‘বিশ্বের সেরা ১০ ব্যাটসম্যানের একজন হতে চাই’

আরিফুর রহমান বাবু
আরিফুর রহমান বাবু আরিফুর রহমান বাবু , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:৪৩ পিএম, ০৯ মে ২০২১

টেস্ট অভিষেক হয়েছিল সেই ২০১৭ সালে, নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। তারপর অন্য ফরম্যাটেও জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এবার শ্রীলঙ্কা সফরে কথা বলেছে নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট।

এবারের লঙ্কা সফরের প্রথম টেস্টে ক্যান্ডির পাল্লেকেল্লেতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে। করোনার কারণে শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে প্রথম সেই শতরানের পর মিডিয়ায় সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি। বিসিবির দেয়া ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেছেন বাঁহাতি টপঅর্ডার শান্ত।

দেশে ফেরার পর আজ (রোববার) জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বললেন রাজশাহীর এ উদ্যমী যুবা। সেখানে নিজের ক্যারিয়ারের অনেক না বলা কথা বলেছেন শান্ত। আসুন শোনা যাক সেই কথোপকোথন:

জাগো নিউজ : আজকে মা দিবস। নিজের মাসহ জগতের সকাল মা নিয়ে আপনার কোন বক্তব্য?

শান্ত : মাকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাইলে আসলে সারা দিন পার হয়ে যাবে। আমার কাছে মনে হয় যে মা যদি না থাকত, তাহলে আমার জীবনটাই অগোছালো হয়ে যেত। মা আমার জীবন গুছিয়ে দিয়েছেন। কিভাবে একজন মানুষ গোছানো হতে পারে, জীবনের সব কিছু সাজানো গোছানো হয়- আমার মা না থাকলে বুঝতাম না। মায়ের আদর, ভালবাসা আর স্নেহমাখা শাসন- সব মিলে আমি।

জাগো নিউজ : আজকের শান্তর পেছনে মায়ের ভূমিকা কতখানি?

শান্ত : আমি যেটা বললাম, আমার লাইফে আমি যতখানি গোছানো হয়েছি, তার পুরো কৃতিত্বই আমার মায়ের। আমার জন্য কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ? কিভাবে জীবন চালাতে হবে তা মা-ই আমাকে শিখিয়েছেন। তার মায়া, স্নেহ, ভালবাসার পাশাপাশি জীবনমুখী শিক্ষাও আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে ফিরে আপনি কি ঢাকায়ই অবস্থান করছেন?

শান্ত : না! আমি রাজশাহী চলে এসেছি। প্রথমে বলা হয়েছিল শ্রীলঙ্কা থেকে ফেরার পর আমাদের সেলফ কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। তাই আমি সরাসরি রাজশাহীতে আমাদের বাড়িতে চলে এসেছি। আমাদের প্র্যাকটিস যেহেতু অফ, বলতে পারেন ছুটিতেই চলে এসেছি।

জাগো নিউজ : তাহলে আপনাদের আবার কবে অনুশীলনে যোগ দিতে হবে?

শান্ত : আমাদের ১৬ মে যোগ দিতে হবে। সেদিন আবার কোভিড টেস্ট হবে। কোভিড টেস্টে নেগেটিভ হলে অনুশীলনে যোগ দিতে পারব।

জাগো নিউজ : রাজশাহী শহরেই বাসা আপনার?

শান্ত : আমার বাসা শহর থেকে ১০-১৫ মিনিটের ড্রাইভ।

জাগো নিউজ : বাসায় কে কে আছেন?

শান্ত : রাজশাহীতে আমার বাবা, মা, বোন ও স্ত্রীর সঙ্গে নিজেদের বাড়িতেই আছি।

জাগো নিউজ : আপনার নিজেকে মেলে ধরতে একটু সময় লেগেছে। অবশেষে শ্রীলঙ্কায় প্রথম টেস্টে পেয়েছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত শতরানের দেখা। সেই শতকটি কি আপনার বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে? নাকি সেঞ্চুরির আগেও আপনার নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা ছিল?

শান্ত : যদিও সাফল্য তেমন ছিল না, তারপরও আমি কখনই আস্থা ও বিশ্বাস হারাইনি, আত্ববিশ্বাস ছিল। একটা বিশ্বাস ছিল যে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হতে পারব। তবে ব্যাপারটা হলো, এই পর্যায়ে একটা সাফল্য আসলে তখনকার অনুভূতি হয় ভিন্ন। মনে হয়, আমি যেটা চেয়েছি সেটা করলাম। তখন আপনাআপনি একটা অন্যরকম আস্থা চলে আসে, বিশ্বাসটা বেড়ে যায়। এখন আত্মবিশ্বাস আরও ভালো হয়েছে যে, আমি এই পর্যায়েও ভাল করতে পারব। মোদ্দা কথা, আত্মবিশ্বাস আগেও ছিল, তবে রান করার পর এখন সেটা আরও ভালো হয়েছে।

জাগো নিউজ : কিন্তু ক্যান্ডির পাল্লেকেল্লেতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বড় সেঞ্চুরির পর আর রান পাননি, চটজলদি আউট হয়ে গেছেন। সেটাকে কিভাবে দেখছেন?

শান্ত : আমার কাছে মনে হয়, রান করলে অনেক বেশি খুশি হওয়া আর রান না করলে অনেক বেশি মন খারাপ- ঐ জায়গায় আমি এখন আর নেই। আমার কাছে মনে হয় প্রতিটি ম্যাচ একদম ফ্রেশ, প্রতিটি দিন একদমই নতুন। যেদিন রান করেছি, সেদিন খুশি হয়েছি। যতটুকু দরকার, ঠিক ততটুকুই খুশি হয়েছি। আবার যে দুই দিন পারফরম করিনি, সেদিনও ততটুকুই মন খারাপ ছিল। বাড়তি কিছু মনে হয়নি।

একদিন রান হবে, একদিন হবে না। আমি তা নিয়ে হাপিত্যেশ করার বদলে কম রানে আউট হওয়ার ভিডিও ক্লিপ দেখে তা নিয়ে কাজ করছি। কী ভুল করেছি, কোথায় সমস্যা হয়েছে? তা শুধরে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছি। আমার মনে হয় সেঞ্চুরির পরের ইনিংসগুলো আরও ভাল হতে পারত। এখন লক্ষ্য একটাই, সামনে সুযোগ পেলে আরও বড় কিছু করার। চেষ্টা থাকবে, ধারাবাহিকভাবে বড় রান করার।

জাগো নিউজ : এবার কি ওয়ানডেতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে মুখিয়ে আছেন?

শান্ত : খুব বিনয়ের সঙ্গে বলছি, এই সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়া শব্দটার প্রতি আমার একটু আপত্তি আছে। আমি প্রমাণ করার কথা ভাবি না। আমি সুযোগের অপেক্ষায় আছি। সুযোগ পেলে ভাল কিছু করতে চাই। তবে করতেই হবে, না হলে আমার সামর্থ্যের প্রমাণ রাখা যাবে না- ঠিক এভাবে ভাবতে চাই না। আমি সুযোগ পেলে ভাল খেলতে চাই। অতীতে যে ত্রুটিগুলো হয়েছে , সেগুলো সংশোধন করে ভাল কিছু করার ইচ্ছে রাখি। যা যা করলে ভাল হবে, সেগুলো নিয়ে মেন্টালি, ফিজিক্যালি কাজ করছি। আশা করছি যদি সুযোগ আসে এ সিরিজে ভাল কিছু হবে।

জাগো নিউজ : আচ্ছা আপনি কোন নির্দিষ্ট পজিশনে খেলতে পছন্দ করেন?

শান্ত : নির্দিষ্ট কোন পজিশন নেই। তবে আমি ওপেন না হয় তিন নম্বরে খেলতে পছন্দ করি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমি ঘরের ক্রিকেটে ওপেনই করি। এছাড়া ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে আমি তিন নম্বরে খেলতে পছন্দ করি। এটা আমার পছন্দের জায়গা। তবে টিম কম্বিনেশন ও স্ট্র্যাটেজির কারণে অন্য কোথাও খেলতে হলে খেলব। যেমন অনূর্ধ্ব-১৯ এ আমি পাঁচ নম্বরেও খেলেছি। শেষ ৬-৭ মাস আমি এগুলো নিয়ে কাজ করেছি। যাতে যেকোন পজিশনে ব্যাটিং করতে পারি। তবে আমার পছন্দের জায়গা সবসময় টপঅর্ডার।

জাগো নিউজ : ক্যারিয়ার শেষে শান্ত নিজেকে কোথায় দেখতে চায়?

শান্ত : সত্যি বলতে, শুধু দেশের ভেতরে না, আমার লক্ষ্যটা অনেক বড়। আমি বিশ্ব ক্রিকেটে একজন শীর্ষ ক্রিকেটার হতে চাই। ভাল ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার খুব ইচ্ছে আমার। জানি না, আমার এ কথাকে কে কিভাবে নেবে, আমার স্বপ্ন হলো, আমি বিশ্বের সেরা ১০ জন টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানের একজন হতে চাই। সেলক্ষ্যে কষ্ট করছি, বাড়তি ঘাম ঝরাচ্ছি।

জাগো নিউজ : আপনার আদর্শ ক্রিকেটার কে?

শান্ত : আসলে আমার সে অর্থে আদর্শ কেউ নেই। কারো খেলা অনুসরণ করি না। তবে সাকিব ভাইকে খুব ভাল লাগে। আমি সাকিব ভাইয়ের অনেক কিছু নেয়ার চেষ্টা করি। তার প্র্যাকটিসের ধরন এবং তিনি কিভাবে নিজেকে মেইনটেইন করেন- সবকিছুই নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করি। ছোটবেলা থেকে সাকিব ভাইয়ের মত হতে চাই।

জাগো নিউজ : শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে টার্গেট কী?

শান্ত : দলের জন্য প্রতি ম্যাচে কন্ট্রিবিউট করা, দলকে কার্যকর কিছু দেয়া। সেটা ঠিক কী? নির্দিষ্ট কোন কিছুই না। দলের দরকারের সময় যা হলে উপকার হবে তেমন কিছু। সেটা ১০ রানের একটি কার্যকর ইনিংসও হতে পারে। আবার সেঞ্চুরি করে, না হয় একটি ভাল ক্যাচ নিয়ে কিংবা একটি রানআউট করে। মানে দলের কাজে আসে এবং দল উপকৃত হয়- এমন কিছু করার ইচ্ছে রাখি।

এআরবি/এসএএস/এমকেএইচ

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]