ফাইনালের আগে আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:২৯ এএম, ২১ ডিসেম্বর ২০১৭

লাল-সবুজ জার্সি পরা একদল কিশোরীর কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামের টার্ফে পা রাখার পর থেকেই দক্ষিণ গ্যালারিতে শুরু ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ চিৎকার। স্টেডিয়াম ঘেঁষা দালানগুলোর ছাদ আর বারান্দা থেকেও লাল-সবুজ পতাকা দুলিয়ে মেয়েদের অনুপ্রেরণা যোগানোর চেষ্টা সমর্থকদের।

বাসাবাড়ির ওই উৎসাহমূলক শব্দগুলো আঁখি-মনিকাদের কান পর্যন্ত হয়তো পৌঁছায়নি। তবে গ্যালারির ¯েøাগানগুলো ঠিকই মেয়েদের কান এফোঁড়-ওফোঁড় কওে দিয়েছে। গ্যালারিতে বাংলাদেশ, মাঠেও বাংলাদেশ। বাংলাদেশময় ম্যাচে কিশোরীদের পা’গুলো তুলি হয়ে ফুটবলের অনন্য এক ছবিই আঁকলো সবুজ টার্ফে।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে ঢুকেছিল হাজারদেড়েক দর্শক; কিন্তু তাদের চিৎকার চেঁচামেচি যে হারিয়ে দিয়েছে ভরা গ্যালারিকেও। ভারত পারবে না, সেটা দর্শকরা বুঝেছিল ম্যাচ শুরুর পরপরই। বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে শুরু থেকেই কোনঠাসা ছিল ভারত।

মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, সাজেদা, রিতু আর শামসুন্নাহরদের বৃষ্টির মতো আক্রমনে যখন দিশে হারা ভারত, তখন গ্যালারিতে ¯েøাগান উঠলো মেয়েদের একটি একটি নাম ধরেও। কখনো ‘মনিকা, মনিকা’ কখনো ‘মারিয়া-সাজেদা’। রিতু-শামসুন্নাহরও দর্শকদের মুখেমুখে। এ অঞ্চলের ফুটবলে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের মেয়েদের ৩-০ গোলে হারিয়ে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা যখন ড্রেসিং রুমে ফিরলো তখনো থামেনি গ্যালারির ‘বাংলাদেশ-বাংলাদেশ’ আর মনিকাদের নামে ¯েøাগান।

ম্যাচটি ছিল ফাইনালের আগে ‘ফাইনাল’। ঠিক যেমনটি হয়েছিল গত বছর তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়নশিপের আঞ্চলিক পর্বের ম্যাচে। সেবার ভারতকে দুইবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপেও ভারতকে দুইবার হারানোর প্রতিজ্ঞা করেছে কিশোরী ফুটবলাররা। লক্ষ্যের একটি পূরণ, এখন অপেক্ষা ফাইনালে। দুই দলের প্রথম লড়াইয়ের চিত্রটা অবশ্য ফাইনালের আগে বাংলাদেশকেই ফেভারিট হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আগের ম্যাচটিতে নেপালের জালে ১০ গোল দিয়েছিল ভারত। ওই ম্যাচের পর বাংলাদেশ-ভারতের একটি কঠিন লড়াই হবে- এমন ভবিতব্যই করেছিলেন অনেক ফুটবলবোদ্ধা; কিন্তু মাঠে সব কিছু ভুল প্রমাণ করে ভারতের মেয়েদের নাকানি-চুবানি খাইয়েছে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। বাংলাদেশের নামের পাশে গোল তিনটি। হতে পারতো এর দ্বিগুণ। অন্য দিকে ভারত একবারের জন্যও বড় পরীক্ষা নিতে পারেনি বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারকে। পোস্ট ছেড়ে তাকে বেশিরভাগ সময়ই দেখা গেছে নিজেদের সীমানার মাঝামাঝি জায়গায়।

ফাইনালের রিহার্সেলে সুন্দর ফুটবল, সহজ জয়। এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়-কোচের একটা নতুন ¯েøাগান ‘উপভোগ্য ফুটবল’। সুন্দর ও উপভোগ্য ফুটবল খেলো, জয় আসবেই। হচ্ছেও তাই। এ নিয়ে তিনটি ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ। তিনটিতেই উপভোগ্য ফুটবল, তিনটিতেই জয়। ১২ গোল দিয়ে এখনো রক্ষিত নিজেদের জাল। আগের দুই ম্যাচে গোল না খাওয়ার যে গৌরব ছিল ভারতের, বাংলাদেশের সামনে তা ভেঙ্গে চুরমার।

ফলাফলের গুরুত্ব না থাকলেও বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফাইনাল নিশ্চিতের পর বাংলাদেশ একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনলেও ভারতের ছিল মাত্র একটি। ম্যাচটিকে মহা গুরুত্ব দিয়েই মাঠে নেমেছিল দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের ঐহিত্যবাহী দেশটি। কিন্তু দিনটি তো ছিল বাংলাদেশের। তাইতো বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ভারতীয় মেয়েদের। এ জয়ের ৩ পয়েন্ট এখন ‘মূল্যহীন’। তবে জয়টা ফাইনালের আগে জ্বালানি হলো বাংলাদেশের মেয়েদের আত্মবিশ্বাসে।

আরআই/আইএইচএস/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :