নাহিদ রানারা কি উইকেট দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন?
উইকেটে ঘাস আছে। তার মানে পিচে প্রাণ আছে। পেসারদের জন্য আশাবাদী হওয়ার মত প্রেক্ষাপট। শেরে বাংলার ঘাসযুক্ত উইকেটকে নিজেদের অনুকুল ভেবেই কি নাহিদ রানা, তাসকিন আর এবাদতরা একটু বেশি আবেগতাড়িৎ ও উত্তেজিত হয়ে বোলিং করেছেন? খেলা দেখা যে কেউ অমনটাই ভাবছেন।
সত্যিই কি বাংলাদেশের তিন ফাস্ট বোলার উত্তেজিত হয়ে নিজেদের করণীয় কাজগুলো ঠিকমত করে উঠতে পারেননি? বাংলাদেশের প্রধান সহকারি প্রশিক্ষক মোহাম্মদ সালাউদ্দীনও তা মনে করেন।
তার অনুভব, উইকেটে ঘাস থাকলে ফাস্ট বোলাররা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে পড়ে এবং লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেলে। আমাদের ভালো জায়গায় বল করা খুব জরুরী ছিল।
উইকেটে ম্যুভমেন্ট থাকায় বোলাররা হয়তো ভেবেছিল জোরে বল করে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করবে; কিন্তু ভালো জায়গায় বল করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিং পরিকল্পনা কি ছিল? মেহেদী হাসান মিরাজের আউট হওয়া নিয়ে কিছু বলবেন?
উত্তরে সালাউদ্দীন জানান, আমাদের লক্ষ্য থাকে অন্তত পাঁচজন ব্যাটার যেন বড় ইনিংস খেলতে পারে। শট খেলতে গিয়ে আউট হতেই পারে, এটা নিয়ে খুব বেশি আলোচনার কিছু নেই। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান লাইন আপে ৭জন বাঁ-হাতি। বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট কি টিম পাকিস্তান একাদশে সাতজন বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান দলে থাকা নিয়ে টিম মিটিংয়ে কী আলোচনা করেছে?
সালাউদ্দীনের জবাব, আমি সাধারণত টিম সিলেকশন প্রক্রিয়ায় সরাসরি থাকি না। তবে আমার মনে হয় রাইট-হ্যান্ড বা লেফট-হ্যান্ড কম্বিনেশনের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভালো জায়গায় বল করা। আমরা আজ ভালো জায়গায় বল করতে পারিনি এটাই মূল সমস্যা ছিল। সামনের তিনদিনে বাংলাদেশের পরিকল্পনা কী?
সালাউদ্দীনের কথা শুনে মনে হলো, তিনি উইকেটের চরিত্র ঠিক বুঝতে পেরেছেন। এ উইকেটে স্পিনারদের জন্য এখনো কিছু নেই। ম্যাচে ফিরতে হলে পেসারদের হাত ধরেই ফিরতে হবে। এই অনুভব থেকে টাইগার সহকারি কোচের আশা, তারা উইকেট থেকে শিক্ষা নিয়ে যতটা সম্ভব দ্রুত ম্যাচে ফেরার পরিকল্পনা আটতে চান।
তাই মুখে এমন কথা, এই উইকেটে বোলারদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। আমরা একটা সেশন ভালো করিনি, এটা সবাই বুঝতে পারছে এবং এটি দ্রুত ফিক্স করা সম্ভব। আমাদের ফাস্ট বোলাররা অভিজ্ঞ এবং তারা আমাদের অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন, তারা নিশ্চয়ই ঘুরে দাঁড়াবেন। বর্তমানে স্পিনারদের জন্য খুব বেশি কিছু নেই কারণ বল এখনও ঘুরছে না।
এআরবি/আইএইচএস/