প্রতিমন্ত্রী নুর
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতো মানুষের অভাব প্রতিটি পদে অনুভূত হচ্ছে
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জনস্বাস্থ্য চিন্তাবিদ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রতি শুধু ব্যক্তিগত নয়, গোটা জাতিরই গভীর ঋণ রয়েছে। তার মতো মানুষের অভাব আজ প্রতিটি পদে অনুভূত হচ্ছে।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ইতিহাস চর্চার মধ্য দিয়েই ভবিষ্যৎ নির্মাণের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়। ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন আড়ম্বরবিমুখ মানুষ। সাধারণ মানুষের দেওয়া চাল, ডাল কিংবা সবজি দিয়েই তিনি অতিথি আপ্যায়নের আয়োজন করতেন। বড় বাজেটের পরিবর্তে তিনি মিতব্যয়িতাকে গুরুত্ব দিতেন।
তিনি বলেন, ফজলে হাসান আবেদ ও মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী মানুষ। আজ বেঁচে থাকলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে সরাসরি প্রফেসর ইউনূসকে প্রশ্ন করতেন।
দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নিজস্ব ভাবনার কথাও তুলে ধরেন নুরুল হক। তিনি বলেন, ডা. চৌধুরী প্রায়ই প্রাদেশিক সরকার পদ্ধতির কথা বলতেন, যেন বিভিন্ন অঞ্চলের প্রশাসকদের মধ্যে কাজের প্রতিযোগিতা তৈরি হয় এবং সাফল্যের মূল্যায়ন সহজ হয়।
রাজনৈতিক সংকটের সময় তার ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি যখন মামলা ও দমন-পীড়নের মুখে আন্দোলন সংগঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছিল, তখন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আন্দোলন সফল করতে একটি সমান্তরাল প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। কোভিড-১৯ মহামারির সময় তার প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ত্রাণ কার্যক্রম ছিল দলমত নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত। বিভিন্ন ছাত্র ও শ্রমিক সংগঠনকেও তিনি সংকটকালে সহায়তা করেছেন।
এমআরএএইচ/এমকেআর