মোসাদ্দেকের ৪৯ বলে সেঞ্চুরি, ম্লান করে দিল গাফফার সাকলাইন
তানজিম সাকিবও একটু-আধটু ব্যাটিং পারেন। মাঝে-মধ্যে বড় শট খেলার সামর্থ্য রাখেন। সাইফউদ্দিন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও পেস বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটা ভালোই পারেন। সব সময় না হলেও মাঝে-মধ্যে তার প্রমাণও দিয়েছেন।
কিন্তু এ দু’জন থাকার পরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে ডাকা হলো আব্দুল গাফফার সাকলাইনকে। কেন এ লম্বা ও সুঠামদেহী পেস বোলিং অলরাউন্ডারকে দলে নেওয়া? সে প্রশ্ন ছিল কারও কারও মনে।
নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ম্যাচটি ধুয়ে-মুছে না গেলে হয়তো অভিষেক হয়ে যেত এ তরুণের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকে বিলম্ব হলো, তাতে কী?
ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে ঠিকই চেনাতে শুরু করেছেন গাফফার সাকলাইন। কেন তাকে সম্ভাবনাময় পেস বোলিং অলরাউন্ডার ভাবা হয়? আজ ৭ মে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন গাফফার সাকলাইন। তার একার নৈপুণ্যের কাছেই হারল আবাহনী। শেষ মুহূর্তে তার ১১ বলে করা ২৫ রান করে আবাহনীকে ২ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব।
বৃহস্পতিবার ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে ২৭ ওভারের ম্যাচে সিটি ক্লাবের দরকার ছিল ২১০ রানের। অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ৪৯ বলে করা ঝোড়ো শতক আর জিসান আলমের হাফ সেঞ্চুরিতে পাওয়া ২০৯ রানের ছোট পুঁজি নিয়েও লড়াই করে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছিল আবাহনী। কিন্তু গাফফার সাকলাইন শেষ দিকে আবাহনীর স্বপ্ন ভেঙে দিলেন।
মাত্র ১১ বলে ২৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে আবাহনীকে হারিয়ে দারুণ এক জয় পেল মিরপুর সিটি ক্লাব। সাকলাইন যখন উইকেটে যান, তখন শেষ ৬ ওভারে সিটি ক্লাবের দরকার ৫২ রান। ওই সময়ে তিনটি ছক্কা ও দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বেড়ে যাওয়া ওভারপ্রতি লক্ষ্যমাত্রা ছোঁয়ার কাজটি সহজ করে দেন গাফফার সাকলাইন।
২২তম ওভারে আবাহনী অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের এক ওভারে একটি করে ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকানোর পর ২৫তম ওভারে সৌম্য সরকারের বলে আবার ছক্কা হাকাতে গিয়ে মোসাদ্দেক সৈকতের হাতে ডিপ মিডউইকেটে অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে পরপর ২ বলে দুটি বিশাল ছক্কা হাকিয়ে সিটি ক্লাবকে জয়ের খুব কাছে (মাত্র ৪ রান দূরে) নিয়ে যান গাফফার সাকলাইন।
আর ওই ছোট অথচ ঝড়ো ইনিংসটিতেই সর্বনাশ নেমে আসে চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে। প্রথম দিন ঢাকা লেপার্ডসের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় খেলায়ও ২ উইকেটের হারের তেতো স্বাদ নিল আগেরবারের চ্যাম্পিয়নরা।
বৃষ্টির কারণে ২৭ ওভারের এ ম্যাচে বেশির ভাগ ব্যাটার ব্যর্থ হন। আবাহনীর পক্ষে সেঞ্চুরি করেন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ৫০ বলে ১০ ছক্কা আর ৬ বাউন্ডারিতে ১০১ রানের হারিকেন ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। আর ওপরে জিসান করেন ৪৪ বলে ৫৪।
কিন্তু ২০৯ রানের পুঁজিটা শেষ পর্যন্ত কম বলে প্রমাণ করেন সিটি ক্লাবের তরুণরা। অধিনায়ক মেহেদী মারুফ ৫৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলে শুভ সূচনা করেন। তারপর তিনটি আক্রমণাত্মক ইনিংস উপহার দিয়ে দল জেতান তিন তরুণ- গাজী মোহাম্মদ তাহজিবুল ইসলাম (২৮ বলে সমান ৩টি করে চার ও ছক্কায় ৪০ রানে নট আউট), আনামুল হক আনাম (৭ বলে ৩ ছক্কায় ২২) আর গাফফার সাকলাইন (১১ বলে ৩ ছক্কায় ২৫)।
এআরবি/আইএইচএস/