ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের সঙ্গী ‘আত্মবিশ্বাস’

ক্রীড়া প্রতিবেদক ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৪১ পিএম, ১৩ মার্চ ২০১৮

বদলে যাওয়া নতুন এক বাংলাদেশ। ‘এক ম্যাচ’ই কিভাবে একটি দলকে বদলে দিতে পারে, তা বাংলাদেশ দলকে না দেখলে বোঝা যাবে না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে রেকর্ড গড়া জয়ের পর বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। যেই সামনে পড়ুক না কেন, এখন আর মাঠে নামার আগে হারবে না। অন্তত লড়াই তো করতে পারবে।

বাংলাদেশের এই মানসিকতা কিছুদিন আগেও ছিল। ভয়-ডরহীন ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ গত কয়েক বছর ধরে; কিন্তু মাত্র দুটি সিরিজই কি না আত্মবিশ্বাস একেবারে তলানীতে এনে ঠেকিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজ, টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কার কাছে পর্যদুস্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের অবস্থা দাঁড়িয়েছিল একেবারে তথৈবচ।

সেই মানসিকতা থেকে বের হওয়ার জন্য একটা দাওয়াই তো প্রয়োজন ছিল। একে তো প্রধান কোচ নেই। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বিদায় নেয়ার পর এখনও একজন ভালোমানের কোচ খুঁজে বেড়াচ্ছে বিসিবি। এই সিরিজে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কোর্টনি ওয়ালসের ওপরই দায়িত্ব অর্পন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি।

তারওপর নেই নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বাম হাতের আঙ্গুলে আচমকা যে আঘাত লেগেছিল, সেখানে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হাতের সেই আঘাতে ভুগে চলেছেন সাকিব। তার না থাকাতে ভুগতে হচ্ছিল বাংলাদেশকেও।

সব মিলিয়ে যখন বাংলাদেশের অবস্থা খুবই করুন, তখন টনিক হিসেবে কাজ করবে এমন একটি জয়ের খোঁজেই ছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। সেই টনিকটাই এসে গেলো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। তাদের মাটিতে ২১৫ রান তাড়া করে তাদেরই বিপক্ষে জয় মানে বিশাল কিছু। যে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ, সেটা নেই ভারত, পাকিস্তান এমনকি শ্রীলঙ্কারও। উপমহাদেশের কোনো দলই এত বড় স্কোর তাড়া করে জিততে পারেনি।

সব কৃতিত্ব একাই বলতে গেছে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীমের। ৩৫ বলে ৭২ রানের হার না মানা বিশাল ইনিংস খেলে তিনিই বাংলাদেশকে অবিশ্বাস্য জয়টি উপহার দিয়েছেন। সঙ্গে তামিম-লিটন যেভাবে সূচনা এনে দিয়েছিলেন, মাঝে সৌম্য, মাহমুদউল্লাহরা যেভাবে ইনিংসকে টেনে নিয়ে গেলেন, তাতে বাংলাদেশ দলের মধ্যে সেই হারানো আত্মবিশ্বাসই আবার ফিরে এসেছে বলা যায়।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেরদিন তাই বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর কণ্ঠেও শোনা গেলো বেশ আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ। নিজেদের কী ঘাটতি রয়েছে সে দিকে নজর মাহমুদউল্লাহর। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেন, ‘সফর শুরুর আগেই আমরা একটা কথা বলেছি, আমাদের বাংলাদেশ ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে হবে। আসল বিষয় হলো, আমাদের স্মার্ট হতে হবে। আমার মনে হয়, আমাদের এই দলটির সামর্থ্য আছে, আমাদের যথেষ্ট স্মার্ট হতে হবে। স্মার্ট হতে হবে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নেয়ার ক্ষেত্রেও। নির্দিষ্ট বোলারকে মোকাবেলা করার আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলে নিতে হবে। এই জিনিসগুলো আমাদের মাঠে প্রয়োগ করতে হবে। ’

নিজেদের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট খেলার দিকেই তাগিদ মাহমুদউল্লাহর। তিনি বলেন, ‘খেলতে হবে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অব ক্রিকেট। কারণ আমার মনে হয়, সম্ভবত আমাদের দলে তাদের মতো পাওয়ার হিটার নেই, এটা সত্য। এটা আমাদের মানতেই হবে। এজন্যই আমাদের স্মার্ট হতে হবে, যাতে নিজেদের সামর্থ্যটা মাঠে ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারি।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এতবড় জয়ের পর উইনিং কম্বিনেশনে হাত দেবে না হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ, সেই একাদশই হয়তো থাকছে ভারতের বিপক্ষেও। তার মানে ওপেনিংয়ে তামিম-লিটন। ওয়ানডাউনে সৌম্য সরকার। টু ডাউনে মুশফিক, এরপর মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির, মিরাজরা ব্যাটিংয়ে নামবেন। বোলিংয়ে তিন পেসার রুবেল, মোস্তাফিজের সঙ্গে থাকছেন তাসকিন আহমেদ। স্পিনার মিরাজের সঙ্গে নাজমুল ইসলাম অপুই থাকছেন হয়তো।

টুর্নামেন্টে এখনও বাংলাদেশ রয়েছে পয়েন্ট তালিকার একেবারে তলানীতে। ২১৫ রান তাড়া করে জিতলেও রান রেটের হিসেবে বাংলাদেশ তিন নম্বরে। ৩ ম্যাচের মধ্যে ২টিতে জিতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রইল ভারত। ২ ম্যাচ হারলেও দুই নম্বরে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে ফাইনালের পথে অনেকদুর এগিয়ে যাবে টাইগাররা।

সে ক্ষেত্রে রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার শেষ ম্যাচটি হয়ে যাবে পুরোপুরি ফাইনাল। সেদিনই নির্ধারিত হবে, কোন দুটি দল যাবে ফাইনালে। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কা জিতে গেলে তিন দলেরই পয়েন্ট হবে সমান এবং রান রেটের হিসেবে দুই ফাইনালিস্ট নির্ধারিত হবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে যদি ভারত জিতে যায়, তাহলে তাদের ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যাবে। সে সঙ্গে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা শেষ ম্যাচটিও হয়ে যাবে ফাইনাল। কারণ, ওই ম্যাচে হারলেই বিদায়। যে জিতবে সে যাবে ফাইনালে। এ কারণে, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটটি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় জিততেই হবে।

আইএইচএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :