ভালভের্দের হ্যাটট্রিক, সিটিকে উড়িয়ে দিল রিয়াল
উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে সহজ জয় তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। বুধবার সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিকে ৩-০ ব্যবধানে হারায় স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের আগে বার্নাব্যুতে সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তার আবহ ছিল। রিয়ালের নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া এখনো পুরোপুরি পরীক্ষিত নন, দলটি টানা দুটি লিগ ম্যাচ হেরেছে এবং গত সপ্তাহে সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের একটি ডিফ্লেক্টেড গোলে কোনোমতে জয় পেতে হয়েছে।
তবে ভালভের্দের অসাধারণ তিন গোলই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে বহু প্রতীক্ষিত এই শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রিয়ালকে শক্ত অবস্থানে বসিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হ্যাটট্রিক করা প্রথম উরুগুইয়ান ফুটবলার হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন।
ম্যাচ শেষে ভালভের্দে বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য। এমন রাতের স্বপ্ন সব ফুটবলারই দেখে। আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, তারা আমাকে ইতিবাচক থাকতে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কোচিং স্টাফ এবং যারা আমাদের সমর্থন করে তাদেরও ধন্যবাদ, যদিও মৌসুমটা কঠিন ছিল। আজ আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। অনেক দিন পর এমনভাবে একটি ম্যাচ উপভোগ করলাম ।’
ম্যাচের ২০তম মিনিটে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে প্রথম গোলটি করেন ভালভের্দে। গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মাকে পাশ কাটিয়ে নিখুঁত স্পর্শে বল ম্যানসিটির জালে জড়ান তিনি।
এর সাত মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভালভের্দে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস পেয়ে এগিয়ে গিয়ে নিজের তুলনামূলক দুর্বল বাঁ পায়ে নিচু শটে গোল করেন উরুগুইয়ান এই ফুটবলার।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের সেরা গোলটি করেন তিনি। ব্রাহিম দিয়াজের চিপ পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মার্ক গুয়েহির বাড়ানো পা টপকে ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন ভালভের্দে।
দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি পেয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটাই নির্ধারিত হয়ে গেছে এবং শেষ বাঁশি পর্যন্ত সিটি খুব বেশি চাপ তৈরি করতে পারেনি।
আগামী মঙ্গলবার ম্যানচেস্টারের ইত্তিহাদ স্টেয়িামে দ্বিতীয় লেগে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল। সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইলে পেপ গার্দিওলার দলের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে তাদেরকে।
স্পেনের রাজধানীতে ইংলিশ ক্লাবগুলোর জন্য এটি ছিল হতাশাজনক দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তি। মঙ্গলবার টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৫-২ গোলে হারিয়েছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।
বার্নাব্যুতে বুধবার যদিও ম্যাচের শুরুটা ভালোই করেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। আন্তোনি সেমেনিও শুরুতেই থিবো কুর্তোয়ার দিকে একটি শট নেন। জেরেমি ডোকু চঞ্চলতার সাথে দু’বার গোলমুখে বিপজ্জনক ক্রস করেন। নিকো ও’রেইলি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান এবং বার্নার্ডো সিলভার একটি ভলি সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। রিয়ালের দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিল সিটি।
তবে রিয়ালও সতর্কবার্তা দিয়েছিল। সাবেক সিটি একাডেমি খেলোয়াড় ব্রাহিম দিয়াজ একটি শটে দোনারুম্মাকে সেভ করতে বাধ্য করেন, কিন্তু সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি সিটি।
২০ মিনিটে কোর্তোয়ার দীর্ঘ পাস ও’রেইলির মাথার উপর দিয়ে পড়লে ভালভের্দে সেটি নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর দোনারুম্মাকে পাশ কাটিয়ে কঠিন কোণ থেকেও অসাধারণ ফিনিশিংয়ে গোল করেন।
সিটি তখনো সামলে উঠতে পারেনি। সাত মিনিট পর আবারও গোল করেন ভালভের্দে। ভিনিসিয়ুসের পাস ডিফ্লেক্ট হয়ে তার কাছে এলেও বাঁ পায়ের নিচু শটে দোনারুম্মাকে পরাস্ত করেন তিনি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই পাল্টা আক্রমণ থেকে আবারও রিয়ালের আঘাত। ভিনিসিয়ুস আক্রমণ সাজিয়ে বল দেন দিয়াজকে। ব্রাহিম দিয়াজ রুবেন দিয়াজকে লব করে ভালভের্দের দিকে বল বাড়ান। ভালভের্দে সেটি মার্ক গুয়েহির পাশ কাটিয়ে ভলিতে জালে জড়িয়ে স্মরণীয় গোলটি করেন।
ভালভের্দে পরে বলেন, ‘আমি সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। কোচ আমাকে আক্রমণে অংশ নিতে বলেন। আজ আমাদের দলে বল নিয়ন্ত্রণ করার মতো আরও খেলোয়াড় ছিল, তাই আমি বেশি আক্রমণে গিয়েছি এবং তারা আমাকে অসাধারণ কিছু পাস দিয়েছে। গোলকিক থেকে তারা কিভাবে ম্যান টু ম্যান প্রেস করবে তা আমরা বেশ অনুশীলন করেছি। সামনে আমরা দ্রুতগতির খেলোয়াড়, আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছি। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে বড় কিছু অর্জন করতে পারি।’
দ্বিতীয়ার্ধে সিটির অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত। দিয়াজ ড্রিবল করে আবার দোনারুম্মাকে পরীক্ষা করেন।
অন্যদিকে সেমেনিও একটি শটে কোর্তোয়াকে সেভ করতে বাধ্য করেন। এরপর ডিপ থেকে আসা একটি লম্বা পাসে ভিনিসিয়ুস বক্সে ঢুকে পড়লে দোনারুম্মা তাকে ফাউল করেন। গোলরক্ষক হলুদ কার্ড দেখেন এবং সৌভাগ্যবশত বামদিকে ঝাঁপিয়ে ভিনিসিয়ুসের নেওয়া পেনাল্টিটি ঠেকিয়ে দেন।
তবুও রিয়ালের আক্রমণ থামেনি। আরদা গুলের এবং ভিনিসিয়ুসের শট সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। সিটি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। আরলিং হালান্ড একটি সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু অ্যান্তোনিও রুডিগারের গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শে গোল হওয়া থেকে বাঁচে রিয়াল। আর ও’রেইলির আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন কোর্তোয়া।
শেষ পর্যন্ত ভালভের্দের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং প্রথম লেগে বড় জয় নিয়ে এগিয়ে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ।
আইএইচএস/