স্বপ্নটা ছোট হয়ে আসছে ভারোত্তোলক মাবিয়ার

রফিকুল ইসলাম
রফিকুল ইসলাম রফিকুল ইসলাম , বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৯:২১ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৮

সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে স্বর্ণ পাওয়ার পর জীবনটাই বদলে গিয়েছিল নারী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সিমান্তের। রাজধানীর খিলগাঁয়ের ছোট্ট টিনের ঘরের সীমানা ছাড়িয়ে মাবিয়ার স্বপ্নটা ধেয়েছিল আকাশপানে। ভারোত্তোলনে নিজেকে এমন উচ্চতায় নিতে চেয়েছিলেন যেখানে আর কেউ সহজে যেতে পারবেন না; কিন্তু দুই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সে স্বপ্নটা ফ্যাকাসে দেশসেরা এ নারী ভারোত্তোলকের। বুকের মধ্যে দানাবাধা বিশাল স্বপ্নটা ছোট হয়ে আসছে তার।

আগস্টে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ যে ১৪ ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে তার মধ্যে আছে ভারোত্তোলনও। তবে কোনো পুরুষ ভারোত্তোলক নন, এই গেমসে অংশ নেবেন একজন নারী। তিনি এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী মাবিয়া আক্তার সিমান্ত। মাস দেড়েক আগে শুরু করেছেন গেমসের অনুশীলন। নিজের পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এবার আর জোরালো আশা করতে পারছেন না তিনি।

সোমবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সুইমিংপুল সংলগ্ন জিমন্যাশিয়ামে অনুশীলন করছিলেন মাবিয়া। মজার বিষয় হলো মাবিয়াকে অনুশীলন করাচ্ছেন তারই সঙ্গে গত এসএ গেমসে অংশ নেয়া আরেক খেলোয়াড়। ওই গেমসে ব্রোঞ্জ পাওয়া ফিরোজা পারভীন এখন মাবিয়ার কোচ। এক সঙ্গে খেলেছেন। বয়সে সিনিয়র দেখেই ফেডারেশন সেই ফিরোজা পারভীনকে বানিয়ে দিয়েছে মাবিয়ার কোচ।

এশিয়ান গেমসে ভারোত্তোলনে পদকের আশা নেই বাংলাদেশের। মাবিয়াও সে আশা করেন না। হয়তো এ কারণেই, মাবিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্ব দেয়নি ফেডারেশন। একজন খেলোয়াড়কে কোচ বানিয়ে তার সঙ্গে দিয়ে দিয়েছে। যদিও এসএ গেমসের পর থেকেই মাবিয়া দাবি করে আসছিলেন অনুশীলনের জন্য ভালো জিমন্যাশিয়াম ও দক্ষ কোচ; কিন্তু মাবিয়ার চাওয়াটা বারবার ফেডারেশনের দেওয়াল থেকেই ফিরেছে। কর্মকর্তাদের কান পর্যন্ত তা পৌঁছায়নি।

Mabia-Akter-1

এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার জন্যই অংশ নেয় অনেক ডিসিপ্লিনে; কিন্তু কোনো লক্ষ্য থাকে না। তবে আগামী বছর যে সাউথ এশিয়ান গেমস! মাবিয়ার চোখে তো সেই স্বর্ণ ধরে রাখা। নিজের অর্জিত দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারবেন কী তিনি?

শুনুন মাবিয়ার কাছ থেকেই, ‘স্বর্ণ তো দূরের কথা, এসএ গেমসে ব্রোঞ্জ পাওয়াই তো কষ্ট হবে। দেখলেন না যে শ্রীলংকা ও নেপালের খেলোয়াড়রা আমাদের কাছে স্ট্রার্টিংয়েই হারে তারা কমনওয়েলথ গেমেস কত ভালো করলো। যে কারণে, আমি শঙ্কিত এসএ গেমস নিয়ে। ২০১৬ সাল থেকে দক্ষ একজন কোচের অধীনে অনুশীলনের দাবি করে আসছিলাম। চেয়েছিলাম জিমের আরো সুযোগ-সুবিধা। পাইনি। অথচ এসএ গেমসে আমাদের প্রতিপক্ষরা অনেক এগিয়ে যাচ্ছে।’

ঘিঞ্জি পরিবেশে বলতে গেলে মাবিয়া একাই যুদ্ধ করে যাচ্ছেন নিজেকে আরো উঁচুতে তুলতে। গত কমনওয়েলথ গেমসে নিজের রেকর্ড ১৮০ কেজি ওজনের চেয়ে বেশি তুলতে চান এশিয়াডে; কিন্তু মাবিয়া কী পারবেন? মাত্র দেড় মাস অনুশীলন। কমনওয়েলথ গেমসের পর লম্বা বিরতি। তার ওপর ওই গেমসে কোমরে যে ব্যথা পেয়েছিলেন তাও পুরোপুরি সেরে উঠেনি। হাতেও একটু ব্যথা আছে।

কোচ ফিরোজা পারভিনও স্বীকার করলেন, ‘এশিয়ান প্রস্তুতির সময়টা অনেক কম হয়ে গেছে। গত এসএ গেমসের আগে আমরা ৬ মাস অনুশীলন করেছিলাম। তার ফলটাও এসেছিল। এখন মাবিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছে আগের চেয়ে বেশি ওজন তুলতে। দেখা যাক কী হয়।’

মাবিয়া এশিয়ান গেমসে অংশ নিচ্ছেন প্রথমবারের মতো। এতবড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারাটাকেই তিনি দেখছেন সৌভাগ্য হিসেবে। কোমর ও হাতে যে সামান্য ব্যথা আছে তাতে তেমন সমস্যা হবে না মনে করছেন এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী এ ভারোত্তোলক। এখন তার একটাই লক্ষ্য, ইন্দোনেশিয়ায় ক্যারিয়ার সেরা পারফরম্যান্স করা। করতে পারলে এসএ গেমসের আগে স্বর্ণ ধরে রাখার আত্মবিশ্বাসটা বাড়বে। যদিও এসএ গেমস নিয়ে তিনি আগের আত্মবিশ্বাসে নেই।

আরআই/আইএইচএস/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]