‘পোশাকের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই’


প্রকাশিত: ০২:০৬ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০১৬

‘যখন ছোট ছিলাম, স্কুলের মাঠেই সেনাবাহিনীর কাপ্তাই ব্রিগেডের কার্যক্রম চলতো। আগ্রহ নিয়ে তাদের এই কার্যক্রম নিয়মিত দেখতাম। তাছাড়া বাসার সামনেই ছিলো কাপ্তাই সার্কেল এএসপির অফিস। তখন থেকেই রাষ্ট্রীয় পোশাকের প্রতি একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তাই হয়তো আজ আমি এখানে।’

জাগো নিউজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব জানান আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিশনাল-এসপি) আলমগীর হোসেন শিমুল। জীবনের অনেক চড়াই-উতরাই পেড়িয়ে আজ তিনি একজন গর্বিত পুলিশ অফিসার।

‘পোশাকের’ প্রতি আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এতে মানুষের অনেক কাছে যাওয়া যায়। সে কারণেই আগ্রহের জন্ম।’

বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ২০০৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন তিনি।

তবে ‘পোশাকের’ আগ্রহ বাস্তবায়নে একবার হোঁচটও খেয়েছেন। ২০০৮ সালে যখন ২৭তম বিসিএস বাতিল হয়ে যায় পুলিশ হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ব্যাংকার হয়ে যান এই কর্মকর্তা। সে বছরের মার্চে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করেন।
 
৮ মাস পরেই পুলিশে যোগদানের সুখবর পান এই ‘ব্যাংকার’। নভেম্বরের ১১ তারিখে ব্যাংকের চাকরির ইস্তফা দিয়ে ১৩ তারিখে পুলিশে যোগদান করেন। প্রথমে র্যাব-১ এ অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর (এডি) হিসেবে ছিলেন। এরপর ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বরে যোগ দেন এপিবিএনে। দায়িত্ব পালন করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

এর আগে ১৯৯৯ সালে জীবনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে রাজধানী ঢাকায় পা রাখেন এই এএসপি। ৯৯’ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইআর) স্নাতক ও স্নাতকত্তোরে পড়াশুনা করেন তিনি।

Alomgir

ভারতের ইন্দোরে স্পেশাল উইপন্স অ্যান্ড ট্যাক্টিক্সের উপর আড়াই মাসের ট্রেনিং ও অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির উপর যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের দেয়া একটি ট্রেনিংয়েও অংশ নেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। ট্রেনিংগুলো তার পেশাগত দক্ষতাকে অনেকাংশে বৃদ্ধি করেছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান? উত্তর জানতে চাইলে আলমগীর হোসেন বলেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে আমি সারাদেশে জনকল্যাণমূলক পুলিশিং দেখতে চাই। যেমনটা এয়ারপোর্ট এপিবিএন করে থাকে। আমি চাই দেশে এমন পুলিশিং হোক যাতে মানুষ পুলিশকে তার বন্ধু ভাবে, পুলিশকে ভয় না পায়।’

এপিবিএনের প্রায় পুরো সময় বিমানবন্দরে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। জানেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তার খুঁটিনাটি। যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরে আর কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, বিমানবন্দরে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয় এর সবই যাত্রীদের জন্য। তবে যাত্রীরা বাংলাদেশে পা রেখেই অনেক দুর্ভোগের শিকার হন। যেমন; লাগেজ পেতে বিড়ম্বনা, ট্রলি পাওয়া না পাওয়া নিয়ে। অনেক সময় লাগেজ পেতে দীর্ঘক্ষণ লেগে যায়। এতে যাত্রী ও বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ বাড়ে। অথচ সিভিল অ্যাভিয়েশন এবং বাংলাদেশ বিমান আন্তরিক হলে খুব সহজেই এসব দুর্ভোগের সমাধান হতে পারে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

তিনি বলেন, যাত্রীদের লাগেজ পাওয়া তথা গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের মতো উন্নয়নমূলক তথা অটোমেশনের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকে। এসব সমস্যা সমাধানে সিভিল অ্যাভিয়েশনের দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়। আমি চাই যাত্রীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে সিভিল অ্যাভিয়েশন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিক।

পুলিশের এই কর্মকর্তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম। তবে জন্মস্থান রাঙ্গামাটির কাপ্তাই। বাবা কাপ্তাইয়ের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে, স্ত্রী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর।

পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে আলমগীর হোসেন শিমুল আইভারিকোস্টে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যাচ্ছেন। এজন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এআর/এসএইচএস/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।