দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে ভালো বেতনের সুযোগ রয়েছে
>> দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্ত হচ্ছে
>> জাপানের সোর্স কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি
>> জাপানে প্রতি মাসে দক্ষ শ্রমিকের বেতন এক-দুই লাখ
>> বিশেষভাবে দক্ষ কর্মীরা জাপানে ৫ বছরের ভিসা পাবেন
>> ১০ বছর পর জাপানে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সের অ্যাপ্লাই
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে কর্মী যাওয়া কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষতা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ। জাগো নিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্ব শ্রমবাজারের ডায়নামিজম (গতিময়তা) মোতাবেক দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন অনেক বেশি। আমরাও শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিন পর্বের সাক্ষাৎকারের আজ থাকছে প্রথমটি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জেসমিন পাপড়ি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শ্রমবাজারের সংখ্যা কমলেও দক্ষতা বেড়েছে। মধ্যম আয়ের ও উন্নত দেশে যেতে হলে শ্রমবাজারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমাদের অদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা কমেছে। বাড়ছে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা।
চলমান বিশ্বের বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ম্যানুয়াল (হস্তসাধিত) কাজ এখন মেকানিক্যালে (যান্ত্রিক) পরিণত হচ্ছে। একসময় মানুষ যে কাজ কোদালে করতো তা এখন ট্রাক্টর দিয়ে করা হয়। সেই হিসেবে মাঠের শ্রমিক না পাঠিয়ে মেকানিক্যালে দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠালে দেশের জন্য ভালো।
‘বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে’ উল্লেখ করে ইমরান আহমদ বলেন, ‘দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে আমাদের ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের ৭০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) আছে। আরও ৪০টি টিটিসি চালু করা হবে। এছাড়া ৬০টির প্রকল্প জমা দিতে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো, দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ট্রেনিং সেন্টার চালু করা। বিদ্যমান টেনিং সেন্টারগুলো প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে আরও উন্নত করা।’

সর্বোপরি আমরা আমাদের শ্রমিকদের দক্ষতার মান বাড়ানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছি। দক্ষ শ্রমিকদের জন্য নতুন শ্রমবাজারও উন্মুক্ত হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার হলো জাপান। ছোট আকারের দেশটিতে কর্মী পাঠানো শুরু করেছিলাম। তবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আমরা এখন জাপানের সোর্স কান্ট্রিতে (উৎস দেশ) অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। আগে তাদের আটটি সোর্স কান্ট্রি ছিল। আমরা জাপানের নয় নম্বর সোর্স কান্ট্রি।’
‘তবে তারা দক্ষতার ব্যাপারে খুবই স্ট্রিক্ট (কঠোর)’ উল্লেখ করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, স্ট্রিক্ট হলেও বেতন যথেষ্ট। একজন দক্ষ শ্রমিকের এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আমাদের ছেলেরা যদি ছয় থেকে আট মাস প্রশিক্ষণে ব্যয় করে তাহলে জাপানে গিয়ে ভালো বেতন পাওয়া সম্ভব।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে নয়টি সোর্স কান্ট্রি থেকে সাড়ে তিন লাখ দক্ষ কর্মী নেবে জাপান। আমাদের কর্মীরা যদি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিন লাখ কর্মী পাঠানো সম্ভব।
এটা প্রতিযোগিতার প্রশ্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য প্রশিক্ষণ নিতে হবে। প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।
জাপানের শ্রমবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশটিতে আমরা নারী কেয়ারগিভার (শুশ্রুষাকারী) ও পুরুষকর্মী পাঠিয়েছি। সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পেয়েছি। আমাদের ছেলেরা যেখানে কাজ করে সেখানে আমি নিজে গিয়েছি। দেখেছি, তারা সুখে আছে।
‘বিশেষভাবে দক্ষ যে কর্মীরা জাপান যাবে তারা পাঁচ বছরের ভিসা পাবেন। এ সময়ের মধ্যে তারা পরিবার নিয়ে যেতে পারবেন। প্রথম পাঁচ বছর শেষ হলে সেখানে থাকার জন্য আরও পাঁচ বছর ভিসার মেয়াদ বাড়বে তাদের। ১০ বছর থাকার পর তারা জাপানে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সের (স্থায়ীভাবে বসবাস) জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবে।

তিনি বলেন, এটা দারুণ একটা সিস্টেম। এখন শুধু আমরা ভালো হলেই হলো।
জাপান যেতে কোনো দালাল বা রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাপানে যাওয়ার জন্য কোনো টাকা কাউকে দিতে হয় না।
ইমরান আহমদ বলেন, সব দেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত একটা রেট আছে। অনেকে না জেনেই দালালদের সঙ্গে লেনদেন করে থাকে, ভিটেমাটি বিক্রি করে। তিনি বলেন, যেখানে দেখব কোনো গরিব মানুষ প্রতারিত হয়েছে আমরা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাব।
মন্ত্রী বলেন, অনিয়মের কারণে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে সাড়ে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ১৬৬ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই, কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই আগে লাইসেন্স স্থগিত করা হবে।
জেপি/এমএআর/পিআর