ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ২৯ বছর পূর্তি
মেলবোর্নে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের জন্ম হয় ১৯৭১ সালে। তবে রঙিন পোশাকের এই ক্রিকেটে বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ। এশিয়া কাপের ঐ অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। এরপর দেখতে দেখতে কেটে গেছে ২৯টি বছর। এক-দুই-তিন করে বাংলাদেশ খেলে ফেলেছে ৩০০টি ওয়ানডে ম্যাচ।
গত ২৯ বছরে ‘টাইগার’ খ্যাত বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন ১৩ ক্রিকেটার। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রথম অধিনায়ক ছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। এর পর একে একে দায়িত্ব পালন করেছেন- মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাঈমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাহমুদ সুজন, রাজিন সালেহ, খালেদ মাসুদ পাইলট, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ আশরাফুল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মাশরাফি বিন মতুর্জা। এদের মধ্যে হাবিবুল বাশার সর্বোচ্চ ৬৯টি ম্যাচে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই ৩০০ ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে মোট ১১৬ ক্রিকেটার মাঠে নেমেছে, ওয়ানডে ক্যাপের ছায়ায়। সর্বশেষ বাংলাদেশের ওয়ানডে অভিষিক্ত ক্রিকেটারের নাম তাইজুল ইসলাম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার অভিষেক হয়েছে গত বছর। ২৯ বছরে ৩০০ ওয়ানডে ম্যাচের ৮৮টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ১৭৫টি ম্যাচ খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।
এই দীর্ঘ ২৯ বছরে খুব বেশি প্রাপ্তি না থাকলেও তামিম-সাকিব-মাশরাফি ও মুশফিকদের মতো ক্রিকেটাররা দেশের বড় সম্পদ হয়ে উঠেছেন। আর ২০১৫ বিশ্বকাপে তাসকিন-সৌম্য-সাব্বিরের মতো তরুণ ক্রিকেটারের সৃষ্টি হয়ে উঠার মধ্যদিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা।
ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরটির নাম বিশ্বকাপ ক্রিকেট। যার যাত্রা শুরু ১৯৭৫ সালে। বাংলাদেশ এই আসরে প্রথম খেলেছে ১৯৯৯ সালে। এরপর সদ্য সমাপ্ত আসরটিসহ মোট ৫টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশের সাফল্যও কম নয়। প্রথম আসরে পাকিস্তানকে, ২০০৭ সালে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে, ২০১১ ও ২০১৫ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রমাণ রেখেছে বড় দলগুলোর বিপক্ষে কম যায় না টাইগাররা।
এর বাইরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলোকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব, ২০১২ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালের খেলার কৃতিত্ব বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সাফল্য।
২৯ বছরে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান-
• বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পেয়েছে ১৯৯৭ সালে।
• বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ, পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হেরে যায়।
• বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডেতে ৯৪ রান সংগ্রহ করেছে।
• ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথম জয় পায় কেনিয়ার বিপক্ষে ১৯৯৮ সালের ১৭ মে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে কেনিয়াকে হারিয়েছে।
• বাংলাদেশ দলের হয়ে প্রথম উইকেট নিয়েছেন জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা।
• ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম বলটি মোকাবেলা করেছেন রকিবুল হাসান।
• বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হাফসেঞ্চুরি করেছেন আজহার হোসেন, ১৯৯০ সালের ২৮ এপ্রিল।
• ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন মেহরাব হোসেন অপি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ।
• ওয়ানডেতে প্রথম ৫ উইকেট নিয়েছেন আফতাব আহমেদ; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৪ সালের ৫ নভেম্বর।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি রান সংগ্রাহক সাকিব আল হাসান। তিনি ৪১৭৩ রান করেছেন।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক; ২০৭ উইকেট।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হয়েছেন হাবিবুল বাশার; ১৮ ম্যাচে।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ধরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা; ৪৪টি।
• ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার; ৬৯ ম্যাচে।
• ওয়ানডেতে সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি ১৭টি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মধ্যে জয় ১১টিতে ও পরাজয় ৬টিতে। জয়ের হার : ৬৪.৭০%।
• ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল; ১৭৫টি ম্যাচ।
• ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ করেছেন রাজিন সালেহ-হাবিবুল বাশার। কেনিয়ার বিপক্ষে ১৭৫ রানের পার্টনারশিপ করে অপরাজিত ছিলেন।
• ওয়ানডে ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ডিসমিসিয়াল করেছেন মুশফিকুর রহিম। তিনি ১৪৬টি ডিসমিসিয়াল করেছেন।
• ওয়ানডেতে এক ইনিংসে বেস্ট ইকোনমি বোলার সাকিব আল হাসান। তিনি ১০ ওভারে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। ইকোনমি রেট ১.১০।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ৪ উইকেট পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। তিনি ৬ বার ৪ উইকেট নিয়েছেন।
• ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ৫ উইকেট পেয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ৪ বার ৫ উইকেট পেয়েছেন।
• ওয়ানডে ক্রিকেটে সেরা বোলিং ফিগার মাশরাফির। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।
• ওয়ানডে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস তামিম ইকবালের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৯ সালে ১৫৪ রান।
• ওয়ানডে সবচেয়ে বেশি ব্যাটিং গড় বর্তমান ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের। ৩০ ম্যাচে ৩৫.১৮ গড়ে তার সংগ্রহ ৯৫০ রান।
• ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি সাকিব আল হাসানের। ১৪৭ ম্যাচে ৬টি সেঞ্চুরি।
• ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি হাফসেঞ্চুরি সাকিব আল হাসানের। ১৪৭ ম্যাচে ৩৪টি।
• ওয়ানডেতে রানের হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ১৬০ রানে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে ক্যারিবিয়ানরা।
• ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৫৮। ২০১১ সালের ৪ মে বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এবং ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে সর্বনিম্ম এই স্কোর গড়ে বাংলাদেশ।
• ওয়ানডে ক্রিকেট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৩২৬। যদিও গত বছর এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই রান করেও জয় বঞ্চিত হয়েছিল টাইগাররা।
• ওয়ানডেতে উইকেটের হিসাবেও বাংলাদেশের বড় জয় ওয়েস্টইন্ডিজে বিপক্ষে, ৯ উইকেটে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অল আউট করেছিল।
এমআর/আরআইপি