ইংল্যান্ডের জার্সিতে এ যেন বিশ্ব একাদশ!

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:৩৯ পিএম, ২৪ মে ২০১৯

ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে হট ফেবারিটের তকমা গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ মহাযজ্ঞকে সামনে রেখে নির্ধারিত দিনের আগে চূড়ান্ত দলও ঘোষণা করে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)।

যেখানে প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে আসে তিন পরিবর্তন। ইসিবির পূর্ব ঘোষিত দল থেকে বাদ পড়ে যান অ্যালেক্স হেলস, ডেভিড উইলি ও জো ডেনলি। তাদের পরিবর্তে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পান জেমস ভিন্স, জোফ্রা আর্চার ও লিয়াম ডসন।

এদিকে ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত দল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাদের দলে রয়েছে মোট ৭ জন অভিবাসী ক্রিকেটার। যার মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানও। এ ছাড়াও বাকি ৬ জন হলেন মঈন আলি, আদিল রশিদ, বেন স্টোকস, জেসন রয়, টম কুরান ও জোফ্রা আর্চার।

স্কোয়াডের ১৫ জনের মধ্যে প্রায় অর্ধেক ক্রিকেটারই ভিনদেশি হওয়ায় অনেকেই মজা করে ইংলিশ স্কোয়াডকে নামকরণ করেছে বিশ্ব একাদশ হিসেবে। এবার এক নজরে এই ৭ ক্রিকেটারের আসল পরিচয় জেনে নেয়া যাক:

ইয়ন মরগ্যান
২০১৫ সালের পর ২০১৯ বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ইয়ন মরগ্যান। অথচ মরগ্যান তার প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছেন জন্মভূমি আয়ারল্যান্ডের হয়ে, ২০০৭ সালে। ডাবলিনে জন্ম নেয়া এই ক্রিকেটার খেলেছেন আয়ারল্যান্ড অনূর্ধ্ব ১৩, ১৫ ও ১৭ দলের হয়েও।

২০০৭ বিশ্বকাপের পর প্রথম ইংল্যান্ড দলে ডাক পান মরগ্যান। মে মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে ইংল্যান্ড দলের ১২তম খেলোয়াড় হিসেবে আসে মরগ্যানের নাম। এখন টেস্ট দলে না খেললেও, সংক্ষিপ্ত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন মরগ্যান।

মঈন আলি
৩১ বছর বয়সী মঈন আলি ইংল্যান্ডে জন্ম নিলেও তার পরিবারের আদি নিবাস পাকিস্তানের কাশ্মীরে। মঈনের দাদা পাকিস্তান ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়ে এক ব্রিটিশ নারীকে বিয়ে করেন, পরে সেখানেই স্থায়ী হয়ে যান। ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হয় মঈনের। এরপর থেকে দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। ব্যক্তি জীবনে প্রচণ্ড ধার্মিক এই মুসলিম ক্রিকেটার।

আদিল রশিদ
মঈন আলীর মতো আদিল রশিদের পরিবারও পাকিস্তানের কাশ্মীর থেকে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমায়। ইংল্যান্ড দলে আদিলও মঈনের মতো বেশ গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। সতীর্থ মঈনের মতো ব্যক্তি জীবনে ধর্ম-কর্মের চর্চাও করেন রশিদ। ৩১ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার এখন পর্যন্ত ৮৮ ম্যাচ খেলে শিকার করেছেন ১৩২ উইকেট। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে রশিদের অভিষেক হয় ২০১৫ সালে।

ENgland-jersey

বেন স্টোকস
১৯৯১ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে জন্ম নেন বেন স্টোকস। তার বাবা স্বনামধন্য রাগবি খেলোয়াড় ও বর্তমানে কোচিং পেশার সঙ্গে জড়িত থাকা জেরার্ড স্টোকস। ইংল্যান্ডের ওয়ার্কিং টাউন রাগবি ক্লাবের কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর জেরার্ড স্বপরিবারে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান।

২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে অভিষেক হয় বেনের। তবে দলে নিয়মিত হন ২০১৩ সালের অ্যাশেজ থেকে। একসময় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়কের ভূমিকাও পালন করেছিলেন বেন। তবে বর্তমানে ২৭ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার সুপরিচিত তার বিধ্বংসী ব্যাটিং ও কার্যকরী মিডিয়াম পেস বোলিংয়ের জন্য। আইপিএলের সবশেষ আসরে সবথেকে দামি বিদেশি খেলোয়াড়ও ছিলেন স্টোকস।

জেসন রয়
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ওপেনার জেসন রয়ের জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্বপরিবারে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য চলে এসে ক্রিকেটে মনোনিবেশ করেন। তিনি তার বয়সভিত্তিক ক্রিকেট পুরোটাই কাটিয়েছেন সারে ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে। ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করার পর ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য ডাক পান রয়। এখন পর্যন্ত ৭৬ ওয়ানডে খেলে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৯৩৮ রান।

টম কুরান
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া টমের তিন পুরুষ ক্রিকেটার। তার দাদা কেভিন কারান রোডেশিয়ার (বর্তমানে জিম্বাবুয়ে) প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন। তার বাবা কেভিন ম্যালুম কারান খেলেছেন জিম্বাবুয়ের জাতীয় দলের হয়ে।

এদিকে তার ভাই স্যাম কুরানও খেলছেন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে। ২৪ বছর বয়সী টম ব্যাটিং-বোলিং উভয় বিভাগেই সমান পারদর্শী। জাতীয় দলের হয়ে ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে তার ঝুলিতে রয়েছে ২৭ উইকেট। অন্যদিকে ৪৪.৫ গড়ে ১৭৮ রান করেছেন তিনি।

জোফ্রা আর্চার
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়া জোফ্রার বাবা ব্রিটিশ হলেও তার জন্ম ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ বার্বাডোজে। হাতে ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেও ২০২২ সালের আগ পর্যন্ত তাকে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনুমতি দেয়া হচ্ছিল না।

যদিও ২০১৮ সালের নভেম্বরে ক্রিকেট বোর্ডের আইন শিথিল করে জাতীয় দলে খেলার জন্য সুযোগ করে দেয়া হয় আর্চারকে। থ্রি-লায়ন্সদের হয়ে মাত্র দুটি এক দিনের ম্যাচ ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলেই বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন আর্চার। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলের হয়েও নিয়মিত খেলেছেন তিনি।

এসএস/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :