বোমা ফাটালেন ডি ভিলিয়ার্স

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:০৮ পিএম, ১২ জুলাই ২০১৯

বরাবরই বড় দল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপ ছাড়া অন্য যে কোনো খেলায় তাদের হারাতে হলে ঘাম ঝরে প্রতিপক্ষর। তবে বড় টুর্নামেন্ট এলে কি যেন হয় প্রোটিয়াদের। এবারের বিশ্বকাপেও শোচনীয়ভাবে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে।

এবার ৯ ম্যাচে ৩ জয় ও ৫ হারে ৭ পয়েন্ট নিয়ে আসরের প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দল নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রোটিয়ারা।

বিশ্বকাপের এক বছর আগে হুট করেই অবসরের ঘোষণা দেন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের সেরা তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার মাঝপথেই গণমাধ্যমে আসে অন্য খবর। বিশ্বকাপ নাকি খেলতে চেয়েছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। কিন্তু তাকে 'না' করে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড, দলটির অধিনায়ক ও কোচ।

এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর পুরো ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনার শিকার হতে থাকেন ডি ভিলিয়ার্স। সাধারণ দর্শকদের থেকে শুরু করে কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা পর্যন্ত কেউই তার সমালোচনা করা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারেনি। এই বিষয়টি নিয়ে এতদিন মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও এবার বোমাই ফাটালেন প্রোটিয়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।

ডি ভিলিয়ার্সের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বিশ্বকাপ খেলার জন্য কোন আবেদনই করেননি তিনি। বরং তাকে প্রস্তাব করা হয়েছিল বিশ্বকাপে খেলার।

এ সম্পর্কে ডি ভিলিয়ার্সের ভাষ্য, ‘অবসর ঘোষণা করার দিন আমাকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তুমি কি বিশ্বকাপ খেলতে চাও? আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমি তাদের অফার করিনি। তখন তড়িঘড়ি করেই আমি বললাম-হ্যাঁ, আমি খেলতে চাই। ঘটনার পরে আমার মনে হলো আমার 'না' বলাই উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ঘটনার সপ্তাহ, মাস পেরিয়ে যাবার পরেও আমার সঙ্গে ক্রিকেট বোর্ডের যোগাযোগ হয়নি। আমি তাদের কল করিনি এবং তারা আমাকে কল করেনি। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম এবং প্রোটিয়ারাও সময়ের সঙ্গে সামনে এগিয়ে চলছিল। ফাফ ডু প্লেসিস ও কোচ ওটিস গিবসনের অধীনে পাওয়া অসাধারণ সাফল্য উপভোগ করতে লাগল তারা।’

ডি ভিলিয়ার্সের অবসরে যাওয়ার খবর প্রকাশ হবার পর অনেকেই তাকে 'স্বার্থপর' বলে অভিহিত করতে থাকেন। কিন্তু ভিলিয়ার্স নিজে খুব ভালোভাবেই জানতেন যে, কোনো ভুল করেননি। অবসর নিয়ে কোনো আক্ষেপও নেই তার।

প্রোটিয়া দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘এর ফলস্বরূপ অনেকেই আমাকে স্বার্থপর, অহংকারী হিসেবে তুলে ধরেছে। কিন্তু আমার বিবেক একদম স্পষ্ট ছিল। উপযুক্ত কারণেই আমি অবসর নিয়েছি। আমাকে শুধু জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আর আমি তাতে 'হ্যাঁ' বলেছি। আমার কোনো সমস্যা নেই। এবং কারও প্রতি রাগান্বিতও নই আমি।’

ডি ভিলিয়ার্সের বাদ পড়ার পেছনে বর্তমান অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের হাত ছিল, এমন গুঞ্জনও শোনা যায়। এ সম্পর্কে ডি ভিলিয়ার্সের মন্তব্য, ‘ফাফ আর আমি সেই স্কুল জীবন থেকে বন্ধু। বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার দুুদিন আগেও আমি তার সঙ্গে চ্যাটিং করেছিলাম। আইপিএলে আমি খুব ভালো ফর্মে ছিলাম। এক বছর আগে যা বলেছিলাম, সেটিই পুনরায় বলি যে-যদি দরকার হয়, তবে আমাকে পাওয়া যাবে।’

ভিলিয়ার্স যোগ করেন, ‘আমার কোনো চাহিদা ছিল না। টুর্নামেন্টের আগে আমি বিশ্বকাপ দলে ঢুকতে জোর করারও চেষ্টা করিনি। দলে জায়গা পাব সে আশাও করিনি। আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো ইস্যু ছিল না, অবিচারের ব্যাপারও না।'

এএইচএস/এমএমআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :