সরকারি চিনিকলে বিক্রির তিনগুণ লোকসান

সাঈদ শিপন
সাঈদ শিপন সাঈদ শিপন , জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:১৬ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

বছরে মাত্র ২০৮ কোটি টাকার চিনি বিক্রি হয়। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির লোকসানের পরিমাণ ৬০৬ কোটি টাকা। এ চিত্র শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিলের। বছরের পর বছর যে পরিমাণ বিক্রি হচ্ছে তার তিনগুণ বা তারও বেশি লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি বিক্রির প্রায় ছয়গুণ লোকসানের ঘটনাও ঘটেছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি আরেক চিনিকল জিল বাংলা সুগার মিলসের চিত্রও অনেকটাই একই। সবশেষ প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কোম্পানিটি ৩৬ কোটি টাকা বিক্রি করেছে। বিপরীতে লোকসান হয়েছে ৫৬ কোটি টাকা। শ্যামপুর সুগার মিলের মতো এ কোম্পানিটিও বছরের পর বছর বিক্রির চেয়ে বেশি লোকসান গুনছে।

শুধু শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এই দুই কোম্পানি নয়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এক ডজনের বেশি চিনিকল এভাবে বছরের পর বছর লোকসান গুণে আসছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চিনিকলগুলোর এ ধরনের লোকসানকে অস্বাভাবিক বলছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এভাবে লোকসান করছে। দীর্ঘদিন এভাবে লোকসান না গুণে সরকারের উচিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়া।

এদিকে লোকসানের কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ব্যয় বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকঋণ থাকায় প্রতি বছর পরিশোধ করতে হচ্ছে সুদ। সবকিছু মিলিয়ে এমন লোকসান হচ্ছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯-২০ হিসাব বছরে শ্যামপুর সুগার মিলের বিক্রির পরিমাণ ২০৮ কোটি ৮৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। বিপরীতে হিসাব বছরটিতে এই প্রতিষ্ঠানের কর-পরবর্তী লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬০৬ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ১৩১ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে লোকসান হয় ৯৩১ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে লোকসান হয় ৪৬৯ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ওই বছর বিক্রি হয় ১৪৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ২৩৪ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রির বিপরীতে লোকসান হয় ৩৪৮ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

একইভাবে জিল বাংলা সুগার মিল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে বিক্রি করে ৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা। এ বছর প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয় ৫৬ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার টাকা। আগের হিসাব বছর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি লোকসান করে ৬২ কোটি ৩৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। ওই সময়ে মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

এর আগে ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে লোকসান হয় ৪৮ কোটি ৪৯ লাখ ৩ হাজার টাকা। আলোচ্য সময়ে বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ১৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৮ কোটি ৩৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। বছরটিতে লোকসান হয় ২৬ কোটি ৬১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে লোকসান হয় ৩৩ কোটি ৭০ লাখ ১৮ হাজার টাকা। ওই বছর বিক্রির পরিমাণ ছিল ২২ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার টাকা।

তালিকাভুক্ত এই দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পঞ্চগড় চিনিকল, ঠাকুরগাঁও চিনিকল, সেতাবগঞ্জ চিনিকল, রংপুর চিনিকল, রাজশাহী চিনিকল, নর্থবেঙ্গল চিনিকল, নাটোর চিনিকল, পাবনা চিনিকল, জয়পুরহাট চিনিকল, কুষ্টিয়া চিনিকল, মোবারকগঞ্জ চিনিকল এবং ফরিদপুর চিনিকল বছরের পর বছর বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে।

এর মধ্যে পঞ্চগড় চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৪৭২ কোটি ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা লোকসান করে। এছাড়া ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৬২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫৪৫ কোটি ৮১ লাখ ৯০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৩৩৭ কোটি ৯৬ লাখ ১০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩০২ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।

ঠাকুরগাঁও চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৬৮৩ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা লোকসান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৭৯৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৭১৬ কোটি ১৪ লাখ ৮০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৪২৩ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৪১৭ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে।

সেতাবগঞ্জ চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে লোকসান করে ৪৮০ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৬২৬ কোটি ৭ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫৬১ কোটি ১৪ লাখ ২০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৪৫৯ কোটি ৮৬ লাখ এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।

রংপুর চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৫২৯ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৬০৮ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫১৩ কোটি ৩ লাখ ৬০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৩৮৬ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ২৬০ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে।

রাজশাহী চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে লোকসান করে ৮৯১ কোটি ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৮৩৯ কোটি ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৭৪৬ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৬২০ কোটি ১১ লাখ ৪০ হাজার ও ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৪১৭ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা লোকসান করে।

২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৮৬১ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে নর্থবেঙ্গল চিনিকল। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৯৪৫ কোটি ৮০ লাখ, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৭১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৬৮৬ কোটি ৩০ লাখ ৯০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৪৭৪ কোটি ৯৪ হাজার টাকা লোকসান করে।

নাটোর চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে লোকসান করে ৮০৮ কোটি ৯৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়াও ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৮৪১ কোটি ৫৯ লাখ ৭০ হাজার, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৬৯১ কোটি ২৯ লাখ ৫০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৫৫৫ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৪০৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।

পাবনা চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৭৫৪ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা লোকসান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৬০৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৬০৯ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৫২৭ কোটি ২৪ লাখ ৩০ হাজার ও ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩৭৭ কোটি ৬১ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে।

জয়পুরহাট চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৬০১ কোটি ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা লোকসান করে। এছাড়াও ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৭৬৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫৭০ কোটি ৭১ লাখ ১০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৪০৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭০ হাজার ও ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৪৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।

কুষ্টিয়া চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৬১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোকসান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৬১৭ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫৬৬ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৫২২ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩৮২ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে।

মোবারকগঞ্জ চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে লোকসান করে ৮৬৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এছাড়া ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৯২৫ কোটি ৩৬ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৬৪৫ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৩৫৯ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩৬১ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা লোকসান করে প্রতিষ্ঠানটি।

ফরিদপুর চিনিকল ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ৬৩৮ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা লোকসান করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে ৭০৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৫৭৭ কোটি ৯২ লাখ ৭০ হাজার, ২০১৬-১৭ হিসাব বছরে ৫৮৩ কোটি ৫৫ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০১৫-১৬ হিসাব বছরে ৩৮২ কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা লোকসান করে।

বিক্রির কয়েকগুণ বেশি লোকসান হওয়ার বিষয়ে শ্যামপুর সুগার মিলের কোম্পানি সচিব শাফিনাজ উম্মে রুমানা জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অপারেটিং এক্সপেন্স (কোম্পানির পরিচালন ব্যয়) অনেক বেশি। এক কেজি চিনি উৎপাদন করতে যে খরচ হয়, তার চেয়ে অনেক কমে বিক্রি করা হয়। তাছাড়া কোম্পানির ব্যাংক লোন আছে। এজন্য প্রতি বছর সুদ যোগ হচ্ছে। আরেকটা কারণ, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত আছে। যে কারণে আমরা পার্শ্ববর্তী মিলে সরবরাহ করেছিলাম। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে এই লোকসান।

জিল বাংলা সুগার মিলের কোম্পানি সচিব আব্দুল গফুর মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, উৎপাদন খরচ আছে। সরকারি লোন আছে, ব্যাংকের লোন আছে অনেক। এসব কিছু মিলিয়েই আমাদের লোকসান হয়েছে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বিক্রির তিনগুণ বেশি লোকসান- এটা অস্বাভাবিক। সবগুলো পুরোনো কারখানা। আখের কোয়ালিটি খারাপ, কাজেই চিনি উৎপাদন কম হয়। আবার সময়মতো বিক্রি করতে পারে না। নানা রকম দুর্নীতি, অদক্ষতা মিলে এই পরিস্থিতি। আমি মনে করি এগুলো সব বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জাগো নিউজকে বলেন, লোকসানি চিনিকলগুলোকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) মাধ্যমে বিকল্প শিল্পায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে বেজা বা বেপজার যৌথ উদ্যোগে বিদেশি বিনিয়োগ বা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হতে পারে। এখানে যদি কেউ চিনি কারখানা করতে চায় সেটাও করা যেতে পারে। কিন্তু শুধু চিনি কারখানার ওপর নির্ভরশীল না থেকে (চিনিকল যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে) অ্যাগ্রো প্রসেসিং, ফুড প্রসেসিং এলাকার ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের কার্যক্রমের দিকে যাওয়া যায়।

এমএএস/কেএসআর/এএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]