ফোন সারাতে দিয়ে বিপদে পড়তে পারেন, সার্ভিসিংয়ের আগে যা করবেন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:১৬ এএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফোন সারানোর আগে কিছু জরুরি বিষয় জানা ও মানা জরুরি

হাত থেকে পড়ে গিয়ে স্ক্রিন ভেঙে যাওয়া কিংবা হঠাৎ পানিতে ভিজে ফোন কাজ না করা-সবার কমবেশি এই ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। নিজে চেষ্টা করে ঠিক করতে না পেরে সার্ভিসিংয়ে দেন। কিন্তু ফোন সারাতে দিয়ে যদি বিপদে পড়েন তাহলে ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক। তাই ফোন সারানোর আগে কিছু জরুরি বিষয় জানা ও মানা খুবই প্রয়োজন।

আজকের দিনে স্মার্টফোন মানেই শুধু কল বা মেসেজ নয়। এই ছোট ডিভাইসের মধ্যেই জমা থাকে আমাদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, এমনকি ব্যাঙ্কিং ও পেমেন্ট অ্যাপের মতো সংবেদনশীল তথ্য। এমন অবস্থায় ফোন মেরামতের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। কলেজ শিক্ষার্থী সোমা (ছদ্মনাম) টানা তিন বছর ধরে একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করছিলেন। একদিন কলেজ থেকে ফেরার পথে তার ফোনটি হাত ফসকে পড়ে যায় এবং স্ক্রিন ভেঙে যায়। কাছের একটি থার্ড পার্টি মেরামত কেন্দ্র বা সার্ভিসিং সেন্টারে তিনি ফোনটি জমা দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফোন ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ফোন হাতে পাওয়ার পর থেকেই সমস্যা শুরু হয় অচেনা নম্বর থেকে কল, অদ্ভুত বার্তা, এমনকি অনলাইনে তার ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।

এটি কেবল একটি কাহিনি নয়। বাস্তবে বহু মানুষ এমন অভিযোগ করেছেন, ফোন মেরামতের পর তাদের ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, কেউ কেউ ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকারও হয়েছেন।

প্রশ্ন হলো, ফোন মেরামতের সময় ডাটা ফাঁস হয় কীভাবে? সাধারণত কোনো ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টারে ফোন জমা দিলে আগে জিজ্ঞাসা করা হয়, ডিভাইসের ডাটা মুছে ফেলা হয়েছে কি না। প্রয়োজনে তারা ব্যাকআপ নিয়ে ফোন রিসেট করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ঝুঁকি বাড়ে তখনই, যখন ফোন নিয়ে যাওয়া হয় কোনো অননুমোদিত বা থার্ড পার্টি সার্ভিস সেন্টারে।

এই ধরনের জায়গায় প্রায়ই ফোন আনলক করার পিন বা পাসওয়ার্ড চাওয়া হয় ‘টেস্ট করতে হবে’, ‘লক থাকলে মেরামত সম্ভব নয়’ ইত্যাদি অজুহাতে। অথচ বাস্তব সত্য হল, পাসওয়ার্ড দেওয়া মানেই নিজের ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে তুলে দেওয়া। ছবি, ভিডিও, ই-মেইল, ব্যাঙ্কিং অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া সবকিছু তখন অনায়াসেই দেখা বা কপি করা সম্ভব।

মেরামতের পর প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও পরে অজানা কল, সন্দেহজনক লিঙ্ক বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম একটাই কখনোই নিজের ফোনের পাসওয়ার্ড বা পিন কাউকে দেবেন না। কোনো সার্ভিস সেন্টারেরই এটি চাওয়ার অধিকার নেই। ফোনের ডায়াগনস্টিক বা হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করার জন্য আধুনিক স্মার্টফোনে আলাদা ব্যবস্থা থাকে।

এ ক্ষেত্রে একটি বড় সহায়ক হতে পারে রিপেয়ার মোড। অনেক নতুন স্মার্টফোনেই এই ফিচারটি রয়েছে। রিপেয়ার মোড চালু করলে ফোনে থাকা ব্যক্তিগত ডাটা, ছবি, অ্যাপ সাময়িকভাবে লুকিয়ে যায়। মেরামতকারী কেবল প্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাক্সেসই পায়, ব্যক্তিগত তথ্য নয়।

যেসব ফোনে রিপেয়ার মোড নেই, সেগুলোর জন্য গেস্ট মোড একটি ভালো বিকল্প। এই মোডে ফোনটি কার্যত একটি নতুন প্রোফাইলের মতো কাজ করে, যেখানে আপনার ব্যক্তিগত ফাইল বা অ্যাপ দেখা যায় না। শুধু মেরামত নয়, ফোন কাউকে সাময়িকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই মোড বেশ কার্যকর।

আর যদি ফোনে এই দুই সুবিধার কোনোটাই না থাকে, তাহলে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল আগে সম্পূর্ণ ব্যাকআপ নেওয়া এবং তারপর ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করে মেরামতের জন্য দেওয়া। কাজ শেষ হলে আবার নিজের অ্যাকাউন্টে লগ ইন করে ডাটা ফিরিয়ে নেওয়া যায়।

স্মার্টফোন মেরামত করা আজকাল খুব স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সামান্য অসচেতনতা ব্যক্তিগত জীবনে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই পাসওয়ার্ড গোপন রাখা, সঠিক মোড ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে ফোন রিসেট করার মতো সহজ অভ্যাসই আপনাকে ডাটা চুরি ও প্রতারণা থেকে অনেকটা সুরক্ষিত রাখতে পারে।

আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও
সত্যিই কি ভবিষ্যতে ফোন-কম্পিউটার থাকবে না?

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।