স্পিনাররাই বাংলাদেশের মূল শক্তি : জোশি

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা টনটন থেকে
প্রকাশিত: ১১:১৭ পিএম, ১৩ জুন ২০১৯

ক্রিকেটারদের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ। কেউ মিডিয়ার সামনে এসে কথাও বলছেন না। খুব স্বাভাবিকভাবে বিপাকে পড়ে গেছেন বিশ্বকাপ কভার করতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকরা। প্র্যাকটিস নেই, কেউ কথাও বলছেন না- এরকম অবস্থায় সাংবাদিকদের অবস্থা যে ‘ঢাল নাই তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারে’র মত।

অগত্যা আজ টনটন সময় সাত সকালে টিম ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন আর মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমামের শরণাপন্ন টনটনে উপস্থিত সাংবাদিকরা।

‘ভাই ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফের কেউ পরের ম্যাচ ও অবশিষ্ট বিশ্বকাপ নিয়ে কথা না বললে তো মুশকিল। বাংলাদেশ দলের অবস্থা কী? ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা কেমন? তারা কি চাঙা-ফুরফুরে? না শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পন্ড হওয়ায় খানিক মনক্ষুণ্ণ- হতাশ? আফসোস-অনুশোচনায় ভুগছেন?’- এগুলো জানতে হলে ক্রিকেটারদের সাথে কথা না বলে তাদের শরীরী ভাষা না দেখলে ধারণা পাওয়া কঠিন।

ওদিকে দেশে কোটি মানুষ উন্মুখ অপেক্ষায় আছেন, কখন টনটন থেকে জাতীয় দলের তরতাজা খবর যাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রংপুর, যশোর, বগুড়াসহ সারা বাংলাদেশে।

সবার উৎসাহ-আগ্রহের কথা চিন্তা করেই সাত সকালে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন ও মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাামের সামনে দাবী নিয়ে উপস্থিত হওয়া। তারা সকাল ১০ টার অল্প সময় আগে জানালেন, প্র্যাকটিস বন্ধ আর ক্রিকেটাররা ছুটির আমেজে। হেড কোচ স্টিভ রোডস, ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জিও ঘুরতে বেরিয়ে আছেন। একান্তই কোচিং স্টাফের কারো সাথে কথা বলতেই হলে, বলতে হবে স্পিন বোলিং কোচ সুনিল জোশির সঙ্গে।

সেই কথাবাতা বলায়ও রাজ্যের ঝক্কি। বাংলাদেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিকস আর অনলাইন মিলে প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক টাইগারদের টিম হোটেল ‘হলিডে ইনে’র লবির বাইরে ঠায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করার পর, কথা বলতে ওপর থেকে নিচে নামলেন সুনিল জোশি।

ওদিকে হোটেলের নিরাপাত্তা কর্মীরা আগেই শর্ত জুড়ে দিলেন, হোটেল লবিতে দাড়িরয় কথা বলা যাবে না। কথা বলতে হবে লবির বাইরে প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে। আবার সেখানেও বেশি সময় নেয়া যাবে না, পাছে হোটেলের অন্য গ্রাহকদের ঢুকতে কোন সমস্যা হয়। সাকুল্যে তিন থেকে সাড়ে মিনিট সংবাদ মাধ্যমর সাথে কথা হলো সুনিল জোশির।

স্পিন কোচ হিসেবে বাংলাদেশের স্পিনারদের পারফরমেন্সে সন্তুষ্ট জোসি। তার মূল্যায়ন, ‘স্পিনারদের ভাল বোলিং করতে দেখা কোচ হিসেবে আমার জন্য খুব সুখের। সাকিব আর মিরাজ এখন পর্যন্ত বেশ ভাল বল করছে। এমনকি মোসাদ্দেকও কার্যকর অবদান রাখছে।’

 

Joshi

স্পিনাররা কেমন কার্যকর ভূমিকা রাখেছে, তার প্রমাণ দিয়ে স্পিন কোচ জোশি বলেন, ‘আমরা ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে দেখেছি, দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান জেসন রয় আর বেয়ারস্টো খেলছিলেন তখন। ঠিক তখন দুই ডানহাতির বিপক্ষেও বোলিং করতে এসেও দারুণ বল করেছিলেন মিরাজ আর মোসাদ্দেক।’

টাইগারদের স্পিন কোচ আরও বলেন, ‘এবারের বিশ্বকাপে বোলারদের বোলিং করাটাই চ্যালেঞ্জ। সেখানে আমাদের স্পিনাররাও সন্দেহাতীতভাবেই ব্যতিক্রম। তারা চ্যালেঞ্জিং সময়েও খুব ভাল বোলিং করছে।’

জোশির অনুভব, ‘স্পিনাররাই বাংলাদেশের বোলিংয়ের মূল শক্তি। আবহাওয়া আর পিচ যেমনই থাকুক না কেন, স্পিনারদের ভুমিকা রাখতেই হচ্ছে।’

প্রশ্ন রাখা হয়েছিল, স্পিনারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তাটা কী এবং ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আপনি স্পিনারদের কাছ থেকে কী আশা করছেন? জোশীর হেয়ালিপূর্ণ জবাব, ‘স্পিনাররা জানে, আমার বার্তাটি কী (হাসি)। তবে আমি বিষয়টি গোপন রাখবো। ওটা দলের একটা গোপন বিষয়।’

আবহাওয়া, বৃষ্টি, কখনো টানা খেলা, আবার ছয় দিন বিরতি- বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন? এমন প্রশ্নর জবাবে তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে আামাদের খেলতেই হবে। বিশ্বকাপের সূচি যেমন হয়েছে, আমাদের তা মেনে নিয়েই খেলতে হবে। কাজেই এর বিরুদ্ধে লড়াই করার কোন সুযোগ নেই। এখন আমাদের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন- যতটা সম্ভব ভাল খেলা এবং সামনের ম্যাচ গুলো জেতা।’

কিন্তু দলের ভেতরে খবর ও অবস্থা কী? ক্রিকেটাররা কি মনের দিক থেকে সতেজ, ফুরফুরে ও চাঙা আছেন? জোশির উত্তর, ‘ক্রিকেটাররা খুব ভাল আছে। তাদের প্রত্যেকের প্রাণশক্তি প্রচুর। তারা ভাল খেলতে মুখিয়ে আছে। আমরা মাঝে টানা খেলেছি। তাই ক্রিকেটারদের একটু হলেও বিশ্রাম দরকার ছিল। গতকাল ও আজ দুদিন ছুটি থাকায় ক্রিকেটাররা নিজেদের চাঙা করার ফুসরত পাবে। তারা আবার সতেজ ও ফুরফুরে হয়ে উঠবে।’

এআরবি/এসএএস

আপনার মতামত লিখুন :