স্থায়ী হচ্ছে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ২ কর্মচারীর চাকরি


প্রকাশিত: ০৩:১৭ পিএম, ৩১ মার্চ ২০১৬

বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি সরকারের রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র চালু হওয়ার সকল প্রতিবন্ধকতার অবসান হল। সুপ্রিম কোর্টের রোয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ১২ বছর পর স্থায়ী হতে যাচ্ছে তাদের চাকরি।

রাষ্ট্রপক্ষের করা লিভ টু আপিল খারিজ করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ রায় দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু, এম আমিন উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদি।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির। এর আগে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্মৃতিকেন্দ্রটি নিয়ে টানাটানি শুরু হয়। একদিকে স্মৃতিকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় অন্যদিকে মানবেতর সময় পার করতে থাকেন নিয়োগকৃত উপ-পরিচালকসহ অন্যরা।

এর এক পর্যায়ে ২০০৮ সালে উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ফারুক হাইকোর্টে এক রিট করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে তখন রুল জারিসহ নির্দেশনা দেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি রাজস্বখাতে নেয়ার পাশাপাশি স্মৃতিকেন্দ্রটি চালুর নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দাখিল করেন। আপিল বিভাগ সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে হাইকার্টের রায় বহাল রাখেন।

রিট আবেদন করার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শাহিদা খান। ২০০৪ সালের জুন মাসের মধ্যে তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। সবমিলে ওই সময় মোট ১৩ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৯৭ সালে রোকেয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রকল্প নেয়া হয়। স্মৃতি কেন্দ্রটি ২০০৪ সালে প্রকল্পের মাধ্যমে চালু হতে না হতেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত ১৩ কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতনভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় তাদের নানা কষ্টের কাহিনি।

সেই সঙ্গে শুরু করেন বিভিন্ন সরকারি দফতরে দৌড়ঝাঁপ। চালাচালি করা হয় চিঠিপত্র। অবশেষে উচ্চ আদালতের রায়ে সেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী হচ্ছে।

এফএইচ/এসএইচএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।