পোস্টারে ঢাকা ভাষাসৈনিকের নামফলক!

আলী ইউনুস হৃদয়
আলী ইউনুস হৃদয় আলী ইউনুস হৃদয়
প্রকাশিত: ১০:৪০ এএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মূল রাস্তার ফুটপাতে প্রায় আড়াই ফুট চওড়া ও চার ফুট লম্বা একটি নামফলক। ফলকের ওপর খোদাই করে যে লেখা রয়েছে তা পড়ার কোনো উপায় নেই। বিভিন্ন সময়ে সাঁটানো পোস্টারের কারণে সেই নামফলক ঢাকা পড়ে গেছে। এমনটিই দেখা যায়, ভাষাসৈনিক বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী সড়কের নামফলকটি।

এ সড়কটি সিএনজি, রিকশাচালক, পথচারী ও বাসিন্দাদের কাছে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়ক নামে পরিচিত। মূল রাস্তায় ধানমন্ডি ১৫ নম্বর বাসস্ট্যান্ড।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের সামনেই বসানো নামফলকটির সামনে একজন হকার দোকান দিয়েছেন। কারো বোঝার উপায় নেই যে, এটি একটি সড়কের নামফলক। নামফলকের লেখাও বিভিন্ন পোস্টার সাঁটানোর কারণে ঢাকা পড়েছে। আবার রিকশাচালকরাও নামফলক ঘেঁষে রিকশা দাঁড় করে রেখেছেন। এসব দেখে এটি যে নামফলক স্বাভাবিকভাবে কারো বোঝার উপায় নেই।

পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক রিকশাচালককে ফলকটি দেখিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যে কিসের আমি তো জানি না। নামফলকের বিষয়ে বলার পর ওই রিকশাচালক বলেন, ‘কখনো তো শুনিনি এই নাম। সবাই তো ধানমন্ডি ১৫ নম্বর সড়কই বলে। এভাবে পোস্টারে নামফলক ঢাকা থাকলে মানুষ জানবে কী করে?’

এবার কথা হয় দু’জন পথচারীর সঙ্গে। জাগো নিউজের পরিচয় দিয়ে কথা বলতেই তারা বলেন, দেখেন নাম তো থাকতে পারে কিন্তু আমরা কখনো এই নাম শুনিনি। বাসা-বাড়ি কিংবা দোকানগুলোর ঠিকানা দেখেন সেখানেও কিন্তু ভাষাসৈনিকের নাম পাবেন না।

পথচারীদের কথার প্রসঙ্গ ধরে অন্তত ১০টি দোকান ও বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোর সাইনবোর্ড কিংবা বাড়ির নেমপ্লেটে ভাষাসৈনিকের নামে যে সড়ক সে বিষয়ে কিছুই লেখা নেই।

jagonews24

ভ্যানে করে ওই সড়কে সবজি বিক্রি করেন রহমত। তিনি বলেন, ‘আমি দুই মাস ধরে এই সড়কে সবজি বিক্রি করি। কখনো তো কাউকে এই (ভাষাসৈনিক বিচারপতি আবদুর রহমান চৌধুরী সড়ক) নামে ডাকতেও শুনিনি। আমরাই বা জানবো কি করে?

প্রায় ১৩ বছর আগে ধানমন্ডি ১৫ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার ১০টি সড়ক ভাষাসৈনিকদের নামে নামকরণ করা হয়। পরিচিতির জন্য এসব সড়কের প্রবেশমুখে ওই সময় নামফলকও বসানো হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক আড়ালে পড়ে গেছে। আবার থাকলেও সেগুলোতে পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। কোনোটাতে বিভিন্ন রঙ দিয়ে লেখা থাকায় নামফলকের লেখা বোঝার কোনো উপায় নেই। তাছাড়া এসব নামফলক নিয়মিত সংস্কারও করা হচ্ছে না।

জানতে চাইলে গবেষক, ইতিহাসবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ভাষাসৈনিকদের নামে সড়কের নামকরণ করা হয়েছে বিষয়টি অবশ্যই ভালো। আর নামফলকের যে সমস্যার কথা বললেন এসব সমস্যাসহ সিটির অন্য সমস্যা সমাধানের জন্যই দুটো সিটি করপোরেশন করা হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি। নামফলক পোস্টারে ঢেকে যাওয়া কিংবা অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হয়ে যাওয়া কোনোটিই প্রত্যাশিত নয়, এটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্বহীনতার কারণে হয়েছে।

আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আগে এসব নামফলক নগর পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে ছিল। নামফলক যথাযথভাবে সংরক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মাস ছয়েক হলো নামফলকের ফাইলগুলো করপোরেশনের সচিব বিভাগে গেছে। এখন ওখান থেকেই নামফলক তদারকি করা হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড সংশ্লিষ্ট এলাকার কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবলা জাগো নিউজকে বলেন, যদি কোনো সড়কের নামফলকে পোস্টার থাকে তা অপসারণ করা হবে। আর যাতে ভবিষ্যতে কেউ পোস্টার না লাগাতে পারে সে ব্যাপারেও আমরা তদারকি করবো।

এওয়াইএইচ/এআরএ/এসএইচএস/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]