অভিজাত বস্তিতে পরিণত হয়েছে ধানমন্ডি

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৫১ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২০

শেখ রবিউল আলম রবি। ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপিমনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করেছেন ১৯৯৫ সালে। ২৮ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। এখন পর্যন্ত তার নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে ১৬৭টি, কারাবরণ করেছেন সাতবার। ধানমন্ডি এলাকায় ওয়ার্ড বিএনপির সেক্রেটারি পদ দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে পথচলা। এরপর ওয়ার্ড সভাপতি, ধানমন্ডি থানা জয়েন্ট সেক্রেটারি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং বর্তমানে থানা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির জয়েন্ট সেক্রেটারি ও নির্বাহী কমিটির সদস্য। আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজ’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন খালিদ হোসেন

জাগো নিউজ : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর কতটুকু আস্থা রেখে নির্বাচন করছেন?

শেখ রবিউল আলম রবি : আস্থা রাখার সুযোগ একেবারেই কম। ভোটারদের আস্থা নেই, রাজনৈতিক দলের আস্থা নেই। প্রার্থী হিসেবে বিগত দিনে আমি যা দেখেছি, নির্বাচন কমিশন যেভাবে নির্বাচন করেছে তাতে আস্থা রাখার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে গেছে। এরপরও আমরা নির্বাচন করছি।

আমরা বারবার এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করেছি। কারণ আমরা চেয়েছি, এ কমিশন ব্যর্থ হয়েছে, তারা সফল হতে শিখুক। তারা সফল না হলে তো জনগণ ভোটের অধিকার পাচ্ছে না, রাজনৈতিক দল নির্বাচনে থাকতে পারছে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে না। জনগণের জন্য প্রকৃত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে না। এসব জাতীয় স্বার্থের কারণে আমরা নির্বাচনে থাকছি এবং তাদের সংশোধনের চেষ্টা করছি। তাদের আরও দায়িত্ববান করার চেষ্টা করছি। এখন দেখা যাক, তারা আমাদের এমন একটা নির্বাচন দিতে সক্ষম হয় কি-না, যেটা জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন, প্রার্থী হিসেবে আমি সমান সুযোগ পাব।

জাগো নিউজ : নির্বাচনে আপনার চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

শেখ রবিউল আলম রবি : জনগণের নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থা নেই। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে অনীহা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর জনগণ আস্থা রাখতে পারছে না। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মানুষ তার পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ভোট দিতে চায় এবং সেই পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। এটি সরকারের কাছে অগ্রাহ্য হয়েছে, সরকার কর্ণপাত করছে না। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনের বিধিবিধান, প্রচারবিধি বা ব্যবস্থাপনানীতি— এগুলো যদি ভঙ্গ করে অথবা লঙ্ঘন করে তাতে তাদের সাজা হয়, মামলা হয়, জবাবদিহি করতে হয়— এমন ধারণা তো ক্ষমতাসীনদের মধ্যে নেই। ফলে নির্বাচনের দিন কমিশন যতই চেষ্টা করুক সবকিছু ভেঙে পড়ে। এটিই হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্ষমতাসীনদের ভোটের প্রতি আস্থা তৈরি করানো, নির্বাচন কমিশনকে সক্ষম করা, শক্তিশালী করা গেলেই কেবলমাত্র ভোটাররা ভোট দিতে উৎসাহিত হবেন।

jagonews24

জাগো নিউজ : নিজের ইচ্ছায় প্রার্থী হয়েছেন নাকি দলের নির্দেশে বাধ্য হয়ে নির্বাচন করছেন?

শেখ রবিউল আলম রবি : বাধ্য হয়ে নয়, কেউ তো বাধ্য হয়ে রাজনীতি করে না। রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে করি। এলাকায় দলের প্রতিনিধিত্ব করছি। নেতাকর্মী ও জনগণের প্রত্যাশাও রয়েছে আমাকে ঘিরে। জনগণের জন্য আমার কিছু করণীয় নির্ধারণ করা আছে। নির্বাচিত হয়ে জনগণের জন্য কল্যাণকর কিছু করা হলো সবচেয়ে উপযুক্ত পন্থা। সেগুলো বিবেচনা করে নির্বাচনে আছি। নির্বাচন আমি করতে চেয়েছি, দল আমাকে এককভাবে সমর্থন দিয়েছে এবং দল মনে করেছে যে, আমি একমাত্র যোগ্য প্রার্থী এবং আমার ওপর আস্থা আছে দলের। এসব বিবেচনা করে এ আসন শূন্য হওয়া সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। আমি প্রস্তুতি নিয়েছি। ২৮ বছর ধরে ধাপে ধাপে এখানে এসেছি।

জাগো নিউজ : সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোতে বিএনপি আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না, এটা জেনে আপনি কীভাবে বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে?

শেখ রবিউল আলম রবি : আশানুরূপ ফল পাচ্ছে না— আসলে এটা নয়। বিষয়টি হলো, যে আশানুরূপ ফল পাওয়া উচিত ছিল সেটা ক্ষমতাসীনরা হতে দিচ্ছে না। এখানে ক্ষমতাসীনরা মেনুপুলেট করেছে। আমরাও সেটা মোকাবিলার চেষ্টা করছি। ক্ষমতাসীনরা যেটি করছে সেটি গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়। সেটি মানুষের নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থী। এটা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত হলে কী হচ্ছে? একটা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ আজ পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষের কাছে। মানুষের কাছে আজ তারা ধিকৃত হচ্ছে।

অন্যদিকে, আমরা জনগণের ওপর নির্ভর করি, জনগণের অধিকার নিয়ে কাজ করি, জনগণকে ভোটের সুযোগ করে দেয়ার জন্য এত নির্যাতন, জুলুম, অত্যাচারের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে থাকি, আন্দোলনে সক্রিয় থাকি। এতে রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং আমরা জনগণকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। হয়তো ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হচ্ছি না আওয়ামী লীগের দানবীয় আচরণের কারণে।

জাগো নিউজ : নির্বাচনে যদি কোনো অনিয়ম দেখেন তাহলে প্রতিকারের বিষয়ে কী ভাবছেন?

শেখ রবিউল আলম রবি : নির্বাচনে অনিয়ম বিদ্যমান। আশা করব, নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিগত দিনে যে অনিয়ম হয়েছে তা পরিত্যাগ করে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য সর্বোচ্চ মনোযোগ এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এটা আমি আশা করব। কারণ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের জন্য প্রয়োজন, জনগণের জন্য প্রয়োজন যা প্রতিষ্ঠিত করা রাষ্ট্রের সময়ের দাবি। বিভাজন, দ্বন্দ্ব, সংঘাত অনেক হয়েছে। তাতে দেশের ক্ষতি হয়েছে। মানুষের ক্ষতি হয়েছে। মানুষ উপযুক্ত জনপ্রতিনিধি পায়নি। পার্লামেন্ট হয়েছে কিন্তু জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। পার্লামেন্ট হয়েছে, জনগণের কাছে জবাবদিহি নেই। এ ধরনের পার্লামেন্ট, এ ধরনের সরকার, এ ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনা জনকল্যাণকর হয় না। অতএব এনাফ ইজ এনাফ। আমাদের এখন নতুন করে ভাবতে হবে।

jagonews24

জাগো নিউজ : নির্বাচনে অনিয়ম হলে প্রার্থী হিসেবে, রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে আইনগতভাবে মোকাবিলা করার চিন্তা আছে কি-না?

শেখ রবিউল আলম রবি : আপনি যদি এভাবে বলেন, অভিযোগটা করবেন কোথায়? সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন? বিগত দিনে দেখেছি, সবাই একাকার হয়ে যায়। এখন আপনি আইনগতভাবে মোকাবিলা করবেন, আপনি তো আইনের কাছে যেতে পারছেন না। অনিয়ম হয়েছে, আমি একটা অভিযোগ নিয়ে যাই কিন্তু রিসিভ করে না। বলে, রেখে যান… আমরা দেখছি। রিসিভ তারা করবে না। থানায় যাবেন, রিসিভ করবে না। রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ অফিসার তারা বলেন, জানেন তো ভাই আমাদের কিছুই করার নেই। এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের আধিপত্যের কাছে যদি সবাই আত্মসমর্পণ করে তাহলে একজন প্রার্থী এ আইনি অধিকারটা কোথায় পাবে?

