মাকে খুশি রাখতেই ফুটবল খেলে যাচ্ছেন হিগুয়াইন

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:৩৭ এএম, ২৩ মার্চ ২০১৮

ফুটবল তাকে অনেক কিছুই দিয়েছে কিন্তু অপমানও সহ্য করতে হয়েছে অনেক। রিয়াল মাদ্রিদ, নাপোলি মাতিয়ে জুভেন্টাসে তাঁবু গেড়েছেন। এখন সেখানেও সফল হওয়ার পথে। কিন্তু আর্জেন্টিনার হয়ে? আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকদের চোখে হিগুয়াইন এখনো একটি আক্ষেপের নাম। টানা তিনটা টুর্নামেন্টের ফাইনালে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারার দরুন এখনো অনেকে হিগুয়াইনকে জাতীয় দলে দেখতে চান না।

কিন্তু পারফরম্যান্স দিয়েই আবার ফিরেছেন আর্জেন্টিনা দলে। ইতালি এবং স্পেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে দলে রেখেছেন কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। কিন্তু হিগুয়াইন কি পেরেছেন সর্বশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকার দুঃসহ স্মৃতির কথা? সম্প্রতি ফক্স স্পোর্টসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সেই আবেগের কথাই জানালেন হিগুয়াইন। পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাৎকার বাংলায় করে দেয়া হলো।

“টুর্নামেন্টের পর অবসরের ব্যাপারে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু আমার মা আমাকে তাগিদ দিয়েছিলেন ফুটবলটা চালিয়ে যাওয়ার জন্য। মা বলেছিল, যদি আমি ফুটবল না খেলি তাহলে তিনি খুব কষ্ট পাবেন। মাকে খুশি রাখার জন্যেই এখন পর্যন্ত ফুটবল খেলে যাচ্ছি।

আমার পরিবার যে উৎসাহ দিয়েছে আমাকে সেটার কারণেই বর্তমানে আমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে পারছি। কিন্তু আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম আমি অবসর নিয়ে ফেলবো।

কোপা আমেরিকার সময় সন্দেহ করেছিলাম আমার মায়ের কিছু একটা হয়েছে। ফেডেরিকো আমাকে এটা নিশ্চিত করেছিল। আমার মাথায় তখন পুরো পৃথিবী ভেঙে পড়লো কারণ সে আমার জীবন। আমার পরিবার আমার বন্ধু এরাই আমার সবকিছু। তারপরই আমার পেশা আসবে যেমন আমি ফুটবলার আপনি সাংবাদিক।

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার আগে জীবনের প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে পরিবার সবার আগে। আমাদের পরিবার কিংবা তাদের সন্তানদের কেউ অপমান করবে সেটা আমরা একদমই বরদাস্ত করবো না।

[অসুস্থতা থেকে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি হিগুয়াইনের মা। কিন্তু তার অগ্রাধিকার আগের থেকে অনেক বেড়েছে। হিগুয়াইন এবং তার স্ত্রী কয়েকদিন পরেই প্রথম সন্তানের মুখ দেখবেন।]

ফুটবলই জীবনের সব না। ফুটবল ছাড়াও এখানে অন্য আরও অনেক কিছু রয়েছে যা মানুষজন খালি চোখে দেখতে পারে না। মানুষ দেখে আমি একজন ফুটবলার যে সারাদিন বলে লাত্থি মারে কিন্তু তারা ভুলে যায় ফুটবলের বাইরের চিন্তাভাবনাগুলো। তাদের ভালো এবং খারাপের আক্রোশে আক্রান্ত হতে হয় আমাদের।

যখন আপনি পিতৃত্বের স্বাদ পাবেন তখন সেই মুহূর্তটা বলে বোঝানোর মতো নয়। সবকিছুই তখন অর্থহীন হয়ে যাবে। আমি সবসময় লড়াই করতে পছন্দ করি এবং আমি অনেকের মধ্যে সেরা হতে চাই। ইউরোপে টানা ১২ বছর ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবল খেলা সেরা দলগুলোর একটিতে খেলা মুখের কথা নয়। এখানে খেলতে হলে দরকার প্রচুর মানসিক এবং শারীরিক শক্তি।

আমি রিয়াল মাদ্রিদের শীর্ষ দশ গোলদাতার ভেতর একজন। আর্জেন্টিনার শীর্ষ দশ গোলদাতার ভেতরেও আছি আমি। আমি নাপোলিরও শীর্ষ দশ গোলদাতার ভেতরে আছি এবং আশা করছি জুভেন্টাসেও এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারবো।

কিছু মানুষ আছে যারা আপনার নিন্দা করবে, সমালোচনা করবে। এদের অর্ধেক করবে আপনার ভালোটা নিয়ে অর্ধেক করবে খারাপটা নিয়ে। আমি সমালোচনাগুলো শুনি কারণ সেগুলো আমাকে সেরাটা দিতে সাহায্য করে। কিন্তু ধন্যবাদ আমার পরিবারকে। তাদের কারণেই আমি এখন মানসিকভাবে অনেক শক্ত।”

আরআর/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :