ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে তোড়জোড়

খালিদ হোসেন
খালিদ হোসেন খালিদ হোসেন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৭ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২১

বিএনপির ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ‘নির্বাচিত’ বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর। এখনো আংশিক কমিটি দিয়েই চলছে সংগঠনটি। এতদিন তৃণমূল পুনর্গঠনে ব্যস্ত থাকা শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে তোড়জোড় শুরু করেছে। একই সঙ্গে জেলা ইউনিটের মর্যাদার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার আটটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আহ্বায়ক কমিটিও এসময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানায় সংগঠন সূত্র।

এদিকে দীর্ঘদিনেও আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা বেড়েই চলছে। সাংগঠনিক পরিচয় না থাকায় অনেকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

যদিও যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের মতো ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হবে নাকি নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় তা ভেঙে দেওয়া হবে— এ নিয়ে দৃশ্যমান কোনো আলোচনা নেই। ভেঙে দেওয়া হলে সেক্ষেত্রে নতুন কমিটি ‘ইলেকশন’ নাকি ‘সিলেকশনে’ হবে—সেটি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠনে ভূমিকা রাখা সাবেক ছাত্রনেতারাও এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

ছাত্রদলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বলছে, আগামী ১ জানুয়ারি ছাত্রদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই সংগঠনটির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হতে পারে। সেই কমিটি হবে হাইকমান্ড মনোনীত। সেখানে থাকবে না সিন্ডিকেটের প্রভাব। সম্প্রতি ঘোষিত ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটি থেকে তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। পরে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে।

দীর্ঘ ২৭ বছর পর ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ফজলুর রহমান খোকন সভাপতি ও ইকবাল হোসেন শ্যামল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কাউন্সিলের তিন মাস পর ওই বছরের ডিসেম্বরে সংগঠনটির ৬০ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এরপর আরও ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি দলীয় ফোরামে জমা দেয় সংগঠনটি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

সূত্র বলছে, ছাত্রদলের আংশিক কমিটি গঠনের পর সারাদেশের থানা-পৌর-কলেজ শাখার কমিটি গঠন তথা তৃণমূল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ১০টি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়।

এসব টিমের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের থানা মর্যাদার ১৭০০টি ইউনিটের (থানা-পৌর-কলেজ) মধ্যে ১৫০০টি শাখায় আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। এছাড়া ২৯টি ইউনিট কমিটি বর্তমানে সংগঠনটির দপ্তরে জমা রয়েছে। ৪২টি ইউনিটে কর্মিসভা হলেও টিম লিডাররা এখনো কমিটি জমা দেননি। ১০টি সাংগঠনিক টিমের মধ্যে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগীয় টিমের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ময়মনসিংহ ও রাজশাহী সাংগঠনিক টিমের কাজও প্রায় সম্পন্ন। বাকি টিমগুলোর কাজও শেষের পথে।

তবে ইউনিট কমিটি গঠনে কয়েকটি টিমের বিরুদ্ধে বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সেজন্য কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। পরে কয়েকটি টিম প্রধানকে পরিবর্তন করা হয়।

অন্যদিকে সারাদেশে জেলা মর্যাদার ১৪২টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ৭০ শতাংশ ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ২৩টির মতো ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে জেলায় আংশিক কমিটি গঠিত হয়েছিল। জেলা কমিটির মেয়াদ এক বছর হওয়ায় এগুলোর সবই এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। এছাড়া রাজবাড়ী, মাদারীপুর ও কুষ্টিয়া জেলায় বর্তমানে কোনো কমিটি নেই। এই তিন জেলায় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কার্যক্রম চলমান বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতার বক্তব্য, অধিকাংশ জেলার আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের চরম অনীহা রয়েছে। কেন্দ্র থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও কাজ হয় না। আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ হলে দ্রুত তা ভেঙে দিয়ে সেখানে নতুন কমিটি গঠন করা হতে পারে—এমন শঙ্কায় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে অনীহা তাদের।

কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করায় মনোনিবেশ করেছেন। এ নিয়ে তারা এখন জোরেশোরে কাজ শুরু করছেন। পূর্ণাঙ্গ কমিটির আকার হবে ২০১ কিংবা ২৫১ সদস্যবিশিষ্ট। পাশাপাশি দপ্তরে জমা থাকা জেলা ইউনিটের মর্যাদার ঢাকার আটটি বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি নিয়েও কাজ চলছে।

কমিটিগুলো হলো- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ। অনেক আগেই ঢাকা বিভাগীয় (ক) টিমের পক্ষ থেকে এসব শাখার প্রস্তাবিত আহ্বায়ক কমিটি কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সুপার ইউনিটখ্যাত এসব কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে ৬০ জনের আংশিক কমিটির নেতাদের একটি অংশ চায় নতুন কমিটি। তাদের বক্তব্য, কমিটি পুনর্গঠন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সাংগঠনিক অভিভাবক সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে অবশ্যই নতুন কমিটি গঠন করবেন। নতুন কমিটি গঠন করা হলে সেটি আহ্বায়ক কমিটি হবে নাকি পূর্ণাঙ্গ তা নিয়েও নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।

বর্তমান কমিটির সিনিয়র নেতারা চান আহ্বায়ক কমিটি, তবে তুলনামূলক জুনিয়র নেতারা চান পূর্ণাঙ্গ কমিটি। রাজিব-আকরাম কমিটি সারাদেশে এসএসসি ২০০০ সাল মানদণ্ড ধরে জেলা কমিটি গঠন করেছিল। খোকন-শ্যামল কমিটি এসএসসি ২০০৩ সালকে মানদণ্ড ধরে ৩৯টি জেলা মর্যাদার কমিটি গঠন করে। সামনের কমিটিতে নেতৃত্ব বাছাইয়েও ২০০৩ সালকে মানদণ্ড ধরার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

এখানেই আপত্তি ৬০ জনের আংশিক কমিটির সিনিয়র নেতাদের, তারা চান আহ্বায়ক কমিটি। আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হলে অপেক্ষাকৃত সিনিয়রদের নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

যদি আহ্বায়ক কমিটি ২০০০ সাল মানদণ্ড ধরে করা হয় তবে নেতৃত্বে আসতে পারেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ (২০০১), বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন (২০০১), শাহনেওয়াজ (২০০১), সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল (২০০২), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাসান (২০০৩), মাইনউদ্দীন রাজু (২০০২)।

যেহেতু খোকন-শ্যামল কমিটি ২০০৩ সালকে মানদণ্ড ধরে জেলা ও জেলা মর্যাদার কমিটি গঠন করেছেন সেহেতু পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০৩ সাল থেকে নেতৃত্ব বাছাইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি ২০০৩ সালকে মানদণ্ড ধরে কমিটি গঠিত হয়, সেক্ষেত্রে নেতৃত্বে আসতে পারেন রিয়াদ ইকবাল (২০০৩), তবিবুর রহমান সাগর (২০০৩), আরিফুল হক (২০০৪), নিজাম উদ্দীন রিপন (২০০৪), মাহবুব মিয়া (২০০৪), মারুফ এলাহী রনি (২০০৫), শ্যামল মালুম (২০০৪), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব (২০০৪), সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান (২০০৫)।

লাল্টু-হেলাল কমিটি পরবর্তী ছাত্রদলের চারটি কেন্দ্রীয় কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের সভাপতি হওয়ার নজির নেই। এরপরও সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। যদি স্বল্প সময়ের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, তবে বর্তমান সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনও আহ্বায়ক হতে পারেন। তিনিও দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে জানা গেছে।

এদিকে, আংশিক কমিটির বাইরের বড় একটি অংশ চায় বর্তমান কমিটি স্বল্প সময়ের জন্য হলে পূর্ণাঙ্গ করা হোক। এর মাধ্যমে বিরাট একটি অংশের রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে। নিয়মের বেড়াজালে ইউনিট কমিটিগুলো থেকে বাদ পড়া ছাত্রনেতাদের পরিচয় মিলবে। এ অংশের নেতারাও দফায় দফায় নিজেদের মধ্যে মিটিং করছেন। অতীতে তারা বিএনপি কার্যালয়ে অনশন কর্মসূচিও পালন করেন, যা সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে স্থগিত হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন জাগো নিউজকে বলেন, বর্তমান কমিটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পূর্ণাঙ্গ করা জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ আমরা যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন এ স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি, তাদের অনেকেই এখনো পদ ছাড়া পরিচয়বিহীন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় হওয়া দরকার। তারপরও আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, দীর্ঘ ২০ বছরের জঞ্জাল সরাতে সক্ষম হয়েছি আমরা। তৃণমূল পুনর্গঠন প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় আমরা বর্তমানে কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা ও ঢাকার বড় আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো দিতে পারবো।

ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, অবশ্যই সেটা সংগঠনের ভালোর জন্য নেবেন। সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একমাত্র সাংগঠনিক অভিভাবক সংগঠনের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে ছাত্রদল। বর্তমানে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, একমাত্র সাংগঠনিক অভিভাবকের সিদ্ধান্তই পারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে।

বর্তমান কমিটির সফলতা-ব্যর্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যেহেতু সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে আছি, আমি অবশ্যই দাবি করবো—বর্তমান কমিটি অতীতের সব কমিটি থেকে সফল। কিন্তু দল যখন আন্দোলনের ডাক দেবে, তখনই সফলতা বা ব্যর্থতা দৃশ্যমান হবে। তবে দীর্ঘদিন তৃণমূলের কমিটি গঠনে যে জট ছিল, আমরা সেই জট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছি। কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না করতে পারা ও ঢাকা মহানগরের সব দায়িত্বশীল ইউনিট-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি এখনো গঠন করতে না পারাকে সমালোচকরা ব্যর্থতা বলে দাবি করতে পারেন।

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, সারাদেশে থানা পদমর্যাদার ১৭০০টি ইউনিটের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০০টি ইউনিটে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এটা রেকর্ড। ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং টিম-জেলাসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটা সম্ভব হয়েছে। কিছু ইউনিটে সামান্য সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমন্বিত উদ্যোগে সমাধান করা হবে।

নতুন কমিটি প্রসঙ্গে খোকন-শ্যামল দুজনই বলেন, কমিটি গঠন-পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাকেই আমরা স্বাগত জানাবো।

জানতে চাইলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান গত দুই বছর ধরে ছাত্রদলকে নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় সুপার ফাইভের পাশাপাশি দশটি সাংগঠনিক টিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর নেতাদের নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। অর্থাৎ প্রায় ১০০ জন নেতা সম্পর্কে তিনি খুব ভালোভাবে জানেন। এদের দিয়ে তিনি সারাদেশের সাংগঠনিক কাজও করিয়ে নিয়েছেন। তাই এদের মধ্যে কার কতটুকু সততা, রাজনৈতিক যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আছে—তা তিনি সুস্পষ্টভাবে জানেন। অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে দুই বছর তিনি ছাত্রদলকেই সবচেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন। সুতরাং আহ্বায়ক কমিটি গঠনে তার বাইরে কারও কোনো পরামর্শ লাগবে না।

তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে সাবেক ছাত্রনেতাদের পরামর্শমূলক অংশগ্রহণ সুখকর নয়। সাবেক ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে এক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান নিজেই কমিটি গঠনে সক্ষম হবেন।

কেএইচ/এআরএ/এইচএ/এমআরএম

বর্তমান কমিটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পূর্ণাঙ্গ করা জরুরি বলে আমি মনে করি। কারণ আমরা যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন এ স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি, তাদের অনেকেই এখনো পদ ছাড়া পরিচয়বিহীন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় হওয়া দরকার। তারপরও আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন) তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সেই সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল

দীর্ঘ ২০ বছরের জঞ্জাল সরাতে সক্ষম হয়েছি আমরা। তৃণমূল পুনর্গঠন প্রায় সম্পন্ন হওয়ায় আমরা বর্তমানে কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা ও ঢাকার বড় আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটি নিয়ে কাজ করছি। আশা করি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সেগুলো দিতে পারবো

ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, অবশ্যই সেটা সংগঠনের ভালোর জন্য নেবেন। সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারা অনেক সময় নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একমাত্র সাংগঠনিক অভিভাবক সংগঠনের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে ছাত্রদল। বর্তমানে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি, একমাত্র সাংগঠনিক অভিভাবকের সিদ্ধান্তই পারে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে

ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান দুই বছর ধরে ছাত্রদলকে নিয়ে সরাসরি কাজ করছেন। কেন্দ্রীয় সুপার ফাইভের পাশাপাশি ১০টি সাংগঠনিক টিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলোর নেতাদের নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। অর্থাৎ প্রায় ১০০ জন নেতা সম্পর্কে তিনি খুব ভালোভাবে জানেন। এদের দিয়ে তিনি সারাদেশের সাংগঠনিক কাজও করিয়ে নিয়েছেন। এদের মধ্যে কার কতটুকু সততা, রাজনৈতিক যোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা আছে—তা তিনি সুস্পষ্টভাবে জানেন

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]