৪ মাস পর ওয়ানডেতে ফিরছে বাংলাদেশ, যে রেকর্ড জাগাচ্ছে আশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ এএম, ১১ মার্চ ২০২৬

চার মাসেরও বেশি সময় পর ওয়ানডে ফরম্যাটে রঙিন পোশাকে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আজ (বুধবার) মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বছরের প্রথম ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।

২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। সেই আসরে সরাসরি কোয়ালিফাই করার দৌড়ে বাংলাদেশের সামনে প্রতিটি ওয়ানডে সিরিজই এখন একেকটি ‘অগ্নিপরীক্ষা’। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও ভালো করে জানেন, বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে এখন থেকেই প্রতিটি ম্যাচে পয়েন্ট তোলা কতটা জরুরি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে মিরাজ বলেন, ‘আমাদের এ বছর অনেক ওয়ানডে ম্যাচ আছে। ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে আমরা খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি, আর যা-ও খেলেছি তা ছিল অনেক লম্বা গ্যাপে, যা মানিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন ছিল। যেহেতু এবার অনেক ম্যাচ আছে, তাই আমরা খুব ভালোভাবে পরিকল্পনা সাজাতে পারব। এখানে র‍্যাঙ্কিংয়েরও একটা বড় বিষয় আছে। তাই প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

দলের পরিবর্তনের বিষয়ে মিরাজ বেশ সচেতন। সিনিয়র খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে ফরম্যাটে অতীতে আমাদের দারুণ সাফল্য ও একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন ছিল। আগে অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে খেলায় তারা সেই প্যাটার্নটা ভালো বুঝতেন। তবে এখন সেই সিনিয়ররা নেই, তাই বর্তমান দলের খেলোয়াড়দেরই সব দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়ানডেতে প্রতিটি পরিস্থিতি সামলানো এবং মানিয়ে নেওয়া শিখতে হবে।’

বিশেষ করে ব্যাটারদের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এই সিরিজে আমাদের ব্যাটারদের অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। ওয়ানডে এমন একটা খেলা যেখানে প্রতিটি সিচুয়েশন হ্যান্ডেল করা এবং প্রতিটি পজিশনে কীভাবে খেলতে হবে তা জানা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের যাত্রা যেহেতু এখন থেকেই শুরু হচ্ছে, তাই আমরা পরিকল্পনা করছি কীভাবে ধাপে ধাপে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। আমরা এখনই খুব দূরের চিন্তা না করে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। আশা করি দিন শেষে ভালো একটি ফলাফল আসবে।’

অন্যদিকে, পাকিস্তান দল এবার বাংলাদেশে এসেছে বড় এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। তাদের স্কোয়াডে রয়েছে ৬ জন নতুন মুখ, যাদের মধ্যে আজ অন্তত তিনজনের অভিষেক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা আছে।

তবে তরুণ এই দলকে একদমই হালকাভাবে নিচ্ছেন না মিরাজ। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পাকিস্তান দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার এসেছে এবং তারা পারফর্ম করেই সুযোগ পেয়েছে। তবে বড় সুবিধা হলো আমরা নিজেদের মাঠে খেলছি এবং কন্ডিশন সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা আছে। সবাই দায়িত্ব নিয়ে খেললে ভালো কিছু সম্ভব।’

প্রতিপক্ষকে সম্মান দিলেও নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে আত্মবিশ্বাসী পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো দলই নিজেদের কন্ডিশনে সেরা। বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে, সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও হারিয়েছে। তবে আমরাও প্রস্তুত। দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে যে ধারাবাহিকতা আমরা দেখিয়েছি, তা এখানেও বজায় রাখতে চাই।’

পরিসংখ্যানে দুই দলের লড়াইয়ে পাকিস্তান যোজন যোজন এগিয়ে। ৩৯টি ওয়ানডের ৩৪টিতেই জিতেছে তারা, বাংলাদেশের জয় মাত্র ৫টিতে।

তবে আশার কথা হলো, টাইগারদের এই ৫ জয়ের ৪টিই এসেছে ঘরের মাঠে। ২০১৫ সালে সবশেষ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার সুখস্মৃতিও আছে বাংলাদেশের।

এসকেডি/এমএমআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।