যার তার হাতে আর অস্ত্র নয়
ব্যক্তিগত অস্ত্রের ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কিত একটি সমন্বিত নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আগামী রোববার (১০ এপ্রিল) খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করতে সভা ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামানা খান কামাল জাগো নিউজকে বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহারের একটি নীতিমালা আছে। যেটি ২০১০ সালে করা হয়। তবে তাতে কিছু সংযোজন করা জরুরি। তাই সমন্বিত একটি নীতিমালা তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে সূত্র বলছে, নীতিমালাটি বিস্তারিত। এখানে ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হবে। অন্যদিকে, অস্ত্রের ব্যবহার কোন কোন ক্ষেত্রে করা যাবে সেটিও সুনির্দিষ্ট করে বলা থাকবে।
জানা যায়, অস্ত্রের লাইসেন্স নীতিমালায় জেলা প্রশাসকদের কাছে ক্ষমতা পুনর্বহাল থাকলেও অস্ত্র নিতে আগ্রহী প্রার্থীর সাক্ষাৎ প্রক্রিয়ায় একটি নির্ধারিত পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। যাতে সারাদেশে একই পদ্ধতি মানা হয়।
বিদ্যমান নীতিমালাতে শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নেয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন নীতিমালাতে সেটি প্রাতিষ্ঠান পর্যায়ে কিভাবে করা যায় সেটি রাখা হয়েছে। আবার প্রতিষ্ঠানের আওতায় কারা আসবে সেটিও স্পষ্ট থাকবে নীতিমালাতে। অর্থাৎ কোন কোন প্রাতিষ্ঠান এই ক্যাটাগরিতে অস্ত্রের লাইসেন্স পাবেন সেটি বলা আছে।
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জাগো নিউজকে বলেন, আমরা অস্ত্রের লাইসেন্স, ব্যবহার ও নবায়নে আরো বেশি সর্তকতা আনতে চাই। কেউ যাতে অস্ত্রের অন্যায় ও যথেচ্ছা ব্যবহার না করতে পারে সেটি বন্ধ করার সময় এসেছে। আবার অনেকে ব্যক্তিগত লাইসেন্স এর অস্ত্র বাণিজ্যিক ভাবে ব্যবহার করছেন। সব মিলিয়ে আমরা আর যার তার হাতে ব্যক্তিগত লাইসেন্সের অস্ত্র তুলে দিতে চাই না।
তবে বিদ্যমান নীতিমালাতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়ার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র বলছে, রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে নীতিমালাতে উপস্থাপন করা হবে। গত এক বছর ধরে নীতিমালাটি নিয়ে কাজ করে একটি খসড়া প্রণয়ন করে কমিটি। এখন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে কমিটি অনুমোদন করলে সেটি পরবর্তী ধাপে যাবে। তোলা হবে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।
গত বছর সংসদ সদস্য পিনু খানের পুত্র বখতিয়ার রনি রাজধানীর ইস্কাটনে দুই রিকসাচালককে গুলি করে হত্যা করেন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার জড় ওঠে।
এসএ/এসকেডি/এআরএস/এবিএস