চট্টগ্রাম পর্বের শুরুতেই রান উৎসব

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম থেকে
প্রকাশিত: ১০:৩০ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৯

সমালোচকরা হয়ত পুরোপুরি মানতে চাইবেন না। বলবেন, দিনের দুই ম্যাচের এক ইনিংসেই যা রান হয়েছে। এক ম্যাচের দুই ইনিংসে আর রান ওঠেনি। তা না উঠুক। আসল কথা হলো চট্টগ্রাম পর্বের শুরুতেই রান উৎসব।

বিপিএলের ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ড হলো রাতে রংপুর রাইডার্স আর চিটাগাং ভাইকিংস ম্যাচে। অ্যালেক্স হেলস আর রাইলি রুশোর জোড়া শতরানে ২৩৯ রানের পাহাড় সমান স্কোর গড়ে বিপিএলে নতুন ইতিহাস রচনা করলো মাশরাফির রংপুর রাইডার্স।

একই সাথে বিপিএলে এক ইনিংসে দুজন সেঞ্চুরি করেও রেকর্ডের জন্ম দিলেন রুশো ও হেলস। ইতিহাস জানান দিচ্ছে, ২০১৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিপিএলের আগের আসরে চট্টগ্রাম পর্বেও রান উৎসব হয়েছে।

সেবার পাঁচ দিনের পর্বে দুবার ২০০ ‘র বেশি রান হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে চিটাগাং ভাইকিংস ২১১ (৫ উইকেটে) করে জিতেছিল ৪০ রানে।

ঐ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৯৫ করেছিলেন সিকান্দার রাজা (২১১.১১ স্ট্রাইকরেটে ৬ ছক্কা ও নয় বাউন্ডারিতে ৪৫ বলে ৯৫)। এছাড়া ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে খুলনা টাইটান্স ২১৩ (৫ উইকেটে ) পাহাড় সমান পুঁজি গড়ে। জবাবে রাজশাহী মাত্র ১৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।

আর এবার প্রথম দিনই রংপুর ২৩০ পেরিয়ে গেলো। দিনের প্রথম ম্যাচে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ আহামরি কিছু করতে না পারলেও রাজশাহী কিংসের বিরুদ্ধে ১৮০ রানের বড় স্কোর গড়ে ৭৬ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে সিলেট সিক্সার্স।

এই দুই ম্যাচে পরে ব্যাট করা দল বেশি রান করতে পারেনি। তা দেখে আবার ভাববেন না পরের সেশনে উইকেটের চরিত্র পাল্টে গেছে। আসলে বিকেলে রাজশাহী কিংস আর রাতে স্বাগতিক চিটাগাং ভাইকিংস রানের চাপেই দমে গেছে। না হয় উইকেট ঠিকই ছিল।

বল ব্যাটে এসেছে, ব্যাটসম্যানরা বলের পিছনে গিয়ে হাঁকাতে পারলেই ব্যাস- বিগ হিট নিতে পেরেছেন। তাই সারা দিনে গন্ডায় গন্ডায় চার ও ছক্কার ফুলঝুরি ছুটেছে।

কেমন হবে বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্বের খেলা? রান হবে তো? দর্শকরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সত্যিকারের আস্বাদন পাবেন? এমন সংশয় যাদের ছিল, তারা প্রথম দিনই ব্যাকফুটে।

কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু কোড অব কন্ডাক্টের কারণে উইকেট বা উইকেটের চরিত্র নিয়ে আগাম মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিলেন। তবে জাগো নিউজকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামের উইকেট যেমন হয়, ঠিক তেমনই আছে। আর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অতীত পরিসংখ্যান জানান দেয়, সাধারণত এখানে রান হয় প্রচুর। স্বাচ্ছন্দ্যেই বল আসে ব্যাটে, ব্যাটসম্যানরা খেলতে পারেন স্বচ্ছন্দে।

উইকেটের বাইরে চট্টগ্রামের কন্ডিশনের ব্যাপারে কিউরেটের জাহিদ রেজা বাবুর আগাম মন্তব্যই সঠিক। তিনি বলেছিলেন, খুব বেশি ঠান্ডা নেই। তবে রাত যত বাড়বে ততই শিশির পড়বে। তাই পড়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড ভিজে একাকার।

বার বার রুমাল দিয়ে বল মুছতে দেখা গেছে ফিল্ডারদের। প্রতি ব্রেকে গাড়ীর পিছনে চট ও ছালা দিয়ে শিশির শুকাতেও দেখা গেছে।

এআরবি/এমএমআর/আরএস

আপনার মতামত লিখুন :