সামরিক ঐতিহ্য ইরানের সংস্কৃতির অংশ

সায়েম সাবু
সায়েম সাবু সায়েম সাবু , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৩১ পিএম, ২২ মে ২০১৯

ড. আলী রীয়াজ, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি নেন।

ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেয়ার আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটেনের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ল্যাফলিন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া তিনি লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট হিসেবে কাজ করেন ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত। তিনি ‘স্ট্যাডিজ অন এশিয়া’ জার্নালের সম্পাদকও।

আন্তর্জাতিক রাজনীতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। নির্মোহ গবেষণা রয়েছে পলিটিক্যাল ইসলাম ও জঙ্গিবাদ নিয়েও। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাজনীতি, চীন-মার্কিন পণ্যযুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান, তালেবান-আইএস এবং সর্বশেষ মার্কিন- ইরান উত্তেজনার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেন। বাংলাদেশের রাজনীতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা ইস্যুতেও নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। পাঁচ পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে দ্বিতীয়টি।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কায় হামলার পর ভারতের লাভ-লোকসান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। পাশের একটি দেশের সমাজ ব্যবস্থায় যদি প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির বিস্তার ঘটে, তাহলে ভারতের জন্যও সেটা খুব স্বস্তির কথা নয়। আপনার বিশ্লেষণ কী?

আলী রীয়াজ : একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে যদি কোনো অংশ চরমপন্থা অবলম্বন করতে থাকে, সেটা কী কমিউনিটিভিত্তিক চরমপন্থা, না-কি বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত একটি গোষ্ঠীকে সংগ্রহ করে এ ধরনের কাজ করানো হচ্ছে, তা নিয়ে ভাববার আছে।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কায় হামলায় আইএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ। বলা হয়, আইএস আমেরিকার সৃষ্টি। এর কোনো তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে?

আলী রীয়াজ : যদি পটভূমি ধরে বলেন, তাহলে মানতে হবে আমেরিকা যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তাতে করে এ ধরনের একটি শক্তির বিকাশ ঘটেছে। তবে এটিই একমাত্র কারণ, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। একমাত্র কারণ হিসেবে আপনি এর পক্ষে প্রমাণ দিতে পারবেন না।

মার্কিন ভুল পররাষ্ট্রনীতি আপনাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। সিরিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্র নানা রসদ দিয়ে সহায়তা করেছে। তাদেরই একটি অংশ পরে আইএস-এ যোগদান করেছে।

আগামীকাল আপনার কী ভূমিকা হবে, তা কী আমি আজই নির্ধারণ করে দিতে পারব? সিরিয়ায় বাসার আল আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ নিপীড়িত মানুষ লড়াই করছে। এ সাধারণ মানুষের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের দাঁড়ানো ঠিক হয়নি, এটি তো আপনি বলতে পারবেন না। না দাঁড়ালে প্রশ্ন তুলতো সাধারণরাই।

এ কারণেই যদি বলি, একটি তৈরি থাকা জনগোষ্ঠীকে যেভাবে দরকার, সেভাবেই সময়মতো ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে অনেক কিছুই বোঝার বাইরে থেকে যাবে। কোনো রাষ্ট্রে বা সমাজে, কেন, কখন, কীভাবে এমন শক্তির বিকাশ হয় তা অবশ্যই আলোচনার বিষয়।

সুতরাং শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে এটি বিবেচনা করলে হবে না যে, গুটিকয়েক মানুষ চরম সহিংসপন্থায় চলে গেল। যাওয়ার পথটা কোথায়? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে যাচ্ছে। আবার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বন্দ্ব। রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন। এগুলো বিবেচনায় না নিলে আপনি কন্সপিরাসি থিওরিতে (ষড়যন্ত্র তত্ত্ব) আটকে থাকলেন।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে চীন ও ভারতের টানাপোড়েন রয়েছে। সেই টানাপোড়েন থেকে সেখানে এ অস্থিরতা হতে পারে কি-না?

আলী রীয়াজ : এটি অবশ্যই একটি বিবেচনার বিষয়। কোনো দ্বীপই দ্বীপ নয়। শ্রীলঙ্কা কিন্তু তা-ই প্রমাণ করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের টানাপোড়েন, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টিতে দুই পক্ষ যে ব্যবস্থা নিচ্ছে, তার একটি প্রভাব তো সমাজে পড়বেই। সেই প্রভাবের সবই পূর্বপরিকল্পিত হবে, তা বলতে পারবেন না। এ প্রভাব কোথায় গিয়ে ঠেকবে তার জন্য হয়তো অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু দেশটিতে যদি গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী থাকতো তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হতো।

জাগো নিউজ : গণতান্ত্রিক কর্তৃত্ব ক্রমাগত সামরিক কর্তৃত্বের দিকে যাচ্ছে। সেখানে যে মডেলে ধরপাকড় হচ্ছে, কথিত জঙ্গি মারা হচ্ছে, তাতে করে দেশটিতে সামরিক নিপীড়নের তীব্রতা বাড়বে কি-না?

আলী রীয়াজ : আড়াই দশকের যুদ্ধে শ্রীলঙ্কা একটি সিকিউরিটি স্টেটে পরিণত হয়েছিল। যুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে যেভাবে এলটিটি-কে মোকাবিলা করা হয়েছে, তা ক্ষেত্রবিশেষে গণহত্যার শামিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। একটি সিকিউরিটি স্টেটে অর্থাৎ নাগরিকের মৌলিক অধিকার চূর্ণ করেই হোক আর অন্য উপায়েই হোক যুদ্ধটা তো মোকাবিলা করেছে।

ওই হামলার পরে শ্রীলঙ্কা ফের বিপরীতমুখী হয়েছে। আবারও সিকিউরিটি স্টেটে রূপ নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আসলে কারা সুবিধা নিতে চাইছেন তার প্রমাণ নেই আমার কাছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, আবার সেই সিকিউরিটি স্টেট তৈরি হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়।

জাগো নিউজ : আফগানিস্তান প্রসঙ্গে আসি। দেশটি থেকে আমেরিকা চলে যাবার আগে তালেবানদের কাউন্টার ব্যালেন্স রেখে যেতে চায় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিশেষ করে আইএস-এর উপস্থিতি যদি থাকে তাহলে তালেবানদের একক কর্তৃত্ব থাকলো না। এমন একটি আলোচনা আছে। আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা কী?

আলী রীয়াজ : আইএস-এর এখনকার আওয়াজ নিয়ে আপনাকে তিনটি বিষয় সামনে আনতে হবে। প্রথমত, আইএস-এর এখন কোনো ঘাঁটি নেই। এর মানে কিন্তু জমি বেদখল হওয়া নয়। বিভিন্ন দেশ থেকে উগ্রবাদীরা এসে আইএস-এর নামে যুদ্ধ করেছে। তারা এখন যাবে কোথায়? কিন্তু কোথাও না কোথাও তো যাচ্ছেই।

দ্বিতীয়ত, আইএস ছিল একটি এলাকানির্ভর সংগঠন। এখন এটি প্রকৃতপক্ষে আল-কায়েদার মতো ট্রান্সন্যাশনাল টেররিস্ট (আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী) গ্রুপে পরিণত হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে। আল-কায়েদার ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। আমরা আল-কায়েদার দক্ষিণ এশিয়ায় শাখা একিউআইএস নামের সংগঠন দেখতে পাচ্ছি। আফ্রিকাতেও দেখতে পাচ্ছি। আইএস এখন আল-কায়েদার মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

তৃতীয় বিষয়টি আলোকপাত করছি। তালেবান একটি স্থানীয় সংগঠন। আফগানিস্তানের বাইরে তাদের কোনো দাবি-দাওয়া নেই। কিন্তু তারা যে থিউরি ব্যবহার করে ব্যাখ্যা দেন, তা ইসলাম ধর্ম থেকে নেয়ার ভিত্তিতে। যদিও তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

আমেরিকার সঙ্গে তালেবানদের যে আলোচনা হচ্ছে, তার বাইরে সংগঠনটির অনেকেই থেকে যাবেন। তাদের কেউ কেউ মনে করবেন, আপসের মধ্য দিয়ে তালেবানদের নৈতিক পরাজয় হচ্ছে। তার মানে, একটি অংশ তালেবানদের চেয়েও উগ্রপন্থায় যাবে। সেখানে আইএস গুরুত্ব পেতেই পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত হলেও আমি তা অস্বাভাবিক মনে করছি না।

জাগো নিউজ : সব ছাপিয়ে উদ্বেগ এখন মধ্যপ্রাচ্যে। হঠাৎ করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত প্রয়োজন পড়ছে কেন? এর কোনো অর্থনৈতিক কারণ আছে?

আলী রীয়াজ : আমার ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন একটি যুদ্ধ করতে চায়।

জাগো নিউজ : আফগানিস্তানে তো আমেরিকা যুদ্ধের মধ্যেই আছে…

আলী রীয়াজ : ট্রাম্প আফগানিস্তানে আর যুদ্ধ চান না। কারণ আফগানিস্তানের যুদ্ধটা ট্রাম্পের নয়। ট্রাম্প আসলে বীরত্ব দেখাতে চান। সে বীরত্ব দেখানোর কথা বলেই জিতেছেন। ট্রাম্পের কাছে বীরত্বের সংজ্ঞা হচ্ছে, আমেরিকা তার মতো করে ব্যবসা করবে, দ্বি-পাক্ষিকভাবে হুমকি-ধামকি দেবে। একই সঙ্গে সামরিক শক্তি জাহির করবে। বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বাজেট এবং শক্তি এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর তো প্রমাণ দিতে হবে এবং সেটা যে কোনো উপায়েই।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি নীতি হচ্ছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ইসরাইলের জন্য অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়। আর ইসরাইলের স্বার্থের জন্য আপনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সমস্ত দায় দিতে পারবেন না। সৌদি আরব আছে, মিসরের ভূমিকাও আছে।

ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে এ অঞ্চলে যে টানাপোড়েন আছে, তাকে সামরিকীকরণের চেষ্টা চলছে। সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব বাড়াতে পারলে ট্রাম্প প্রশাসন সাধারণ মানুষের কাছে তা বিক্রি করতে পারবে।

জাগো নিউজ : যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এখন এসব গ্রহণ করবে?

আলী রীয়াজ : আমি তা মনে করি না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ট্রাম্পের এ ধারণা গ্রহণ করবে, তা বিশ্বাস হয় না। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি, অধিকাংশ মানুষ আর যুদ্ধের পক্ষে মত দেবে না। তারা এখন কোনোভাবেই যুদ্ধের মধ্যে যেতে রাজি নন। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ সমস্ত পৃথিবী থেকে যুদ্ধের পরিস্থিতিটা গুটিয়ে নিতে চায়।

তারা দুনিয়াব্যাপী নিজের প্রভাব ঠিক রাখতে চায়। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অথবা সৌদি আরবের পক্ষ নিয়ে অন্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কোনো লাভ নেই, তা তারা এখন বুঝে গেছে। ক্ষমতাসীনরা হয়তো যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে আরেকবার ক্ষমতায় আসতে চাইবে।

জাগো নিউজ : সিরিয়ার যুদ্ধে আমরা রাশিয়াকে পাল্টা অবস্থান নিতে দেখলাম। ইরানের বেলায় কি একই পরিস্থিতি ঘটতে পারে?

আলী রীয়াজ : ইরান সিরিয়া নয়। ইরান ইরাক নয়। ইরান ইরান-ই। ইরানের যেমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে, তেমনি সামরিক ঐতিহ্যও আছে। সামরিক ঐতিহ্য ইরানের সংস্কৃতির অংশ। ইরান ১০ বছর ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধ করেছে।

আপনার প্রশ্নের ইন্টারেস্টিং একটি দিক আছে। রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন ভালো সম্পর্ক রাখতে চায়। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে যদি যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান পরিচালনা করে তখন রাশিয়া কোনো অবস্থাতেই এ ভালো সম্পর্ক বিবেচনায় নিয়ে যে কোনো ভূমিকা পালন করবে না, তা কিন্তু নয়। এ প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে এ মুহূর্তে নেই। বলতে পারেন, এক অর্থে প্যারাডক্সিক্যাল (আপার্তবৈপরীত) একটি ঘটনা হতে যাচ্ছে।

ট্রাম্পের নির্বাচনী বিজয়ে রাশিয়ার প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু কীভাবে প্রভাব রেখেছে তার প্রমাণ মিলছে না। পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের অনেক ভালো সম্পর্ক। কিন্তু ইরানের ব্যাপারে রাশিয়াকে কি চাপ দিতে পারবে? এ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। ট্রাম্প কোন বিবেচনায় সামরিক অভিযানে যাচ্ছে, তা দূরদর্শী কোনো সিদ্ধান্ত কি-না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মনে নানা প্রশ্ন আছে।
ট্রাম্পের সমঝোতার অভিজ্ঞতা হচ্ছে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে। ব্যবসায়ে আলাদা আলাদা করে সমঝোতা করা যায়। কিন্তু পররাষ্ট্রনীতিতে তা করা যায় না। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করে আবার রাশিয়ার সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক রাখা চ্যালেঞ্জ বটে। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে ইরানেরও ভালো সম্পর্ক। আর ব্যবসার মতো দু’জন সরবরাহকারীর সঙ্গে আলাদা আলাদা আলোচনা করে ট্রাম্প যুদ্ধপরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন না।

জাগো নিউজ : ইরানের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন আছে। সেখানে কর্মসংস্থান সংকট আছে। জনসংখ্যার একটা বড় অংশ তরুণ । যুদ্ধ হলে আসলে কী ঘটতে পারে দেশটির অভ্যন্তরে?

আলী রীয়াজ : ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তরুণ। ক্ষমতাসীনদের ওপর তরুণদের একপ্রকার চাপ তো আছেই। ইরানে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষকে বিক্ষুব্ধ করে তোলা। এটি সহজেই বোঝা যায়। ইরান যখন পারমাণবিক চুক্তিতে গেল, তখন সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো হবে। ভালো হয়নি। দ্রব্যমূল্য কমেনি। কর্মসংস্থান হয়নি। এসব নিয়ে কিন্তু একধরনের ক্ষোভ আছেই। চুক্তির কারণে কী লাভ হয়েছে, তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষকের কাছে একরকম আর বেকার তরুণের কাছে আরেক রকম। তরুণরা বলবে, চুক্তির পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কথা ছিল, আমাদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল।

জাগো নিউজ : তার মানে ইরানের মধ্যে একপ্রকার হুমকি আছেই…

আলী রীয়াজ : হ্যাঁ, তা তো আছেই। পারমাণবিক চুক্তির পর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে বলে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করেছিল। তারা মনে করেছিল, ভাগ্য বদলে যাবে। অংশত নিষেধাজ্ঞা উঠেছে, কিন্তু অবস্থা বদলায়নি। এ কারণে ক্ষোভটা থেকে গেছে। আর ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ফের যদি ইরানে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা যায়, তাহলে ভেতর থেকেই একধরনের চাপ তৈরি হবে। ফলে ইরান সরকারের পতন ঘটবে।

জাগো নিউজ : যদি ইরানের বর্তমান সরকারের পতন ঘটে...

আলী রীয়াজ : বর্তমান সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে ইরানে কোন ধরনের সরকার ক্ষমতায় আসতে পারে, সে সম্পর্কে ওয়াশিংটনের লোকজনের কোনো ধারণা আছে বলে আমার মনে হয় না।

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তারা যা ভাবে তা-ই হবে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয় না। অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে তা-ই দেখতে পাচ্ছি।

এএসএস/এমএআর/পিআর

মার্কিন ভুল পররাষ্ট্রনীতি আপনাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। সিরিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্র নানা রসদ দিয়ে সহায়তা করেছে। তাদেরই একটি অংশ পরে আইএস-এ যোগ দিয়েছে

এমন পরিস্থিতিতে আসলে কারা সুবিধা নিতে চাইছেন তার প্রমাণ নেই আমার কাছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত করেই বলতে পারি, আবার সেই সিকিউরিটি স্টেট তৈরি হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়

আইএস ছিল একটি এলাকানির্ভর সংগঠন। এখন এটি প্রকৃতপক্ষে আল-কায়েদার মতো ট্রান্সন্যাশনাল টেররিস্ট গ্রুপে পরিণত হয়েছে। বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে

ট্রাম্প আসলে বীরত্ব দেখাতে চান। তার কাছে বীরত্বের সংজ্ঞা হচ্ছে, আমেরিকা তার মতো করে ব্যবসা করবে, দ্বি-পাক্ষিকভাবে হুমকি-ধামকি দেবে, সামরিক শক্তি জাহির করবে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি নীতি হচ্ছে ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষা করা। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলে ইসরাইলের জন্য অনেক কাজই সহজ হয়ে যায়

ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ফের যদি ইরানে নিষেধাজ্ঞা জোরদার করা যায়, তাহলে ভেতর থেকেই একধরনের চাপ তৈরি হবে। ফলে ইরান সরকারের পতন ঘটবে