময় করবো।

সংসদে পাঁচটি আসন রয়েছে বিভক্ত জাসদের। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদের সঙ্গে আছেন তিন সংসদ সদস্য। এ অংশের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, সরকারদলীয় জোটে তো আমরা আছি। আমাদের দলের সভাপতি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন যে সরকার গঠন করবেন সেখানে আমরা থাকবো- এটাই প্রত্যাশা। তারপরও প্রধানমন্ত্রী উনার এখতিয়ার অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন।

এদিকে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন নিয়ে ১৪ দলীয় জোটে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান বাংলাদেশ জাসদ সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার অনুযায়ী যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হবে, সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে আমাদের প্রতিনিধিত্ব রাখতে চাইলে অবশ্যই আমরা থাকবো।

বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী জাগো নিউজকে বলেন, জোটের সভায় আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমিই প্রথম বলেছি, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হোক। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তার এখতিয়ার অনুযায়ী সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।

জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সন্তুষ্টচিত্তে যে সরকার গঠন করবেন, আমরা তাতেই সন্তুষ্ট। নবম সংসদের সময় ১৪ দলীয় জোটে আমরা ছিলাম না, এবার আমরা জোটে আছি। এ সময়কালে আমরা কিছুই চাইনি।

জোটভুক্ত দল হিসেবে জোটের নেতৃত্বের প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে- যোগ করেন তিনি।

২০১৩ সালে গঠিত নির্বাচকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সে সিদ্ধান্তের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।

এইউএ/এমএআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :