ভেজাল কমেছে, তবে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নয়

জসীম উদ্দীন
জসীম উদ্দীন জসীম উদ্দীন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:০৪ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৮
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ভেজালবিরোধী অভিযান ফাইল ছবি

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সারাদেশে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সুনাম অর্জন করেছেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। চলতি বছরেই তার নেতৃত্বে দুই শতাধিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ভেজাল খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির দায়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে জেল-জরিমানার আওতায় আনা র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের সঙ্গে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে কথা হয় জাগো নিউজের।

তিনি বলেন, ‘মানুষের অন্যতম প্রধান মৌলিক অধিকার হলো নিরাপদ খাদ্য। কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করে কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নিরাপদ খাদ্য তৈরির জন্য আমাদের দেশে প্রচুর প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন দরকার। এই জায়গাগুলোতে আমাদের কাজ করতে হবে।’

‘আইন প্রয়োগ, জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ- এই তিন বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের বিষয়টি সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, দায়িত্ববান হতে হবে। খাদ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে স্ব স্ব দায়িত্বজ্ঞান। সার্বিকভাবে যদি বলা যায়, খাদ্যসংশ্লিষ্ট খাতে সরকারের আরও সজাগ দৃষ্টি, এজন্য জনবল বাড়ানো, সচেতনতা ও মোটিভেশনাল কার্যক্রম নিতে হবে।’

‘বেসরকারি পর্যায়ে জন-উদ্যোগ এবং নাগরিক লেভেল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে নিরাপদ খাদ্যের জন্য গণমাধ্যমেরও জোরালো ভূমিকা রয়েছে। আমরা আশা করি, গণমাধ্যম আমাদের সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।’

বাংলাদেশে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিতে কী ধরনের উদ্যোগ সফল হতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে সারওয়ার আলম বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা বলতে সাধারণ মানুষের একসময় কোনো ধারণাই ছিল না। আবার বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়, সে ধারণাও স্পষ্ট ছিল না। তবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে খাদ্যাভ্যাস। বাজারে এসেছে নিত্যনতুন খাদ্যপণ্য। এসব খাবারে ভেজালও আছে। অভিযান ও সচেতনতামূলক সরকারি উদ্যোগের কারণে খাদ্যে ভেজাল কমছে। তবে তা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমেনি।’

খাদ্যে ভেজাল মেশানোর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। তবে খাদ্য নিরাপত্তায় ঘাটতি রয়ে গেছে। এর কারণ হচ্ছে, এক শ্রেণির মানুষ রাতারাতি বড়লোক হতে চান, যে কোনো মূল্যে লাভের আকাঙ্ক্ষা তাদের। এজন্য মানুষের ক্ষতি সম্পর্কে তারা তোয়াক্কা করেন না। আবার আরেক শ্রেণির মানুষ কিছু না জেনেই ভেজাল খাদ্য তৈরি ও বিক্রি করছেন।’

জেইউ/জেডএ/এমএআর/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :