মোহামেডানকে বাফুফের হাস্যকর চিঠি
ঘরোয়া ফুটবল মৌসুমের শেষের দিকে এসে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডকে হাস্যকর এক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। চিঠিতে মোহামেডান ফুটবল দলের গোলরক্ষক কোচ ছাইদ হাছান কাননের ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপের সময় গোলরক্ষকদের অনুশীলন করানো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
৩ মে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের ডাইরেক্টর ইনচার্জ অফ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বরাবর লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘গত ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড বনাম বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার খেলার ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টে জানা যায় যে, খেলোয়াড় তালিকায় নাম না থাকার পরও ওয়ার্মআপের সময় ছাইদ হাছান কানন নিজ দলের গোলকিপারকে অনুশীলন করান, যাহা সুষ্ঠু ও সুন্দর খেলার শৃঙ্খলা পরিপন্থী।
উল্লেখিত আলোকে, বাফুফে ডিসিপ্লিনারি কমিটি কর্তৃক কেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বাফুফে সচিবালয় বরাবর লিখিতভাবে প্রেরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। যাহা পরবর্তীতে বাফুফে ডিসিপ্লিনারি কমিটির নিকট যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে প্রেরণ করা হবে।
বাফুফের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাহী কমিটির কেউ ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউটে থাকতে পারেন না। ছাইদ হাছান কানন বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ায় ওয়ার্মআপ শেষেই মাঠের বাইরে চলে যান। হঠাৎ করে বাফুফে এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে, তা কারো বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহামেডানের গোলরক্ষক কোচ ছাইদ হাছান কানন জাগো নিউজকে বলেন, ‘মৌসুমের শুরু থেকে বাফুফের নিয়ম মেনেই এভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখন হঠাৎ করে কোন উদ্দেশ্যে এ ধরনের চিঠি দেওয়া হলো তা আমার বোধগম্য নয়। কোনো গোষ্ঠীর ইন্ধনে এ ধরনের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে কিনা মোহামেডান তা খতিয়ে দেখবে।’
বাফুফের লিগ্যাল অফিসার স্বাক্ষরিত চিঠিটি হাস্যকর হয়েছে এ কারণে যে, ৩ মে চিঠি ইস্যু করে সেই চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে ৫ এপ্রিলের মধ্যে। এখন বাফুফের এই লিগ্যাল অফিসারের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মোহামেডান বুধবার তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দিয়ে এ ধরনের চিঠি লিগ্যাল অফিসারের লেখার এখতিয়ার আছে কিনা তা জানতে চেয়েছে বাফুফের কাছে। পাশাপাশি মোহামেডান বলেছে, জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময়ের এক মাস পর মোহামেডান চিঠি পাওয়ায় এই চিঠির আইনগত কোনো ভিত্তিও নেই।
আরআই/এমএমআর