বঙ্গবন্ধু কৃষির প্রাণ, সেটা শস্যের মধ্যে ধারণ করে রাখতে চাই

নাজমুল হুসাইন
নাজমুল হুসাইন নাজমুল হুসাইন , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭:৩৭ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের আয়োজন চলছে। এসব আয়োজনের মধ্যে ব্যতিক্রম হলো ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’। বগুড়ার শিবগঞ্জের শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে ১২ লাখ ৯২ হাজার বর্গফুট জমিতে বঙ্গবন্ধুর মুখচ্ছবি ফুটে উঠতে চলেছে। বিশ্বের মধ্যে এমন নান্দনিক কর্ম এটিই সর্ববৃহৎ এবং বঙ্গবন্ধুই প্রথম কোনো নেতা, যার মুখচ্ছবি এভাবে হাসবে শস্যচিত্রে।

চিত্রটির দৈর্ঘ্য হবে ৪০০ মিটার এবং প্রস্থ ৩০০ মিটার। এটি এখন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের জন্য মনোনীত। রেকর্ডের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আয়োজকরা। এ নিয়ে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ কার্যক্রমের আহ্বায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নাজমুল হুসাইন

জাগো নিউজ: ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ আয়োজনের ভাবনাটা কীভাবে শুরু?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: দেশের কৃষিবিদরা এ আয়োজনের প্রাণ। তারাই প্রথম এটা নিয়ে ভেবেছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ধারণাটি শেয়ার করা হয়। তার নির্দেশে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছি।

jagonews24

ধানের চারা রোপণের মাধ্যমে গত ২৯ জানুয়ারি ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়

গত বছরের শেষে এ আয়োজনের জন্য প্রাথমিক কাজ শুরু হয়। এরপর বিদেশ থেকে বীজ এনেছি। আগের সব গিনেস রেকর্ড সম্পর্কে আমরা তথ্য নিয়েছি। এরপর বিশ্বের সর্ববৃহৎ এবং কোনো নেতার প্রথম এতো বড় মুখচ্ছবি তৈরির কার্যক্রম শুরু করি।

জাগো নিউজ: এমন উদ্যোগে এতো বেশি আগ্রহী হলেন কেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: বিশ্ববাসীর কাছে আমরা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এ আয়োজন স্মরণীয় করে রাখতে চাই। আমরা মুজিববর্ষে সব সেরা প্রোগ্রাম করতে চাই। বঙ্গবন্ধু কৃষির প্রাণ, সেটা শস্যের মধ্যে ধারণ করে রাখতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে কাছের মানুষ কৃষকদের মুজিববর্ষে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।

জাগো নিউজ: কার্যক্রম কতদূর এগিয়েছে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: শস্যরোপণ শেষ হয়েছে দেড় সপ্তাহ আগে। ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধুর মুখচ্ছবির আবহ তৈরি হয়ে গেছে। তবে পুরোপুরি মুখচ্ছবি ফুটে উঠতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লেগে যাবে। আর ফাইনাল অবস্থা পাওয়া যাবে সামনের মাসে।

জাগো নিউজ: এ কাজে কতজন যুক্ত ছিলেন? কাজটি কারা করছেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: বিএনসিসির (বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর) ১০০ জন সদস্য এখানে ম্যাপিংয়ে সহায়তা করেছেন। আর ক্ষেতে ৬০০ শ্রমিক জমি তৈরি থেকে শস্যরোপণ, ড্রেনেজ ও সেচ নিয়ে কাজ করছেন। ওই জায়গার পাশাপাশি বাড়তি কিছু জায়গায় বীজতলা রয়েছে। নষ্ট বীজতলা প্রতিস্থাপনের জন্য, সেখানেও মানুষ কাজ করছেন। এছাড়া কৃষিবিদ, শস্যের রোগ বিশেষজ্ঞসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে কাজ করছেন।

jagonews24

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

জাগো নিউজ: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের (গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ) সঙ্গে শেষ বৈঠক হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক রয়েছে এখন পর্যন্ত। শুধু আমরা তাদের ফাইনাল ডকুমেন্ট ২১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে কিছুদিন সময় বাড়িয়ে নিয়েছি। তারা জানিয়েছে, ৭ থেকে ১০ দিন সময় নেন, সমস্যা নেই।

জাগো নিউজ: তারা (গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ) কী ধরনের ডকুমেন্ট চায়?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: তারা ফাইনালি সব ধরনের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি নেবে। আর শুরু থেকে আমরা তাদের বীজ সংগ্রহ, জমির লোকেশন, জমির পরিমাণসহ সেখানে শস্যরোপণ থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কার্যক্রমের বিবরণ দিয়ে আসছি। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ মাপ-জোকের বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেয়। আমরা জমি পরিমাপে কমিটি করে দিয়েছি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ বিচারক নির্ধারণ করতে বলেছে। আমরা কৃষিবিষয়ক প্রফেসরসহ সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনকে নিয়ে বিচারক টিম তৈরি করছি। তারা এ বিষয়গুলো বিভিন্ন মাধ্যমে জাস্টিফাই (যাচাই-বাছাই) করবে।

jagonews24

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাবে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি

জাগো নিউজ: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি অর্জনের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। আমরা ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’ গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাবোই। তারা আমাদের যে রেকর্ড দেবে তারও আমরা একটা কপি ইতোমধ্যে চেয়েছি। তারা আমাদের নমুনা কপি দিতে চেয়েছে।

জাগো নিউজ: কী ধরনের রেকর্ডে নাম লেখাচ্ছে শস্যচিত্রটি?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: লার্জেস্ট ক্রপ ফিল্ড মোজাইক (ইমেজ) শাখার নতুন রেকর্ড হবে এটি। বর্তমানে রেকর্ডটি চীনের দখলে। ১৯১৯ সালে ৭৯ হাজার ৫০৫.১৯ বর্গমিটার আয়তনের জমিতে চার রঙের ধানের চারায় কাউ ফিশের ছবি ফুটিয়ে তুলে সাংহাইয়ের লেজিদাও ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড এই রেকর্ড গড়ে।

jagonews24

জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম

জাগো নিউজ: মুখচ্ছবি ফুটে ওঠার পরে কী করবেন?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: যেখানে শস্যচিত্র হচ্ছে সেই বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বালেন্দা গ্রামে বড় অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতির কারণে এখন কোথাও যাচ্ছেন না। তাই তাকে নেয়া যাবে কি-না জানি না। ‘ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার’ নামে যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে তাদেরও বিভিন্ন প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করছি আগামী ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে আমরা নতুন এ বিশ্বরেকর্ড অর্জন এবং ঢাকাতেও উদযাপন করতে পারব।

এনএইচ/এমএসএইচ/এইচএ/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]