আমি অনেক দুঃখের সঙ্গে বলছি, কোন কোন সময় আমরা দেখেছি, সংবাদকর্মীদের যে দায়িত্ব রয়েছে তারা তা অনেক সময় পালন করতে পারেন না। কেন পারছেন না, কী কারণে পারছেন না— হয়তো সেটা আমার জানা নেই। দেশের সুশীল সমাজ, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক সমাজ, জাতির বিবেক, প্রশাসন ও রাষ্ট্র কাঠামো— সবাই যদি সোচ্চার না হয়, শুধুমাত্র একজন প্রার্থী, শুধুমাত্র একটি দলের পক্ষে এই দুরূহ কাজটি করা সম্ভব নয়।

এজন্য আমাদের সবার যার যার জায়গা থেকে সজাগ হওয়া দরকার, সচেষ্ট হওয়া দরকার, সংগ্রামী হওয়া দরকার, প্রতিবাদী হওয়া দরকার। আমার দল প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। আমার দল তো কোনো অনিয়মের সঙ্গে আপস করেনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি। করেননি বিধায় তিনি কারারুদ্ধ। করেননি বিধায় তিনি আজ জামিন পান না, করেননি বলেই তিনি চিকিৎসা পান না। এ সংগ্রাম কি গণতন্ত্রের সংগ্রাম নয়?

জাগো নিউজ : ঢাকার নির্বাচন অনেক ব্যয়বহুল, দল থেকে আপনাকে কী পরিমাণ অর্থ দিয়েছে বা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?

শেখ রবিউল আলম রবি : আমার দল অর্থ সহায়তা করে— এটা আমার জানা নেই। রাজনীতিতে খুব বেশি টাকা লাগে, এ বিষয়েও আমি অভ্যস্ত নই। আমি রাজনীতি করছি ২৮ বছর ধরে। মাঠের মানুষ। মানুষের সঙ্গে মিশেছি, চলেছি, ঘুরেছি, ফিরেছি। নেতৃত্ব দিয়েছি, মহল্লায় হেঁটেছি, চা খেয়েছি, তাদের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। টাকার বিনিময়ে নির্বাচন করতে হয়, ভোট পেতে হয়, নেতৃত্ব দিতে হয়, আমি এগুলোতে অভ্যস্ত নই। কর্মীদের সঙ্গে ছিলাম। এখনও আছি। জনগণের সঙ্গে ছিলাম। এখনও আছি। ভবিষ্যতেও থাকব।

জাগো নিউজ : আপনাদের নেত্রীর মুক্তির বিষয়ে যারা বর্তমানে সংসদে আছেন তারা কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন— দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন ধারণা রয়েছে। যদি আপনি নির্বাচিত হন, আপনার ভূমিকা কেমন হবে?

শেখ রবিউল আলম রবি : দল, দলের নেত্রী, দলের নেতা-কর্মী-সমর্থক এবং দেশবাসী; তাদের ক্ষেত্রে জোরালো ভূমিকা রাখার দায়িত্ব রাজনৈতিকভাবে যদি আমার কাঁধে পড়ে, সে আস্থার অমর্যাদা হবে না— এটা জোর দিয়ে বলতে পারি। সামর্থ্যের শতভাগ দিয়ে আমি দলের সঙ্গে আছি। এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। নেত্রীর পাশে আছি। নেত্রীকে আমরা মুক্ত করতে পারিনি— এটা সত্য। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের যতটা ব্যর্থতা, তার চেয়ে বেশি ব্যর্থতা রাষ্ট্রের। এ রাষ্ট্রের একজন গণতান্ত্রিক নেত্রী, যিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলের বর্তমান চেয়ারপারসন, বারবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, যাকে ছাড়া এ দেশের গণতান্ত্রিক সংকট উত্তরণ সম্ভব নয়, যাকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ভয় পায় বিধায় ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলায় কারাগারে রাখে, জামিন দেয় না, চিকিৎসার ব্যবস্থা করে না। তার মুক্তি এ দেশের মানুষ করে ছাড়বে, ইনশাল্লাহ।

jagonews24

দেখুন, বঙ্গবন্ধু ১৪ বছর কারাগারে ছিলেন। জেলের তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ তাকে আনতে পারেনি। কারণ রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির ক্ষেত্রে কিছু বিষয় নির্ভর করে। আপনার মনে আছে নিশ্চয়ই, আহমেদনগর কারাগারে যখন সত্যগ্রহ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল, সেই ১৯৪২ সালে। জহরলাল নেহেরু, মহাত্মা গান্ধী, আবুল কালাম আজাদ, রাজেন্দ্র প্রসাদ, ব্যাটেলসহ ১১৩ কংগ্রেস নেতা গ্রেফতার হয়েছিলেন। সাড়ে তিন বছর কারাগারে ছিলেন। ৪০ কোটি ভারতবাসী কেউ কিন্তু তাদের মুক্তির দাবিতে মাঠে নামেনি। মুক্তি তাদের হয়েছে। তেমনি বেগম খালেদা জিয়াও মুক্ত হবেন। জনগণের সম্মিলিত শক্তি তাকে মুক্ত করে ছাড়বে, ইনশাল্লাহ।

জাগো নিউজ : আপনার নির্বাচনী আসনে প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো সম্পর্কে যদি বলতেন…

শেখ রবিউল আলম রবি : প্রথমত, মেম্বার অব পার্লামেন্টের কাজই হচ্ছে এলাকার জনগণের সমস্যার বিষয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করা। মানুষের সাংবিধানিক অধিকার, নাগরিক অধিকার এবং যে মৌলিক বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে পার্লামেন্টে তুলে ধরা। আমি সেই কাজটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করব। পাশাপাশি এলাকার কিছু ডেভেলপমেন্ট কাজ তো রয়েছে। আমার কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে হয়েছে ধানমন্ডি এলাকা। এটি অভিজাত এলাকা, সেটি এখন অভিজাত বস্তির মতো হয়ে গেছে। এর থেকে ধানমন্ডিবাসীর পরিত্রাণ পাওয়া উচিত, একটা টেকসই ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, এ এলাকায় মাদকের সমস্যা ব্যাপক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সজাগ করা, সচেষ্ট করা, মনোযোগী করা এবং মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করব। আবাসিক এলাকা ছাড়াও এখানে এমন অনেক এরিয়া আছে যেখানে রাস্তাঘাটগুলো অত্যন্ত জরাজীর্ণ, অত্যন্ত সরু। সেগুলো প্রশস্ত করা দরকার। কিছু কিছু রাস্তা আছে, ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে ওয়ানওয়ে করা দরকার।

এছাড়া নিরাপত্তা ও জলাবদ্ধতার সমস্যাও মারাত্মক। সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা হয় ধানমন্ডিতে। আমি জেনেছি, সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার ১১ বছরে এত পদক্ষেপ নিয়েছে, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি তো দেখি না। ধানমন্ডির সরু গলিতে স্ট্রিট লাইট থাকে না। ধানমন্ডি লেকে অবাধে নিঃশ্বাস নেয়া যায় না। এগুলো সমাধানে রাষ্ট্রের যে ব্যবস্থাপনা কাঠামো আছে সেগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা নেব। ব্যক্তিগতভাবে আমি স্বচ্ছ থাকব, একই সঙ্গে সচেষ্ট থাকব এবং বাধ্য করার চেষ্টা করব যেন এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।

জাগো নিউজ : জনগণের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

শেখ রবিউল আলম রবি : ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। জনগণ আওয়ামী লীগের দুঃশাসন ও গণতান্ত্রিক শাসনের অবসান চায়। তারা চায় দেশে সেই সরকার আসুক যে সরকার জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে। তারা বিগত দিনে বিএনপির যে সুশাসন ছিল সেটা আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা দেখতে চায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন করেছে, মানুষ স্বস্তিতে আছে। মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে আছে। মানুষ টেকসই উন্নয়ন পাচ্ছে। মানুষ মত প্রকাশ করতে পারছে।

জাগো নিউজ : জনগণের কাছে আপনার কোনো চাওয়া বা প্রত্যাশা…

শেখ রবিউল আলম রবি : একই বক্তব্য এবং সেটা খুবই স্পষ্ট। আপনারা দেশের নাগরিক। আপনার সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে পালন করুন, কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। আপনারা কেন্দ্রে যান। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন। আমি বিএনপির মনোনীত, বিশেষ করে বেগম খালেদা জিয়ার মনোনীত প্রার্থী। আপনারা আমাকে দোয়া করবেন, সমর্থন জানাবেন এবং কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন।

কেএইচ/এএইচ/এমএআর/এমএস