১৫ ফুট কুমিরের পেটে মিললো মানুষের দেহাবশেষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৯ পিএম, ০৬ মে ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ এক হোটেল মালিকের দেহাবশেষ মিলেছে বিশালাকার একটি কুমিরের পেট থেকে/ ছবি: এক্স (পূর্বে টুইটার) থেকে নেওয়া

দক্ষিণ আফ্রিকায় নিখোঁজ এক হোটেল মালিকের দেহাবশেষ মিলেছে একটি বিশালাকার কুমিরের পেট থেকে। প্রায় ১৫ ফুট লম্বা ওই কুমিরটি বিশেষ অভিযানে নদী থেকে ধরে আকাশপথে সরিয়ে নেওয়ার পর কেটে দেখা যায় ভয়াবহ এই দৃশ্য। এরই মধ্যে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, গত সপ্তাহে প্রবল বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কুমিরে ভরা কোমতি নদীতে পড়ে যান হোটেল মালিক গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা (৫৯)। সেখানেই তিনি কুমিরের আক্রমণের শিকার হন।

উদ্ধারকারী দল কয়েকদিন ধরে ওই ‘মানুষখেকো’ কুমিরটি খুঁজে বের করার চেষ্টা চালায়। শেষ পর্যন্ত দেহাবশেষ উদ্ধারের লক্ষ্যে সেটি হত্যা করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, কুমিরটির ওজন এক হাজার পাউন্ডেরও বেশি।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুলিশ কমান্ডারকে হেলিকপ্টার থেকে নিচে নামিয়ে কুমিরটি বেঁধে ফেলা হয়। পরে বিশাল আকৃতির সরীসৃপটি একটি হারনেস দিয়ে বেঁধে আকাশপথে তুলে নেওয়া হচ্ছে।

পরে কুমিরটির অস্বাভাবিকভাবে ফুলে থাকা পেট কেটে ভয়াবহ দৃশ্যের মুখোমুখি হন উদ্ধারকারীরা। সেখানে পাওয়া যায় দুটি বিচ্ছিন্ন হাত, পাঁজরের অর্ধেক অংশ ও শরীরের মাংসের টুকরো। একটি আঙুলে থাকা আংটিকে নিহত বাতিস্তার বলে ধারণা করছেন কর্মকর্তারা।

চাঞ্চল্যকরভাবে কুমিরটির পেট থেকে অন্তত ছয় জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলোর কোনোটিই বাতিস্তার নয়। কুমিরটির পেট থেকে পাওয়া দেহাংশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা এখনো চলছে।

উদ্ধার হওয়া জুতাগুলো স্থানীয় নিখোঁজ ব্যক্তি বা গ্রামবাসীর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন কর্তৃপক্ষ। তাছাড়া বাতিস্তা কুমিরের আক্রমণের আগেই ডুবে মারা গিয়েছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আবার, তদন্তকারীরা এ সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না যে, তার দেহের কিছু অংশ অন্য কুমিরের পেটেও থাকতে পারে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ক্যাপ্টেন জোহান পটগিটার জানান, সন্দেহভাজন কুমিরটি শনাক্ত করতে কয়েকদিন ধরে পুরো এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হয়। এই বিশাল কুমিরটি রোদে নিশ্চল অবস্থায় শুয়ে ছিল ও এটির পেট অস্বাভাবিকভাবে ভরা ছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে খাবার খাওয়ার লক্ষণ।

তিনি আরও বলেন, ড্রোন কিংবা হেলিকপ্টারের শব্দেও এটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বা পানিতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। এতে আমরা নিশ্চিত হই, এটিই সেই কুমির।

কুমিরটি হত্যার অনুমতি পাওয়ার পর পটগিটার নিজেই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে নামতে সম্মত হন, যাতে সেটিকে বেঁধে আনা যায়।

তিনি বলেন, অনেক কিছুই ভুল হতে পারতো। দড়ি দিয়ে আমাকে সরাসরি কুমিরটির মুখের কাছে নামানো হয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, এটি মারা গেছে।

তিনি আরও বলেন, পাশে আরও দুটি কুমির ছিল, তারা দেখছিল। আমি দ্রুত হারনেসটি কুমিরটির কোমরে বেঁধে সামনের পায়ের নিচে শক্ত করে লাগিয়ে দিই। পরে হেলিকপ্টারকে সংকেত দিতেই আমাকে ওপরে তুলে নেওয়া হয়। পরে কুমিরটি নির্ধারিত স্থানে নিয়ে সেটির পেট কাটা হয়।

এই ভয়াবহ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, পাশাপাশি নদীসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।