সারারাত ফোন চার্জে রেখে ভুল করছেন না তো

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৫ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
স্মার্টফোন

অনেকে দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে ফোনটি চার্জে লাগিয়েই ঘুমিয়ে পড়েন। দেখতে সাধারণ অভ্যাস মনে হলেও প্রযুক্তিবিদদের মতে এটি মোটেও ভালো নয়। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে ফোন চার্জে লাগানো থাকলে ব্যাটারির ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে ডিভাইসের ক্ষতি করতে পারে। স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো অরিজিনাল চার্জার ব্যবহার না করা। অনেকেই কম দামের বা অন্য ব্র্যান্ডের চার্জার দিয়ে নিয়মিত ফোন চার্জ করেন। এতে চার্জিং ভোল্টেজ ও কারেন্ট সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হলে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। শুরুতে সমস্যা বোঝা না গেলেও সময়ের সঙ্গে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ শেষ হওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

আধুনিক স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, যা উন্নত প্রযুক্তির হলেও এরও নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা আছে। এই ব্যাটারিগুলো বারবার ১০০ শতাংশ চার্জ অবস্থায় দীর্ঘ সময় রাখলে রাসায়নিক চাপ বাড়ে এবং ধীরে ধীরে ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কমতে শুরু করে। অনেকেই চার্জ পূর্ণ হওয়ার পরও ফোন প্লাগ-ইন অবস্থায় রেখে দেন, ফলে ব্যাটারি ক্রমাগত ট্রিকল চার্জ নিতে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

সারারাত চার্জে রাখা হলে আরেকটি ঝুঁকি হলো অতিরিক্ত তাপ। ফোন চার্জ হওয়ার সময় সামান্য গরম হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগে থাকলে তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক উপাদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে ব্যাটারি ফুলে যাওয়া বা বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, চার্জ ১০০ শতাংশ হলে ফোন চার্জার থেকে খুলে রাখা উচিত।

তবে সাম্প্রতিক অনেক স্মার্টফোনে স্মার্ট চার্জিং বা অটো-স্টপ ফিচার থাকে, যা ব্যাটারি পূর্ণ হলে চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। তবুও নিরাপত্তা ও ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় চার্জে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। সঠিক চার্জিং অভ্যাস বজায় রাখলে শুধু ব্যাটারির আয়ুই বাড়ে না, ফোনের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

আরও পড়ুন
সোশ্যাল মিডিয়া নজর রাখছে আপনার ব্যক্তিগত জীবনেও
সত্যিই কি ভবিষ্যতে ফোন-কম্পিউটার থাকবে না?

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।