নিজ শহরেও অনুজ্জ্বল চিটাগং ভাইকিংসের বিদায়

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:৪৯ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:১৮ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭

দিনটি কেমন যাবে, তা নাকি সকাল দেখেই বোঝা যায়। এটা মূলতঃ একটা প্রবচন। তবে অনেক প্রবাদ বাক্যের মতো স্বতঃসিদ্ধ নয়। কখনো কখনো ভুল প্রমাণ হয়। এ যেমন হলো এবারের বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বে।

২৪ নভেম্বর রাতে মনে হচ্ছিলো, বন্দর নগরী হবে স্বাগতিক চিটাগাং ভাইকিংসের সাফল্যের স্বর্গ। সিলেট ও ঢাকায় সুবিধা করতে না পারার চিটাগাং ভাইকিংস নিজ শহরে যাত্রা শুরু করেছিল সিলেট সিক্সার্সকে ৪০ রানে হারিয়ে।

ওই জয়ের পর ভাবা হচ্ছিল, সিলেট সিক্সার্সের মতো নিজ শহরে সাফল্যের রথ সচল থাকবে চিটাগং ভাইকিংসের। কিন্তু বাস্তব চিত্র তার উল্টো।

বন্দর নগরীতে এসে প্রথম দিন জিম্বাবুইয়ান সিকান্দার রাজার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০০ পেরিয়ে (৫ উইকেটে ২১১) বড় জয়ের পর সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, লুক রনকি আর তাসকিন আহমেদরা কোথায় যেন হারিয়ে গেলেন। তারপর হারের বৃত্তে আটকে পড়া। পর পর চার খেলায় হেরে পয়েন্ট টেবিলে তলানিতে ।

দল যেমনই হোক না কেন , নিজ শহরে সমর্থনপুষ্ট হলে ভালো খেলার পথ সুগম হয়। আস্থা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিপক্ষর ওপর প্রভাব বিস্তার করা এবং সাফল্যর নাগালও পাওয়া যায়-তার জ্বলন্ত উদাহরণ সিলেট সিক্সার্স।

কাগজে কলমে সেরা চার দলে ছিল না। কিন্তু নিজ শহরে শুরু থেকেই দূর্বার নাসিরের দল। ৪ নভেম্বর আসরের প্রথম ম্যাচেই চমক। যাত্রা শুরু চ্যাম্পিয়ন ও হট ফেবারিট ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৯ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে। পরের খেলায় আবার জ্বলে ওঠা। সিলেটের দ্বিতীয় শিকার আরেক ফেবারিট কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। কাগজে কলমের অন্যতম সেরা লাইন আপের কুমিল্লা ৪ উইকেটে হার মানে সিলেটের কাছে।

সেখানেই শেষ নয়। তৃতীয় খেলাতেও রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ৩৩ রানের জয়ে জয়রথ সচল। অবশেষে ৮ নভেম্বর রাতে থামে সিলেটের জয়রথ। টানা তিন ম্যাচ জয়ের পর চতুর্থ খেলায় গিয়ে খুলনা টাইটান্সের কাছে হার।

সেখানে চিটাগাং ভাইকিংসের অবস্থা ঠিক উল্টো। যাত্রা শুরু ২১১ রানের বিরাট স্কোর গড়ে সিলেট সিক্সার্সকে ৪০ রানে হারিয়ে। কিন্তু তারপর পরই সব তালগোল পাকিয়ে ফেলা। পর পর চার খেলায় হার।

প্রথমে রাজশাহী কিংসের কাছে ৩০ হেরে ছন্দপতন। তারপর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩ উইকেটে পরাজয়। এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কাছে ৯ উইকেটে পর্যুদস্ত এবং সবশেষে আজ রাজশাহী কিংসের সঙ্গে ফিরতি সাক্ষাতে আবার ৩৩ রানে হেরে বসা।

সাফল্যের পূর্ব শত হলো ভালো খেলা। মাঠের পারফরমেন্সটা উজ্জ্বল থাকা। চিটাগাংয়ের তা যে নেই , তা বলা যাবেনা। রান তোলার শীর্ষ দশে আছেন চিটাগাং ভাইকিংসের তিনজন ( লুক রনকি, ৯ খেলায় ২৭৩ রান করে তৃতীয়) , সিকান্দার রাজা (৯ খেলায় ২৩৫ রান করে ছয় ) ও এনামুল হক বিজয় ( ৯ খেলায় ২০৬ রান করে দশম)।

যে দলের তিন তিনজন ব্যাটসম্যান রানে আছেন, সে দলের অবস্থা এত করুণ হবার কথা নয়। কারণ দুটি। এক, বাকিদের ব্যাটে একদমই রান নেই। আরেক, বিদেশী স্টিয়ান ফন জিল ৫ খেলায় ১৬০ রান করলেও আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি।

এ+ ক্যাটাগরির পারফরমার ও প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ সৌম্য সরকারের অবস্থা বেশ খারাপ (৯ খেলায় মোট ১৫২ রান। সর্বোচ্চ ৩৮)। আর দুই বোলিংয়েরও ধার কম। পেসার তাসকিন আহমেদ (৯ ম্যাচে ১৩ উইকেট) ছাড়া আর কেউ বল হাতে সমীহ জাগাতে পারেননি।

উইকেট শিকারে খুলনা টাইটান্সের আবু জায়েদ রাহির (১৫ উইকেট) পরই তাসকিনের স্থান। তবে ওভার পিছু রান দেয়ায় ( ৯.৬১) তাসকিন সেরা পাঁচে নেই। চিটাগাং ভাইকিংসের আর একজন বোলারও শীর্ষ দশে নেই। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল আছেন ১৪ নম্বরে। তার উইকেট সংখ্যা ৯।

মোদ্দা কথা, কেউ কেউ বিচ্ছিন্ন পারফরমেন্স করছেন। কিন্তু টিম পারফরমেন্স হচ্ছে না। এমন কোন পারফরমার নেই, যিনি একা টেনে নিতে পারেন বা নিচ্ছেন। তাই নিজ শহরের ভক্ত ও সমর্থকদের হতাশায় ডুবিয়ে তলানিতে চিটাগাং ভাইকিংস।

এখনো দুটি খেলা বাকি আছে। পয়েন্ট টেবিলের যা অবস্থা, তাতে ঐ দুই ম্যাচ জিতলেও চিটাগাংয়ের ভাগ্য বদলের সম্ভাবনা খুব কম। তিনটি দল এখন পর্যন্ত ১০ টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। তার মধ্যে চিটাগাং আছে। দলটির পয়েন্ট মোটে ৫।

বাকি দুই খেলায় জিতলেও চিটাগংয়ের পয়েন্ট দাঁড়াবে ৯। খুলনা টাইটান্স (১০ খেলায় ১৩ পয়েন্ট) , কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (৮ খেলায় ১২) , ঢাকা ডায়নামাইটস (৯ খেলায় ১১) ও রংপুর রাইডার্স (৯ খেলায় ১০)। কাজেই সেরা চারে আর জায়গা পাবার কোনোই সম্ভাবনা নেই চট্টগ্রামের।

এআরবি/এমএমআর/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :