মোস্তাফিজকে ফেরাতে ভারতীয় বোর্ডের ফোন, বিসিবি বলছে সত্য নয়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৬:১১ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৬

এই যখন অবস্থা, তখন আজ বিকেল গড়াতেই সিলেটে নতুন গুঞ্জন। যার সারমর্ম হলো, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মোস্তাফিজকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে আইপিএলে ফিরিয়ে নিতে চাচ্ছে। দেশের একটি শীর্ষ সংবাদপত্রে এমন খবর প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচুর লেখালেখি।

প্রতিটি লেখারই উপজীব্য হলো, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে মোস্তাফিজকে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল বিসিসিআই। বলা হচ্ছে, বিসিবি প্রধানের কাছে বিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্তা ফোন করে মোস্তাফিজকে সর্বোচ্চ ও কঠোর নিরাপত্তা দিয়ে খেলার প্রস্তাব দেন। বিসিবি সভাপতি নাকি অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে ফোন রেখে দেন।

আসল ঘটনা কী? তবে কি বিসিসিআইয়ের বিলম্বিত বোধোদয় হলো? এর আগে তারা (বিসিসিআই) যে নিজ দেশের হিন্দু উগ্রবাদী ধর্মীয় সংগঠনগুলোর দাবি ও হুমকির মুখে আইপিএলে মোস্তাফিজকে না খেলানোর নির্দেশ দিয়েছিল, সেটার প্রায়শ্চিত্ত করার চেষ্টা বিসিসিআইয়ের?

অনেকেই তাই ধরে নিয়েছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কোনো সূত্র থেকেই বিসিসিআই কর্তার বিসিবি প্রধানের কাছে ফোনের খবরের সত্যতা মেলেনি।

এ ব্যাপারে বিসিবির প্রধান, সিইও নিজামউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেও ওই ফোনের সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা কেউ স্বীকার করেননি, বিসিসিআই থেকে বিসিবিতে এমন কোনো ফোন এসেছিল।

বিসিবি সিইও জাগো নিউজকে জানিয়েছেন, ‘বিসিসিআই থেকে কেউ ফোন করেছিলেন আমাদের (বিসিবিতে), আমি তা জানি না। বলতে পারেন, আমার জানামতে এমন কোনো ফোন আসেনি।’

প্রায় একই কথা বলেন তিন পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম, ইফতিখার রহমান আর আমজাদ হোসেন। প্রত্যেকের একই কথা, ‘কই জানি না তো! বিসিসিআই থেকে এমন কোনো ফোন এলে, কোনো না কোনোভাবে জানতাম। হয়তো এটা নিয়ে কথা হতো। কিন্তু এমন কোনো খবর জানি না। শুনিনি।’

এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনিও অস্বীকার করেন। লেখেন, ‘ফলস (মিথ্যা)।’

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার পক্ষে বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে আইসিসির কাছে। এখন আইসিসি ও বিসিবির কথা চালাচালি হবে। আইসিসি একটা বলবে, বাংলাদেশ তার ব্যাখ্যা দেবে। কিংবা বাংলাদেশের কোনো পয়েন্ট থাকলে তা উপস্থাপন করা হবে। তারপর সব আলোচনা-পর্যালোচনার পর আইসিসি তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। ধারণা করা হচ্ছে, এতে এক-দুদিন লেগে যেতে পারে।

এআরবি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।